Kaler Alo
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
২০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

হরমুজ প্রণালীর কাছে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

হরমুজ প্রণালীর কাছে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে ওই অঞ্চলে নিজেদের নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ লক্ষ্যে জলদস্যুবিরোধী নৌ ইউনিটে নতুন সদস্য যুক্ত করার পাশাপাশি সামরিক বিমান, মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার সরঞ্জাম এবং বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস। ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেওংহে নামের জলদস্যুবিরোধী নৌ ইউনিটে নতুন করে ৭৫ জন সদস্য যুক্ত করা হবে। এতে ইউনিটটির মোট সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৯৫ জনে।

চেওংহে ইউনিটে বাড়ছে সদস্যসংখ্যা
দক্ষিণ কোরিয়া গত কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালী এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিভিন্ন সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে আসছিল। এর অংশ হিসেবে চেওংহে ইউনিটের জনবল ও কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তবে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নেই বলে আগেই স্পষ্ট করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। তিনি জানিয়েছেন, এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যাতে দক্ষিণ কোরিয়া অন্য কোনো দেশের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগে মন্ত্রিসভার পর্যালোচনা এবং প্রেসিডেন্টের অনুমোদন নেওয়া হবে। এরপর এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব জাতীয় পরিষদে পাঠানো হবে।

ওমানের দুকম বন্দর পর্যন্ত বাড়বে কার্যক্রম
কেবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে চেওংহে ইউনিটের কার্যক্রমের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ইউনিটটি মূলত সোমালিয়ার উপকূলবর্তী এডেন উপসাগরে জলদস্যু দমনের দায়িত্ব পালন করে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাদের কার্যক্রম ওমানের দুকম বন্দরের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

হরমুজ প্রণালী থেকে দুকম বন্দরের দূরত্ব প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার বা ৪০৩ দশমিক ৮ মাইল। এই এলাকাকে কার্যক্রমের আওতায় আনার মাধ্যমে হরমুজের কাছাকাছি সামুদ্রিক অঞ্চলে নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম বাড়াতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া।

পাঠানো হবে সামরিক বিমান ও বিশেষজ্ঞ দল
চেওংহে ইউনিটের সক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার। প্রস্তাবিত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে পি-৮এ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান। সমুদ্রপথে নজরদারি ও জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এ ধরনের বিমান ব্যবহার করা হয়।

এ ছাড়া সমুদ্রে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার জন্য বিভিন্ন ধরনের চালকবিহীন সরঞ্জাম পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণে দক্ষ একটি বিশেষজ্ঞ দলও মোতায়েন করা হতে পারে। এসব সরঞ্জাম ও জনবল যুক্ত হলে সমুদ্রপথে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা এবং বিপজ্জনক বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে দেশটি।

২০০৯ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছে চেওংহে ইউনিট
দক্ষিণ কোরিয়ার চেওংহে ইউনিট ২০০৯ সাল থেকে মোতায়েন রয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রতিবছর ইউনিটটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর প্রধান দায়িত্ব সোমালিয়ার উপকূলবর্তী এডেন উপসাগরে জলদস্যু দমন এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ইউনিটটিকে বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়।

ইরান যুদ্ধের পর হরমুজে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালী ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগও বেড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে হরমুজের কাছাকাছি এলাকায় নৌবাহিনীর কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে দেশটির প্রেসিডেন্টের ঘোষিত অবস্থান অনুযায়ী, এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া নয়; বরং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জলদস্যুবিরোধী কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানো। সূত্র: কেবিএস, ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি

কালের আলো/এসএ/এমএএইচ

Link copied!