Kaler Alo
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬
২১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

৭ নভেম্বরের বিপ্লবী চেতনা হোক আগামীর প্রেরণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

৭ নভেম্বরের বিপ্লবী চেতনা হোক আগামীর প্রেরণা

১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক বাংলাদেশের আগামী নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কেউ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে, সে জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দিবসটি উদযাপনে সরকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশের সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।

ইতিহাস চর্চার পাশাপাশি ভবিষ্যতের পথ নির্মাণে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, সব সময় অতীতের ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিয়ে ভবিষ্যতের পথ রচনা করাও ঐতিহাসিক ভুল।

৭ নভেম্বরকে পথ নির্ণয়ের দিন বললেন প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের দিন। তাঁর দাবি, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে সেদিন তাদের পরাজয় ঘটেছিল।

বাণীতে তিনি আরও দাবি করেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পরাজিত শক্তি দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। তাঁর অভিযোগ, বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। পাশাপাশি জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০ ও ২০২৪-এর আন্দোলনের প্রসঙ্গ
বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য। তাঁর মতে, ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে এবং বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হওয়া উচিত এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের মতো সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনেপ্রাণে ধারণ করতে হবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এসব বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক এই দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ জাতীয়ভাবে ৭ নভেম্বর উদযাপনের সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে তিনি আবারও বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক বাংলাদেশের আগামী নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

Link copied!