যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল–সাইদ। সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে দুই লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তাঁর এই জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে যাওয়ার পথ তৈরি হলো।
মিশিগানের ভোটারদের রায়ে আল–সাইদের এই জয়কে দেশটির রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে তাঁর মুসলিম পরিচয়, ইসরায়েল ইস্যুতে অবস্থান এবং প্রগতিশীল নীতিগুলো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন পেয়েছেন তিনি।
পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে বিতর্ক
মিসরীয় বংশোদ্ভূত আবদুল আল–সাইদ গত নভেম্বরে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। এরপর থেকেই তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা বাড়তে থাকে। নির্বাচনী প্রচারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতারা তাঁর পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থানকে সামনে এনে সমালোচনা করেন।
রিপাবলিকান শিবিরের প্রচারে বলা হয়, আল–সাইদের মুসলিম পরিচয়, ইসরায়েল ইস্যুতে তাঁর অবস্থান এবং প্রগতিশীল নীতিগুলো বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি তাঁর নীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে পারে বলেও প্রচার চালানো হয়।
তবে এসব প্রচারণা মিশিগানের ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেনি। দুই লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে আল–সাইদ তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন।
সিনেটে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায়
আবদুল আল–সাইদের বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করছে। দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে মুসলিম ও অভিবাসী বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার মধ্যে তাঁর এই জয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
মিশিগানের নির্বাচনী ফল দেখিয়েছে, পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও ভোটাররা প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানাতে পারেন। আল–সাইদের সিনেটে যাত্রা এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব, বৈচিত্র্য ও প্রগতিশীল নীতির আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
কালের আলো/এএএন/জেএন
