যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নীতি ও প্রশাসনিক কর্মকৌশল পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন রিপাবলিকান নেতারা। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আসন হারানোর পাশাপাশি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণও হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
রিপাবলিকান নেতা ও রাজনৈতিক কৌশলবিদদের মতে, নির্বাচনের ফল থেকে শিক্ষা নিয়ে হোয়াইট হাউসে রদবদল, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিতর্কিত নীতিগুলো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ও শুল্কনীতির মতো সিদ্ধান্ত দলটির জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
তবে নির্বাচনের ফলকে নিজের জন্য বড় কোনো ধাক্কা হিসেবে দেখছেন না ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলকে নিজের ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছেন না।
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ, চাপে ট্রাম্প
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের হাতে এখন ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও তদন্ত চালানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও তারা বাধা সৃষ্টি করতে পারবে। ফলে আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের সঙ্গে আরও কঠিন রাজনৈতিক সমঝোতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর ট্রাম্পের নির্ভরতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কংগ্রেসের তদন্ত ও জবাবদিহির চাপ সামাল দেওয়া তাঁর জন্য সহজ হবে না।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকানদের প্রশ্ন
নির্বাচনে পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধকে চিহ্নিত করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এ ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত ভ্যান্সের এমন অবস্থান দলটির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে সামনে এনেছে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও নির্বাচনের ফল নিয়ে উদ্বিগ্ন। সম্ভাব্য কর্মী ছাঁটাই, মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন এবং ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা চলছে।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগেই অভ্যন্তরীণ জরিপে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধ নিয়ে সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও ট্রাম্প নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেননি।
বলরুম নির্মাণ ও সংস্কারকাজ নিয়েও অসন্তোষ
ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসে বলরুম নির্মাণ এবং ওয়াশিংটনের বিভিন্ন সংস্কারকাজে ট্রাম্পের অতিরিক্ত মনোযোগ নিয়েও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে মনে করছেন রিপাবলিকান নেতাদের একাংশ।
তবে নির্বাচনের পরও এসব প্রকল্পের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। বলরুম নির্মাণের কাজকে নিজের জন্য স্বস্তিদায়ক বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
নির্বাহী ক্ষমতা থাকলেও বাড়বে জবাবদিহির চাপ
নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরও ট্রাম্পের হাতে উল্লেখযোগ্য নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে। অভিবাসন, শুল্ক, আবাসন ও সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি নিজের নীতির কিছু অংশ বাস্তবায়ন করতে পারবেন।
তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে তাঁর প্রশাসনের ওপর নজরদারি ও তদন্তের পরিধি বাড়বে। ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা মোকাবিলা করে নীতি বাস্তবায়ন করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন রিপাবলিকানদের সামনে প্রধান প্রশ্ন—দলীয় ঐক্য ধরে রেখে এবং ভোটারদের অসন্তোষের কারণগুলো বিবেচনায় নিয়ে ট্রাম্প তাঁর কর্মকৌশলে পরিবর্তন আনবেন কি না।
কালের আলো/এসএ/জেএন
