রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আয়োজন করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। আলোচনায় যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তিনি জানান, আলোচনায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মার্কিন প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
আলোচনায় থাকবেন উইটকফ ও কুশনার
যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মার্কিন আলোচক দলের নেতৃত্ব দেবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। আলোচনায় যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা চুক্তি, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং চলমান যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হবে।
পুতিনের সম্মতির পর নতুন উদ্যোগ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে বিবেচিত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে ওয়াশিংটন।এরই ধারাবাহিকতায় দুই সপ্তাহ আগে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ওই বৈঠকে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসার বিষয়ে সম্মতি দেন তিনি। এবার আবুধাবিতে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক
আবুধাবির আলোচনার আগে চলতি সপ্তাহে ব্রাসেলসে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ দেশ ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কর্মপর্যায়ের বৈঠক করবেন মার্কিন আলোচকেরা। এতে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। আলোচনায় ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পুনর্গঠনে অর্থনৈতিক সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
শান্তিচুক্তির শর্ত নিয়ে মতবিরোধ
তবে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির শর্ত নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে কী ধরনের সমঝোতা হবে, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কীভাবে কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর শর্ত কী হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্য এখনো তৈরি হয়নি।
এদিকে সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধে কোনো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে আবুধাবির বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা কতটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন, সেদিকে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। সূত্র: রয়টার্স
কালের আলো/এসএ/টিসি
