Kaler Alo
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
২০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

খুলনা সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

শ্রমিকদের দাবির আড়ালে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর

খুলনা সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

শ্রমিকদের দাবির আড়ালে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে সামনে রেখে দেশের শিল্পকারখানায় অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর দাবি, চব্বিশের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপার থেকে এসব কর্মকাণ্ডে ইন্ধন দিচ্ছেন। দেশের সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালি মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ
শ্রমিকদের মজুরিসংক্রান্ত দাবির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার বিবেচনায় নিয়েই সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে দাবিদাওয়ার আড়ালে শিল্পকারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো অপচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

কারখানা ধ্বংস হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকরাই
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানা, যন্ত্রপাতি ও যানবাহনে ভাঙচুরের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত শ্রমিকেরা কখনো নিজেদের কর্মসংস্থানের উৎস ধ্বংস করতে পারেন না। শিল্পকারখানা শুধু দেশের সম্পদ নয়, এগুলো শ্রমিকদেরও সম্পদ।

এসব কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বেন শ্রমিকেরা। তাঁদের পরিবার ও সন্তানদের জীবনযাপনও এর নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়বে। তাই শ্রমিকদের স্বার্থেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা জরুরি বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।

সীমান্তের ওপার থেকে অস্থিতিশীলতার চেষ্টা
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি মহল সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চব্বিশের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ব্যক্তিরাই এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন। তারেক রহমান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে ব্যবহার করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে এসব ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পরিকল্পনা
পথসভায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একসময় শিল্পসমৃদ্ধ খুলনা অঞ্চলসহ দেশের দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে খুলনা অঞ্চলের বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে।

খুলনা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত শিল্পায়নের পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী জানান, খুলনা, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় পর্যন্ত ব্যাপক শিল্পায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এসব অঞ্চলে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

Link copied!