লিওনেল মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার পর নতুন এক অধ্যায়ের পথে হাঁটছে আর্জেন্টিনা। সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতির জন্য ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন বেশ কয়েকজন তরুণ ফুটবলার। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তরুণ সেন্টার-ব্যাক অ্যারন আনসেলমিনো।
তবে নতুন দল থেকে বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ কয়েকজন ফুটবলারও। চোট, নিষেধাজ্ঞা ও দল পুনর্গঠনের পরিকল্পনায় রদ্রিগো দি পল, জিওভান্নি লো সেলসো, নিকো গনজালেসসহ একাধিক পরিচিত মুখকে এবার দলে রাখেননি স্কালোনি।
প্রথমবার ডাক পেলেন আনসেলমিনো
আর্জেন্টিনার নতুন দলে সবচেয়ে আলোচিত নাম অ্যারন আনসেলমিনো। বোকা জুনিয়র্সের যুব পর্যায় থেকে উঠে আসা এই সেন্টার-ব্যাককে ভবিষ্যতের রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ২০টিরও কম ম্যাচ খেলার পর ২০২৪ সালে চেলসিতে যোগ দেন তিনি।
এদিকে ২৩ বছর বয়সী আরেক সেন্টার-ব্যাক মারিয়ানো ত্রোইলো দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। ২০২৫ সালে চিলি ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের দলে থাকলেও তখন মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তাঁর।
তরুণদের মধ্যে নিকো পাস ও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানোও রয়েছেন স্কালোনির ঘোষিত দলে। তাঁদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে দল সাজিয়েছেন আর্জেন্টাইন কোচ।
দলে নেই একাধিক পরিচিত মুখ
দল পুনর্গঠনের পরিকল্পনায় রদ্রিগো দি পল, জিওভান্নি লো সেলসো ও নিকো গনজালেসকে এবার রাখা হয়নি। চোটের কারণে দলে নেই লাউতারো মার্তিনেস ও অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। নিষেধাজ্ঞার কারণে জায়গা হয়নি লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নাহুয়েল মোলিনার।
মেসির জাতীয় দল ছাড়ার পর এই দল ঘোষণা আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তরুণদের সুযোগ দিয়ে দলকে কীভাবে এগিয়ে নিতে চান, এই দুই প্রীতি ম্যাচে স্কালোনির পরিকল্পনার কিছুটা আভাস মিলতে পারে।
নভেম্বরে দুই প্রীতি ম্যাচ
নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। আগামী ১৩ নভেম্বর উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর ১৭ নভেম্বর তাদের প্রতিপক্ষ কোস্টারিকা।
আর্জেন্টিনার ২৮ সদস্যের দল
গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেস (চেলসি), হেরোনিমো রুলি (ম্যানচেস্টার সিটি), হুয়ান মুসো (আতলেতিকো মাদ্রিদ), সান্তিয়াগো বেলত্রান (রিভার প্লেট)।
ডিফেন্ডার: গনসালো মন্তিয়েল (রিভার প্লেট), অগাস্টিন জিয়াই (পালমেইরাস), অ্যারন আনসেলমিনো (চেলসি), মারিয়ানো ত্রোইলো (পার্মা), লিওনার্দো বালের্দি (রোমা), লিসান্দ্রো মার্তিনেস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ফাকুন্দো মেদিনা (বায়ার লেভারকুসেন), নিকোলাস তালিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ), রোমান ভেগা (জেনিত)।
মিডফিল্ডার: এসেকিয়েল ফার্নান্দেস (বায়ার লেভারকুসেন), মাক্সিমো পেরোনে (কোমো), এসেকিয়েল পালাসিওস (ইপসউইচ টাউন), ভালেন্তিন বার্কো (চেলসি), অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), এনসো ফার্নান্দেস (ম্যানচেস্টার সিটি), নিকোলাস পাস (কোমো)।
ফরোয়ার্ড: মাতিয়াস সুলে (রোমা), ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো (ফিওরেন্টিনা), জুলিয়ানো সিমিওনে (আতলেতিকো মাদ্রিদ), জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি (বেনফিকা), থিয়াগো আলমাদা (রিভার প্লেট), হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস), সান্তিয়াগো কাস্ত্রো (রোমা), হুলিয়ান আলভারেস (আতলেতিকো মাদ্রিদ)।
মেসিবিহীন আর্জেন্টিনার নতুন যাত্রায় তরুণদের পারফরম্যান্স এখন বাড়তি নজরে থাকবে। বিশেষ করে প্রথমবার দলে সুযোগ পাওয়া আনসেলমিনো কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটিও দেখার অপেক্ষায় সমর্থকেরা।
কালের আলো/এএএন/জেএন
