Kaler Alo
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

যৌন হয়রানি ঠেকাতে নারী ক্রিকেটে নতুন উদ্যোগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

যৌন হয়রানি ঠেকাতে নারী ক্রিকেটে নতুন উদ্যোগ

দেশের নারী ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্বতন্ত্র অভিযোগ কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যৌন হয়রানির অভিযোগ গ্রহণ ও তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ক্রিকেটারদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করেছে বোর্ড।

হাইকোর্টের ২০০৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে বিসিবির কোনো কর্মকর্তা বা কর্মীকে রাখা হয়নি। তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই বোর্ডের বাইরে থেকে সদস্য নেওয়া হয়েছে। আপাতত চারজন সদস্য নিয়ে কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পঞ্চম সদস্য হিসেবে শিগগিরই একজন সাবেক ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

কমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম
পাঁচ সদস্যের এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির, ব্যারিস্টার অনিতা গাজী রহমান ও জেরিন মাহমুদ হোসেন। কমিটির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন চন্দ্রা ব্যানার্জি।

বিসিবির পরিচালক ও নারী ক্রিকেট বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু  বলেন, কমিটিটি সম্পূর্ণ নারীদের নিয়ে গঠিত এবং বিশেষভাবে নারী ক্রিকেটারদের সমস্যা ও অভিযোগ শোনার জন্য কাজ করবে। ক্রিকেটাররা যেন নির্ভয়ে ও দ্বিধাহীনভাবে নিজেদের সমস্যা জানাতে পারেন, সেটিই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তিনি জানান, যেকোনো অভিযোগ বা সমস্যার বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর স্বতন্ত্র কমিটি বোর্ডকে মৌখিক বা লিখিতভাবে বিস্তারিত জানাবে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ করা হবে না বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজারে শতাধিক ক্রিকেটারকে নিয়ে কর্মশালা
জাতীয় ক্রিকেট লিগে অংশ নিতে বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন শতাধিক ক্রিকেটার। তাঁদের নিয়ে বুধবার ‘ক্রীড়াঙ্গনে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ: নীতিমালা সচেতনতা ও সংবেদনশীলতা’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে বিসিবির নারী বিভাগ।

কর্মশালায় খেলাধুলায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, সংশ্লিষ্ট নীতিমালা এবং নিরাপদ ও সম্মানজনক ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে ক্রিকেটারদের প্রয়োজনীয় ধারণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া নতুন কমিটির সঙ্গে ক্রিকেটারদের সরাসরি যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বোর্ড। শিগগিরই আরও সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে ক্রিকেটাররা কোনো ধরনের দ্বিধা ছাড়াই কমিটির কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

জাহানারা আলমের অভিযোগের পর আলোচনায় আসে বিষয়টি
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির বিষয়টি গত বছরের নভেম্বরে নতুন করে আলোচনায় আসে সাবেক জাতীয় অধিনায়ক ও পেসার জাহানারা আলমের অভিযোগের পর। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে নিউ জিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ চলাকালে তৎকালীন নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ ছাড়া মানসিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি এবং প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি।

নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ করেন জাহানারা। পাশাপাশি টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ডের আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তিনি। জাহানারার অভিযোগের পর আরও কয়েকজন ক্রিকেটার মুখ খুলতে শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। পরে কমিটি নিয়ে সমালোচনার পর সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে পাঁচ করা হয়। প্রথমে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানানো হলেও কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে তৎকালীন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি।

জাহানারার করা চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় তদন্ত কমিটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিসিবির আওতাধীন সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে মঞ্জুরুলকে নিষিদ্ধ করা হয়। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে দুটি রিট আবেদন করেছিলেন। বুধবার সেগুলো খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে জাহানারার অভিযোগে নাম আসা অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে সে সময় বিসিবি বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনটিও প্রকাশ করা হয়নি। পরে তামিম ইকবাল বিসিবি সভাপতি হওয়ার পরও প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসেনি।

নারী ক্রিকেটে হয়রানি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
সম্প্রতি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য হুইসেল’ একটি দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে নারী ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিসিবির নতুন স্বতন্ত্র কমিটি গঠন এবং সচেতনতামূলক কর্মশালাকে নারী ক্রিকেটারদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ ও নিরাপদ ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

Link copied!