Kaler Alo
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬
২১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

২০২৮ সালের নির্বাচনের হিসাব, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন ভ্যান্স?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

২০২৮ সালের নির্বাচনের হিসাব, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন ভ্যান্স?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য মতপার্থক্য তুলে ধরেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইরান যুদ্ধকে নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁর দেওয়া বক্তব্য ঘিরে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতার কথা মাথায় রেখেই ট্রাম্পের কাছ থেকে নিজের অবস্থান কিছুটা আলাদা করে তুলে ধরছেন ভ্যান্স।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রায় ৬০০ শব্দের এক বিবৃতি প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে ভ্যান্স স্বীকার করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁকে ভোট দেওয়া অনেক সমর্থক এবার রিপাবলিকানদের ছেড়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভ্যান্স লেখেন, ‘আমাদের হারের কারণ যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেই গত রাতে তা বলেছেন।’

তাঁর এই বক্তব্যকে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, যুদ্ধ নিয়ে এত দিন প্রশাসনের ভেতরে ভিন্নমতের কথা শোনা গেলেও তা প্রকাশ্যে আনেননি ভ্যান্স। নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর তাঁর অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় সম্ভাব্য ২০২৮ সালের নির্বাচনী সমীকরণ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রকাশ্য মতভেদ
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে যুদ্ধ নিয়ে ভ্যান্সের অবস্থান নিয়ে আলোচনা ছিল। প্রশাসনের ভেতরে তিনি এ অভিযান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেননি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর সেই অবস্থানে পরিবর্তন দেখা গেল। ভ্যান্স তাঁর বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে আগামী ছয় বছর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মূল্য দেওয়া কতটা যৌক্তিক। তাঁর বক্তব্য, কেউ যদি মনে করেন এই রাজনৈতিক মূল্য দেওয়া সার্থক হয়েছে, তাহলে সেই যুক্তি তুলে ধরতে পারেন। তবে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ নিয়ে সৎ আলোচনা শুরু করতে হলে যুদ্ধের বিষয়টি সামনে আনতেই হবে।

ভ্যান্সের এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ তিনি শুধু ভাইস প্রেসিডেন্ট নন, রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের অন্যতম আলোচিত মুখও।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ায় নতুন ইঙ্গিত
ভ্যান্সের বক্তব্যের পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছ থেকে প্রকাশ্য সমর্থন প্রত্যাশা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এবার ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেননি তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ নিয়ে ভ্যান্সের মনোভাব তিনি জানেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ইরান যুদ্ধের ভূমিকা ছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে একই পরিস্থিতিতে পড়লে আবারও একই সিদ্ধান্ত নিতেন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এতে ট্রাম্প ও ভ্যান্সের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নেয়নি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বরং ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ায় ভ্যান্সকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার কিছুটা সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিতও দেখছেন কেউ কেউ।

ভোটারদের কাছে ফিরতে ভ্যান্সের চার বার্তা
নিজের বিবৃতিতে শুধু যুদ্ধের সমালোচনা করেই থামেননি ভ্যান্স। রিপাবলিকানদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও কয়েকটি বিষয় সামনে এনেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে চারটি অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়েছে—ইরান যুদ্ধের অবসান, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ধরনে পরিবর্তন।

ভ্যান্সের দাবি, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া অনেক সমর্থক এবার দলটির ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন। তাঁদের অসন্তোষের পেছনে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ভূমিকা রয়েছে।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ অ্যাশলি ডেভিসের মতে, ভ্যান্সের বক্তব্য অনেকটা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া যাচাইয়ের চেষ্টা। অর্থাৎ, ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে কোথায় কতটা দূরত্ব তৈরি করলে দলের ভোটারদের সমর্থন পাওয়া সম্ভব, তা বোঝার চেষ্টা করছেন তিনি।

ট্রাম্প থেকে দূরত্ব তৈরির কৌশল?
পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল বাইম্যানের মতে, ভ্যান্সের বিবৃতিকে ট্রাম্পের কাছ থেকে নিজেকে আলাদা করার একটি উপায় হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে ট্রাম্পের সঙ্গে পার্থক্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁকে সতর্ক থাকতে হবে।

কারণ, রিপাবলিকান রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব এখনো গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সমর্থন ছাড়া দলের মনোনয়ন পাওয়ার পথ ভ্যান্সের জন্য কতটা সহজ হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এ কারণে ভ্যান্সের বিবৃতিতে ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করা এবং নির্বাচনী ফলের ব্যাখ্যায় জরিপের তথ্য তুলে ধরার বিষয়টিকে কৌশলগত সতর্কতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

২০২৮ সালের দৌড়ে কারা?
যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৮ সালে। ভ্যান্সকে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেননি তিনি। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ভ্যান্স ও রুবিও—দুজনেরই প্রশংসা করেছেন। তবে পরবর্তী নির্বাচনে কাকে সমর্থন দেবেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানাননি তিনি।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে আলোচনা চললেও দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্ন এখনো খোলা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলের ভেতরে নীতিগত পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্য শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বড় কোনো পরিবর্তন আনে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রকাশ্য মতপার্থক্য এবং ২০২৮ সালের সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রেক্ষাপট—দুটি বিষয়ই তাঁকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কালের আলো/এসএ/জেএন

Link copied!