স্পেনে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৬৯ জন নিহত হওয়ার ছয় দিন পর পদত্যাগ করেছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে। এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে দুটি বড় রেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন এই মন্ত্রী।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার স্পেনের কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে পদত্যাগের কথা জানান অস্কার পুয়েন্তে। তিনি বলেন, ‘স্পেনের মতো একটি দেশে, এক বছরের কম সময়ের মধ্যে ভয়াবহ দুটি দুর্ঘটনার পরও একজন পরিবহনমন্ত্রী তাঁর পদে বহাল থাকতে পারেন না।’
দুই দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ
গত বুধবার স্পেনের তোলেদো প্রদেশের উরদার কাছে মাদ্রিদ থেকে সেভিলেগামী রেলপথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের একটি দ্রুতগতির এভিই ট্রেনের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা ইরিওর দাঁড়িয়ে থাকা একটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের পর কয়েকটি বগি ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়। দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। দাঁড়িয়ে থাকা ইরিওর ট্রেনটিতে একটি শিশুসহ ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে রেনফের ট্রেনটিতে যাত্রী ছিলেন ৩৯৭ জন। দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৯ জন নিহত হন, আহত হন আরও অনেকে।
উরদা শহরটি স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে অবস্থিত। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ ও তদন্ত শুরু হয়। তবে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এক বছরের কম সময়ে দ্বিতীয় বড় বিপর্যয়
পদত্যাগের ঘোষণা দিতে গিয়ে অস্কার পুয়েন্তে গত জানুয়ারির আরেকটি রেল দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। ওই দুর্ঘটনায় স্পেনে ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। পরপর দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্বে থাকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
গত সপ্তাহের দুর্ঘটনাটিকে আধুনিক ইউরোপের অন্যতম ভয়াবহ রেল বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০১৩ সালের পর স্পেনে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা। ওই বছর সান্তিয়াগো দে কম্পোসতেলা শহরের কাছে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত ও ১৪৫ জন আহত হয়েছিলেন।
নির্বাচনের আগে পদত্যাগ
রেল দুর্ঘটনা ও পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন স্পেনে আগামী ২৯ নভেম্বর আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দুর্ঘটনার পর সরকারের ওপর চাপ বাড়ছিল। এর মধ্যেই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন অস্কার পুয়েন্তে।
দুর্ঘটনার কারণ, রেল নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়ে তদন্তের ফল এখন স্পেনের জনমনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কালের আলো/এএএন/জেএন
