Kaler Alo
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি শিক্ষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি শিক্ষকদের

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আদেশ জারি, নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান এবং আগামী ঈদুল ফিতর থেকে শতভাগ উৎসব ভাতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জোটের নেতারা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আলটিমেটাম দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোটের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের ছয় লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে তিনটি ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছেন। এসব দাবি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক ও পারিবারিক সংকট কিছুটা হলেও কমবে।

 শিক্ষকদের বদলির আদেশ জারি
জোটের প্রথম দাবি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আদেশ অবিলম্বে জারি করতে হবে। নিজ জেলা বা এলাকার বাইরে চাকরি করার কারণে অনেক শিক্ষক পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছেন। স্ত্রী-সন্তান ও অসুস্থ মা-বাবাকে রেখে দূরবর্তী এলাকায় চাকরি করতে হচ্ছে তাঁদের।

অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, বদলি কোনো বিলাসিতা নয়; এটি শিক্ষকদের মানবিক ও পারিবারিক প্রয়োজন। তাই দীর্ঘদিনের এ দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

 নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা
দ্বিতীয় দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালন করেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন জোটের নেতারা।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এ দাবি বাস্তবায়ন জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তাঁরা। লিখিত বক্তব্যে দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, গত ৩১ অক্টোবর দেশের শতাধিক জেলা ও উপজেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতার জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এখনো অর্থ বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়নি বলে জানান। দ্রুত এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

শতভাগ উৎসব ভাতা
জোটের তৃতীয় দাবি, আগামী ঈদুল ফিতর থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থাৎ শতভাগ উৎসব ভাতা দিতে হবে। বর্তমানে তাঁরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। একে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে আগামী ঈদ থেকেই পূর্ণ উৎসব ভাতা প্রদানের সুস্পষ্ট ঘোষণা ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান নেতারা।

অবস্থান কর্মসূচির পরিবর্তে সংবাদ সম্মেলন
সংবাদ সম্মেলনে পূর্বঘোষিত ৪ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পরিবর্তনের কারণও তুলে ধরা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ এবং রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলমান শ্রমিক আন্দোলনসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবস্থান কর্মসূচির পরিবর্তে সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়নি বলে জানায় জোট। তাদের দাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান শিক্ষক নেতারা
দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, তাঁরা সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলন করছেন না। শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা এবং ছয় লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাই তাঁদের লক্ষ্য। তাঁরা সংঘাত চান না; আলোচনার মাধ্যমে সম্মানজনক সমাধান চান। তবে শুধু আশ্বাস নয়, তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে হবে। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মাধ্যমিক কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী মতিউর রহমান, বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. আবু তালেব সোহাগ, বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ শিক্ষক ফোরামের সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহ রাজুসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন, প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার, মো. শান্ত ইসলাম, আশরাফুজ্জামান হানিফ, মো. ইমরান খান, অধ্যক্ষ মো. লোকমান হোসেন, মো. মিজানুর রহমান মাহিন, এসএম কামরুজ্জামান ও মো. সুজন আহমেদ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

Link copied!