ইরাকের সুলায়মানিয়ায় এশিয়া কাপ আর্চারি প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। তিনটি স্বর্ণ, তিনটি রৌপ্য ও চারটি ব্রোঞ্জসহ মোট ১০টি পদক জিতে দেশে ফিরেছে জাতীয় আর্চারি দল। রোববার (১ নভেম্বর) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান পদকজয়ী আর্চাররা। এশিয়া কাপ আর্চারি (ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং টুর্নামেন্ট, স্টেজ-২) প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের এই সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে রিকার্ভ পুরুষ দলের প্রথমবারের মতো স্বর্ণজয়। পাশাপাশি কম্পাউন্ড নারী দল ও ব্যক্তিগত ইভেন্টেও স্বর্ণপদক জিতেছেন বাংলাদেশের আর্চাররা।
বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ
রোববার ভোর পৌনে ৫টার দিকে দেশে পৌঁছান আর্চাররা। বিমানবন্দরে তাঁদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি ও ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান। সুলায়মানিয়ায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আর্চারদের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দলীয় ইভেন্টে কাজাখস্তানের বিপক্ষে জয় দেশের আর্চারির জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিকার্ভ পুরুষ দলে প্রথমবার এশিয়া কাপের স্বর্ণ
এবারের আসরে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশের রিকার্ভ পুরুষ দল। আব্দুর রহমান আলিফ, মো. সাগর ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল মোহাম্মদ রাফিকে নিয়ে গড়া দলটি ফাইনালে কাজাখস্তানকে ৬-২ সেট পয়েন্টে হারিয়ে স্বর্ণপদক জেতে। এশিয়া কাপের এই ইভেন্টে বাংলাদেশের এটি প্রথম স্বর্ণপদক। গুরুত্বপূর্ণ এই জয় দেশের রিকার্ভ আর্চারদের সামর্থ্যের নতুন প্রমাণ দিয়েছে।
কম্পাউন্ড নারী দল ও ব্যক্তিগত ইভেন্টেও স্বর্ণ
কম্পাউন্ড নারী দলীয় ইভেন্টেও বাংলাদেশের আর্চাররা দাপট দেখিয়েছেন। বন্যা আক্তার, শ্রীপর্ণা বিশ্বাস ও কুলসুম আক্তার মনির সমন্বয়ে গঠিত দলটি ফাইনালে কাজাখস্তানকে ২৩০-২২০ স্কোরে হারিয়ে স্বর্ণপদক নিশ্চিত করে। এ ছাড়া কম্পাউন্ড ব্যক্তিগত ইভেন্টে কাজাখস্তানের মিলানা বুরলেভাকে ১৪৫-১৪৩ স্কোরে পরাজিত করেন বন্যা আক্তার। এর মধ্য দিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক জেতেন তিনি। দলীয় ও ব্যক্তিগত—দুই ইভেন্টে স্বর্ণ জিতে আসরে বাংলাদেশের অন্যতম সফল আর্চার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন বন্যা।
বড় আসরে ভালো করার অনুপ্রেরণা বন্যার
দুটি স্বর্ণজয়ের পর বন্যা আক্তার এই সাফল্যকে ভবিষ্যতের বড় অর্জনের ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এশিয়া কাপে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও সাফল্য আগামী দিনে আরও বড় প্রতিযোগিতায় ভালো করার আত্মবিশ্বাস জোগাবে। বন্যা বলেন, ‘এই সাফল্য আগামীতে বিশ্বকাপ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিকের মতো বড় আসরে ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
তরুণদের অভিজ্ঞতায় সন্তুষ্ট প্রধান কোচ
বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিকও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এবারের দলে অনূর্ধ্ব-২১ ও অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। বড় দর্শকের সামনে ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিজ্ঞতা তরুণ আর্চারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলেও আশা তাঁর।
ক্রীড়াবিদদের জন্য সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরলেন সচিব
বিমানবন্দরে আর্চারদের অভ্যর্থনা জানাতে এসে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান খেলোয়াড়দের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ক্রীড়াবিদদের আর্থিক দুশ্চিন্তা কমাতে সরকার বিশেষ ক্রীড়া ভাতা চালু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রায় ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে মাসে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং সারা বছর ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এশিয়া কাপ থেকে ১০টি পদক নিয়ে ফেরা বাংলাদেশের আর্চারদের সামনে এখন আরও বড় লক্ষ্য। বিশ্বকাপ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক আসরে ভালো ফল করার প্রত্যাশা নিয়ে এগোতে চান তাঁরা।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি
