Kaler Alo
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম

ঢাকার রিকশায় আট রং জোন ভিত্তিক চলাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম

ঢাকার রিকশায় আট রং জোন ভিত্তিক চলাচল

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশা বা ই-রিকশা নিবন্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামীকাল সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে সিটি করপোরেশনগুলো নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। ঢাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে আটটি জোন নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রতিটি জোনের জন্য থাকবে আলাদা রং, যাতে এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় চলাচল করতে না পারে।

রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। নতুন বিধিমালা প্রকাশের পর ই-রিকশাচালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন দেওয়া হবে এবং অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে কিছুটা সময় দিতে হবে।

ঢাকায় আট জোনে চলবে ই-রিকশা
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে মোট আটটি জোন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চারটি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চারটি জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। ফলে নির্দিষ্ট জোনের রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। পাশাপাশি কোন জোনে কতসংখ্যক রিকশা চলাচল করবে, তা ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে আলোচনা করে নির্ধারণ করবে। মীর শাহে আলম বলেন, কোনো এলাকায় কতগুলো রিকশা চলাচল করলে যানজট তৈরি হবে না, সেটি বিবেচনায় নিয়েই সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। যেসব সড়কে বাস চলাচল করে, সেসব রাস্তায় ই-রিকশা চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে।

নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এর সঙ্গে নিবন্ধন প্লেটের জন্য দিতে হবে আরও এক হাজার টাকা। প্রতি বছর নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে। তবে নবায়ন ফি কত হবে, তা সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করা হয়নি। নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় প্রতিটি রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত নম্বর থাকবে। এতে রিকশার নিবন্ধন নম্বর, মালিকের তথ্য, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং কোন জোনে চলাচলের অনুমতি রয়েছে, তা সংরক্ষিত থাকবে। চালকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আপাতত পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা রাখা হবে।

আপাতত চালকদের লাগবে না ড্রাইভিং লাইসেন্স
ই-রিকশাচালকদের জন্য আপাতত ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, নিবন্ধন কার্যক্রম কিছুটা এগিয়ে গেলে এ বিষয়ে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। নতুন বিধিমালা প্রকাশের পরপরই চালকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বর্তমানে যেভাবে রিকশা চালাচ্ছেন, তারা নিয়ম মেনে চলবেন। পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন দেওয়া হবে এবং অবৈধ রিকশা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুয়েটের অনুমোদিত নকশায় পরিবর্তন করতে হবে
নিবন্ধন পাওয়ার আগে বর্তমানে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে। এরপরই নিবন্ধন দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে। একইভাবে নতুন ই-রিকশা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও নির্মাতাদের বুয়েটের অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করতে হবে।

চার্জিং স্টেশন স্থাপনেও থাকবে নিয়ম
ই-রিকশার চার্জিং ব্যবস্থাকে নিয়মের আওতায় আনতেও নতুন বিধিমালায় নির্দেশনা রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হবে। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে রিকশা চার্জ করার ব্যবস্থা করতে পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্যদিকে, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব কার্যক্রম নিয়মিত তদারক করবেন।

এক মাস পর নিবন্ধনের অগ্রগতি জানাবে সরকার
ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম কত দিনের মধ্যে শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর এক মাস পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আবার বৈঠক করে অগ্রগতি জানানো হবে। ওই সময় কতগুলো রিকশার নিবন্ধন হয়েছে এবং অবৈধ রিকশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তুলে ধরা হবে। মীর শাহে আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা আইনগত নিবন্ধন ছাড়াই চলাচল করছে। সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে ই-রিকশা নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। ওই আইনের ১২০ ধারার আলোকে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় এই বিধিমালা কার্যকর হবে। পৌরসভা এলাকায় ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করে পরে বিধিমালা জারি করা হবে।

কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নির্ধারণের পরিকল্পনা
ই-রিকশার ভাড়া নির্ধারণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে আলোচনা করে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করবে। ভাড়া যেন সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে থাকে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে। নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচলের এলাকা, যানবাহনের নকশা, চার্জিং ব্যবস্থা ও ভাড়া নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়কে একটি নিয়মের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

Link copied!