Kaler Alo
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
২০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

রাজনৈতিক পরিচয় নয়, শিল্পের যোগ্যতায় মূল্যায়ন চান ন্যানসি

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

রাজনৈতিক পরিচয় নয়, শিল্পের যোগ্যতায় মূল্যায়ন চান ন্যানসি

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি বিএনপির একনিষ্ঠ সমর্থক। পারিবারিকভাবেই দলটির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা। তবে রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন থাকলেই রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া কিংবা সংসদ সদস্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে—এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন তিনি। সংরক্ষিত নারী আসনেও তাঁর কোনো আগ্রহ ছিল না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। তাঁর প্রত্যাশা, শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, বরং শিল্প ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।

সম্প্রতি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান, বিএনপির কাছে প্রত্যাশা, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনা এবং শিল্পীদের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন ন্যানসি। তাঁর ভাষ্য, কখনো সংসদ সদস্য হতে চাননি। এমনকি সংরক্ষিত নারী আসনে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও কাউকে জানাননি।

সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আগ্রহ নেই
ন্যানসি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কেউ কেউ বলতে শুরু করেছেন, দল তাঁকে মূল্যায়ন করেনি কিংবা সংরক্ষিত নারী আসনে ডাকেনি। তাঁকে ভালোবেসে অনেকে এমন কথা বলছেন, সেটি তিনি বোঝেন। তবে যে পদ তিনি কখনো চাননি, সেটি না দেওয়ার জন্য দলের প্রতি অভিযোগ তোলার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই শিল্পী।

নিজের যোগ্যতায় কাজের সুযোগ পাওয়াকেই প্রকৃত সম্মান মনে করেন ন্যানসি। তাঁর মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান বা পদে তাঁকে যোগ্য মনে করা হলে সেখানে কাজ করতে আপত্তি নেই। তবে সেটি হতে হবে নিজের যোগ্যতায়, কোনো তদবিরের মাধ্যমে নয়।

জীবনের রাজনৈতিক বাস্তবতায় হারিয়ে যাওয়া ১৪ বছরের প্রসঙ্গ টেনে ন্যানসি বলেন, সেই সময় আর কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে না। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। বাংলাদেশের মানুষ এখন তাঁকে একজন শিল্পী হিসেবে চেনে ও ভালোবাসে। এটিকেই নিজের বড় প্রাপ্তি মনে করেন তিনি।

যোগ্যতা দিয়েই পেয়েছেন পেশাগত স্বীকৃতি
নিজের পেশাগত অর্জনের উদাহরণ তুলে ধরে ন্যানসি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘নতুন কুঁড়ি’র বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্যও ছিলেন তিনি।

এসব দায়িত্ব পাওয়ার জন্য কাউকে ফোন করতে হয়নি কিংবা অনুরোধ জানাতে হয়নি বলে উল্লেখ করেন ন্যানসি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে যোগ্য মনে করেছে বলেই দায়িত্ব দিয়েছে। তাঁর কাছে এ ধরনের স্বীকৃতিই প্রকৃত সম্মান।

বিএনপিকে সংস্কৃতিবান্ধব মনে করেন ন্যানসি
বিএনপি সংস্কৃতিবান্ধব নয় কিংবা দলটি শিল্পীদের মূল্যায়ন করে না—এমন বক্তব্যের সঙ্গেও একমত নন ন্যানসি। এ প্রসঙ্গে বিএনপির শাসনামলে নেওয়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

ন্যানসির মতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে ‘নতুন কুঁড়ি’, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ সাংস্কৃতিক ও জাতীয় স্বীকৃতির বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে জাতীয় নাট্যশালা, জাতীয় চারুকলা গ্যালারি এবং জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। ‘নতুন কুঁড়ি’র প্রতিও তাঁর আগ্রহ ছিল। এসব উদ্যোগ সংস্কৃতির প্রতি পৃষ্ঠপোষকতার উদাহরণ বলে মনে করেন এই সংগীতশিল্পী।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই ঐতিহ্যের উত্তরসূরি বলে মনে করেন ন্যানসি। তাঁর ভাষ্য, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একটি সুন্দর সাংস্কৃতিক যাত্রা শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি সবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনার পাশাপাশি সংস্কৃতি অঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যও সরকারকে সময় ও সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা
নিজের একটি সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন ন্যানসি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাস চারেক আগে এসএসএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। জীবনে প্রথমবার কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের সম্মানী পুরোপুরি অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগেই তাঁর বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

ওই অনুষ্ঠানে বালাম ও ন্যানসি প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের সামনে গান পরিবেশন করেন। বালাম প্রধানমন্ত্রীকে মঞ্চে আসার আমন্ত্রণ জানালে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চে উপস্থিত হন। ন্যানসির গান শেষেও একইভাবে মঞ্চে এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি ন্যানসির গাওয়া গান নিয়ে নিজের স্মৃতির কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি সংস্কৃতি অঙ্গনের বিভিন্ন সমস্যা ও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও ন্যানসির কথা শোনেন।

এই অভিজ্ঞতাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ন্যানসি। তবে অনুষ্ঠানের ছবিগুলো তিনি ফেসবুকে প্রকাশ করেননি। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ছবি প্রকাশ করলে অনেকে হয়তো বলতেন, এখন ন্যানসির সময়, এখন তিনি সবকিছু পেয়ে যাবেন। নিজের রাজনৈতিক ভালোবাসা কিংবা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরে প্রমাণ করার প্রয়োজন বোধ করেননি তিনি।

সমর্থক হলেও দলের সমালোচনা করেন
বিএনপির সমর্থক হলেও দলটির সমালোচনা করেন বলে জানিয়েছেন ন্যানসি। তাঁর মতে, কোনো রাজনৈতিক দলই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আবার ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক হওয়ার কারণে কাউকে ঘৃণা করার পক্ষেও নন তিনি।

বিশেষ করে একজন শিল্পীর রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে তাঁর শিল্পী পরিচয়কে বেশি সম্মান করেন ন্যানসি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা যেন শিল্পীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার প্রত্যাশা
বিএনপি দেশের শিল্প-সংস্কৃতির চর্চাকে অনেক দূর এগিয়ে নেবে বলে আশাবাদী ন্যানসি। তাঁর প্রত্যাশা, প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করবে সরকার। এর মধ্য দিয়ে তৈরি হবে নতুন মুখ, উন্মোচিত হবে নতুন সম্ভাবনা।

সবশেষে শিল্পীদের মূল্যায়নে রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। তাঁর মতে, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিল্পীদের বঞ্চিত করা যেমন অন্যায় ছিল, তেমনি নিজের সমর্থিত দল ক্ষমতায় আছে বলে বিশেষ সুবিধা প্রত্যাশা করাও অন্যায়। এই চর্চা থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। ন্যানসির প্রত্যাশা, বাংলাদেশের শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং তাঁদের শিল্প, প্রতিভা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে।

কালের আলো/এসএ/ইএকে

Link copied!