নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় টানা তিন দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে মাঠের রোপা আমন ধান নুয়ে পড়েছে। কোথাও ধানগাছ হেলে পড়েছে, আবার কোথাও পুরো ফসল মাটিতে শুয়ে গেছে। ধান ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে এমন পরিস্থিতিতে ফলন কমে যাওয়া ও বাড়তি খরচের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জমিতেও পরিচর্যার মাধ্যমে ধান পাওয়ার আশা দেখাচ্ছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগাতিপাড়া উপজেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১০ হাজার ৯৩০ হেক্টর। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে ৬ হাজার ৩৭৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভায় এ ধানের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে কালিকাপুর এলাকায় সর্বোচ্চ ৪৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। এ ছাড়া জামনগরে ৪৮৫, হিজলীতে ৪২০ এবং দয়ারামপুরে ৪১৬ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয়েছে।
কৃষি বিভাগের চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, উপজেলায় ২৩ হাজার ১৩ টন রোপা আমন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। গত বছর এ উপজেলায় ধান উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৯৫০ টন। তবে সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হতে পারে।
ফসল ঘরে তোলার আগে দুশ্চিন্তায় কৃষক
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আমন ধান চাষে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের পেছনে তাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। কিন্তু টানা ঝড়-বৃষ্টিতে জমির ধান পড়ে যাওয়ায় তাদের সেই আশায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ধানগাছ মাটিতে পড়ে যাওয়ায় কাটতে বাড়তি শ্রমিকের প্রয়োজন হতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ধানের ফলনও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। জামনগর এলাকার কৃষক মুনসুর আলী বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে ধান চাষ করেছি। এবার ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টিতে জমির ধান পড়ে গেছে। এখন ধান কতটা ঘরে তুলতে পারব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’
ক্ষতিগ্রস্ত ধান রক্ষায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় জানান, যেসব জমির ধান হেলে পড়েছে, সেসব ধান আঁটি বেঁধে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর যেসব ধানগাছ একেবারে মাটিতে পড়ে গেছে, সেগুলো থেকেও কৃষকরা যাতে ফলন পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা করলে ক্ষতিগ্রস্ত জমি থেকেও ধান পাওয়া সম্ভব বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ঝড়-বৃষ্টিতে প্রকৃতপক্ষে কত হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি
