পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ এবার মঞ্চনাটক হিসেবে দর্শকদের সামনে আনছে নৃত্য ও নাট্যদল নবরস। দলটির পঞ্চম প্রযোজনা হিসেবে নির্মিত এই নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনী হবে আগামী ৬ নভেম্বর। নাটকটির বিশেষ আকর্ষণ, দীর্ঘ ৩০ বছর পর আবারও দুলী চরিত্রে মঞ্চে ফিরছেন অভিনেত্রী ও নির্দেশক সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার বেইলি রোডে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
প্রেম, বিরহ ও সামাজিক দ্বন্দ্বের গল্প
‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ মূলত একটি গ্রামের ভিন্ন ধর্মাবলম্বী দুই কিশোর-কিশোরী সোজন ও দুলীর প্রেমের গল্প। তাদের ভালোবাসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সামাজিক বিভাজন, ধর্মীয় জটিলতা ও কুসংস্কার। প্রেম, বিরহ ও মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় কাহিনি।
১৯৩৩ সালে প্রকাশিত জসীমউদ্দীনের এই কাব্যগ্রন্থ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম আলোচিত সৃষ্টি। এবার মূল গল্পের আবেদন অক্ষুণ্ন রেখে সমসাময়িক সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে নাট্যরূপ দেওয়া হয়েছে।
৩০ বছর পর একই চরিত্রে সায়েকা
নবরসের এই প্রযোজনার নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা। নাটকে দুলী চরিত্রেও অভিনয় করবেন তিনি। ১৯৯৬ সালে পদাতিক নাট্য সংসদের প্রযোজনায় ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ নাটকে প্রথম দুলী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সায়েকা। দীর্ঘ তিন দশক পর আবারও একই চরিত্রে মঞ্চে হাজির হচ্ছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সায়েকা বলেন, ‘আমার খুবই পছন্দের একটি নাটক সোজন বাদিয়ার ঘাট। পদাতিক নাট্য সংসদের হয়ে এ নাটকের দুলী চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে নাটকটির পুনর্নির্দেশনা দিয়েছি।’
তিনি আরও জানান, সমসাময়িক সামাজিক প্রেক্ষাপট, ধর্মীয় জটিলতা ও কুসংস্কারের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে নতুন আঙ্গিকে নাটকটি মঞ্চে আনা হচ্ছে। মূল গল্প ঠিক রেখেই এতে যুক্ত করা হয়েছে তিনটি নতুন গান।
যাঁরা অভিনয় করছেন
নাটকটিতে সোজন চরিত্রে অভিনয় করবেন ইউসুফ রাসেল। সোজনের শৈশবের চরিত্রে দেখা যাবে কাশফি আলফি আহমেদকে। অন্যদিকে দুলীর ছোটবেলার ভূমিকায় অভিনয় করবেন আফিয়া জামান সৃজা।
নবরসের পঞ্চম এই প্রযোজনার মধ্য দিয়ে নতুন করে মঞ্চে উঠে আসছে বাংলা সাহিত্যের পরিচিত এক প্রেমগাথা। পুরোনো গল্পের আবেদন ও সমসাময়িক বাস্তবতার মেলবন্ধনে নাটকটি দর্শকদের কাছে কতটা সাড়া ফেলে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
কালের আলো/এসএ/এমএস
