যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে পাঠানো প্রায় ২০ হাজার ব্যালট আলাদা করে রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এতে নির্বাচনের ঠিক আগে বড় ধরনের ধাক্কা খেল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এর আগেই ক্যালিফোর্নিয়ার এসব ব্যালট নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, ডাকযোগে পাঠানো এসব ব্যালটের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের ভোট রয়েছে, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। তাঁদের কেউ কেউ অবৈধভাবে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রশাসন।
২০ হাজার ব্যালট আলাদা রাখার আবেদন
এ অভিযোগের ভিত্তিতে মার্কিন বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করে। এতে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তাদের ডাকযোগে পাঠানো প্রায় ২০ হাজার ব্যালট আলাদা করে রাখার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।
এর আগে কয়েকটি নিম্ন আদালতও ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।
ভোট জালিয়াতি নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছেন। তাঁর দাবি, অভিবাসীদের অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে কারচুপি করতে পারেন।
বিশেষ করে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিকে এ ধরনের জালিয়াতির সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন তিনি। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে বিভিন্ন গবেষণা ও অঙ্গরাজ্য সরকারের নিরীক্ষায় দেখা গেছে, অমার্কিন নাগরিকসহ ভোটার নন—এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতার লড়াই
যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। রিপাবলিকান পার্টির হাতেই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা তা নিজেদের দখলে নেবে, সেটিই নির্ধারিত হবে এই নির্বাচনে।
এবার প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি।
অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি। দুজন স্বতন্ত্র সিনেটরের সমর্থনসহ ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ৪৫। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ২১৮টি এবং সিনেটে ৫১টি আসন প্রয়োজন।
কোন আসনগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় ৪০টি আসন এবং সিনেটের ১০ থেকে ১২টি আসনে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে সবচেয়ে বেশি ৫২টি আসন ক্যালিফোর্নিয়ায়। অঙ্গরাজ্যটিতে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ভোটের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তাঁর প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। সূত্র: বিবিসি
কালের আলো/এসএ/টিসি
