Kaler Alo
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা,কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

আমনের ফলনে স্বস্তি, বাজারদর নিয়ে উদ্বেগ

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা,কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

আমনের ফলনে স্বস্তি, বাজারদর নিয়ে উদ্বেগ

মৌলভীবাজারে চলতি মৌসুমে উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের আগাম আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সরকারি সহায়তা এবং কৃষি বিভাগের তদারকিতে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলনের আশা করছেন কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে জেলার হাওরাঞ্চলে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। তবে মাঠে সোনালি ধানের সমারোহ থাকলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। সরেজমিনে জেলার হাওরাঞ্চলে দেখা গেছে, কোথাও কাস্তে দিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে, আবার কোথাও আধুনিক কম্বাইন হারভেস্টারের সাহায্যে ধান কাটছেন কৃষকরা। ভালো ফলনে তাঁদের মুখে স্বস্তির ছাপ থাকলেও উৎপাদন খরচ তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলনের আশা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে মৌলভীবাজারে ৯৯ হাজার ১৫৪ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৯৬ মেট্রিক টন। সে হিসাবে জেলায় মোট ২ লাখ ৯০ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এবারের ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, সরকারের বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকির কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন আবাদ করা সম্ভব হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়াও ফলন ভালো হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

ভালো ফলনেও ধানের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা
কৃষকরা জানান, ধান চাষে সার, বীজ, শ্রমিকসহ বিভিন্ন উপকরণের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ফলে ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেলে উৎপাদন খরচ তুলে লাভ করা কঠিন হবে। এ কারণে ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও তাঁদের মধ্যে স্বস্তির পাশাপাশি রয়েছে দুশ্চিন্তা।

মৌলভীবাজারের মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কৃষক শিমুল বলেন, এবার তিনি ৯ কিয়ার জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন। অন্য বছরের তুলনায় ফলনও ভালো হয়েছে। হাওরের প্রায় সবার জমিতেই ভালো ধান হয়েছে। বিশেষ করে হাইব্রিড জাতের ধানের ফলন বেশ ভালো। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া। একই এলাকার আমন চাষি এস এম উমেদ আলী ও সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহীন বলেন, জমিতে হাইব্রিড জাতের আমনের ভালো ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছেন তাঁরা। তবে উৎপাদন খরচ তুলে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন।

কৃষি বিভাগের দাবি, উপকরণের সংকট ছিল না
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়া, অনুকূল আবহাওয়া এবং সরকারি সহায়তার কারণে এবার জেলায় আমনের ভালো ফলন হয়েছে। বলেন, কৃষকদের জন্য বীজ, সার ও কীটনাশকের যে সরবরাহ ছিল, তা যথাযথভাবে তদারকি করা হয়েছে। কৃষি উপকরণের কোনো সংকট তৈরি হয়নি। কৃষি বিভাগের তদারকিও ভালো ফলনের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি।

ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের আশ্বাস জেলা প্রশাসনের
ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ জেলা প্রশাসনের কাছেও আসছে বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। তিনি বলেন, আমন ধানচাষিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে আইনগতভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা দেখা হবে। যাতে কৃষক তাঁদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

ফলনের স্বস্তি যেন দামের অনিশ্চয়তায় ম্লান না হয়
মৌলভীবাজারে আমনের বাম্পার ফলন কৃষকদের জন্য স্বস্তির খবর হলেও ন্যায্যমূল্য নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ কাটেনি। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভালো ফলনের সুফল পেতে হলে বাজারে ধানের উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন কৃষকরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

Link copied!