বর্তমানে অভিনয় ও নির্মাণ—দুই ক্ষেত্রেই পরিচিত মুখ সালাহউদ্দিন লাভলু। অসংখ্য জনপ্রিয় চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাতা হিসেবেও নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। তবে এই পরিচিতি ও সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। ঢাকায় শুরুর দিনগুলোতে মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় পুরো মাস কাটিয়েছেন, থেকেছেন সহকর্মী ও কাছের মানুষদের বাসায়। সম্প্রতি এক আড্ডায় নিজের জীবনের এমনই নানা অজানা অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেছেন এই অভিনেতা ও নির্মাতা।
আগামীর সময় এন্টারটেইনমেন্টের নিয়মিত আয়োজন ‘স্টার স্টোরিজ’-এর নতুন পর্বে অতিথি হয়ে এসেছিলেন সালাহউদ্দিন লাভলু। সাংবাদিক পান্থ আফজালের সঙ্গে আলাপচারিতায় অভিনয়জীবনের শুরু, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, নাট্যাঙ্গনের পরিবর্তনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
২৫০-৩০০ টাকায় চলত পুরো মাস
সংগ্রামী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে সালাহউদ্দিন লাভলু বলেন, একসময় মাসে মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ করেই জীবন চালিয়ে নিতেন তিনি। সে সময় জীবনযাপনের খরচও তুলনামূলক কম ছিল। সারা দিন শিঙাড়া, পুরি আর চা খেতে খরচ হতো মাত্র চার-পাঁচ টাকা।
তিনি বলেন, ‘একসময় মাত্র ২৫০ বা ৩০০ টাকায় পুরো মাস চলতাম। তখন জীবন চালাতে এত টাকা লাগত না। সারা দিন শিঙাড়া, পুরি আর চা খেতে ৪-৫ টাকা খরচ হতো। ব্যাচেলর ছিলাম। ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় থেকেছি। মামুনুর রশীদ, ফজলুর রহমান বাবু, আজিজুল হাকিমসহ অনেক কাছের মানুষের বাসায়ও থেকেছি।’
নিজেকে শান্ত ও লাজুক মানুষ মনে করেন
আড্ডায় নিজের স্বভাব ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়েও কথা বলেন এই অভিনেতা। তাঁর ভাষ্য, তিনি স্বভাবগতভাবে শান্ত ও লাজুক। চুলের প্রতি রয়েছে আলাদা আকর্ষণ। আর গোঁফ নিয়েও মাঝেমধ্যে মজার অনুভূতি হয় তাঁর।
লাভলু বলেন, ‘আমি শান্ত ও লাজুক স্বভাবের মানুষ। চুলের প্রতি আমার আলাদা আকর্ষণ আছে। অনেকে আমার গোঁফ নিয়ে কথা বলেন। মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমি বোধহয় গোঁফ নিয়েই জন্মেছি! এটি আমার কাছে অন্যরকম একটা বিষয়।’
অভিনীত চরিত্রগুলোর প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাঁর অভিনয় করা চরিত্রের বড় একটি অংশই নেতিবাচক। এমন চরিত্রে অভিনয় করতেই বেশি ভালো লাগে তাঁর।
প্রিয় তারকাদের তালিকায় হুমায়ুন ফরীদি
শিল্পীদের মূল্যায়ন করতে গিয়ে নিজের পছন্দের অভিনেতা, নাট্যকার ও মঞ্চব্যক্তিত্বদের কথাও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন লাভলু। অভিনেতা হিসেবে তাঁর চোখে তারকা হলেন প্রয়াত হুমায়ুন ফরীদি। আর নাট্যকার হিসেবে হুমায়ূন আহমেদ ও মামুনুর রশীদকে তিনি মনে করেন তারকাদের তারকা।
মঞ্চের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলী যাকের, আবদুল্লাহ আল মামুন, মুস্তাফিজুর রহমান ও গোলাম মুস্তাফার মতো গুণী ব্যক্তিত্বদের সান্নিধ্যে থাকার সুযোগ হয়েছে তাঁর। তাঁদের নিজের আদর্শ উল্লেখ করে লাভলুর মন্তব্য, ‘তারা আমাদের আইডল, কিন্তু আমরা কারও আইডল হতে পারিনি।’
নাট্যাঙ্গনের নানা প্রসঙ্গেও আড্ডা
‘স্টার স্টোরিজ’-এর এই পর্বে সালাহউদ্দিন লাভলুর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বাঁক, অভিনয় ও পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং নাটক নির্মাণের নেপথ্যের গল্প উঠে এসেছে। পাশাপাশি কথা হয়েছে তাঁর ব্যক্তিজীবন, প্রেম-বিয়ে, নিজের ইউটিউব চ্যানেল এবং সময়ের সঙ্গে নাট্যাঙ্গনে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন নিয়ে।
বর্তমান নাট্যাঙ্গনের সংকট, সিন্ডিকেট ও তারকাদের অবস্থান নিয়েও আলোচনা করেছেন তিনি। অনুষ্ঠানটির নতুন পর্বটি ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় আগামীর সময় এন্টারটেইনমেন্টের ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
সাফল্যের পরিচিত মুখের আড়ালে থাকা সংগ্রামী দিনগুলোর গল্প, সহকর্মীদের সঙ্গে কাটানো সময় এবং শিল্পীজীবনের নানা অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে সালাহউদ্দিন লাভলুর এই আড্ডায় উঠে এসেছে তাঁর জীবনের অনেক অজানা অধ্যায়।
কালের আলো/এসএ/জেএন
