Kaler Alo
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

ব্যাটারিচালিত যন্ত্রে সেচ, চাষ হচ্ছে ৪০০ কানি জমি

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

ব্যাটারিচালিত যন্ত্রে সেচ, চাষ হচ্ছে ৪০০ কানি জমি

বিদ্যুৎ কিংবা প্রচলিত জ্বালানি ছাড়াই জমিতে সেচ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘ ১২ বছরের গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরিবেশবান্ধব এক সেচযন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার কৃষক মোহাম্মদ ফোরকান। নিজের উদ্ভাবিত যন্ত্র ব্যবহার করে পশ্চিম বাথুয়া এলাকায় প্রায় ৪০০ কানি জমিতে চাষাবাদ করেছেন তিনি। তবে প্রয়োজনীয় সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় সম্ভাবনাময় এই উদ্ভাবন এগিয়ে নেওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ফোরকানের দাবি, পাম্প মেশিনে পরিবর্তন এনে ব্যাটারির সাহায্যে চালানোর ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এতে প্রচলিত জ্বালানি ব্যবহার ছাড়াই জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। দীর্ঘদিনের গবেষণার ফল হিসেবে তৈরি এ যন্ত্র দিয়ে চাষাবাদ করে তিনি আর্থিকভাবেও লাভবান হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

জ্বালানি খরচ কমানোর চিন্তা থেকে উদ্ভাবন
মোহাম্মদ ফোরকান হাটহাজারী উপজেলার খন্দকিয়া ভুলিয়া পাড়ার মরহুম আহামদুল হক ও সায়েরা খাতুনের দ্বিতীয় ছেলে। উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ১৯৯০ সালে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে প্রায় ১৫ বছর থাকার পর ২০০৬ সালের শুরুর দিকে দেশে ফিরে কৃষিকাজে যুক্ত হন।

কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ার পর সেচের জন্য ব্যবহৃত পাম্পের জ্বালানি খরচ তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। উৎপাদন খরচের বড় একটি অংশ সেচের জ্বালানি বাবদ ব্যয় হওয়ায় কৃষকের লাভ কমে যায়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে শুরু করেন তিনি। কীভাবে জ্বালানি খরচ ছাড়াই জমিতে পানি সরবরাহ করা যায়, সেই চিন্তা থেকেই শুরু হয় তাঁর গবেষণা।

দীর্ঘ ১২ বছরের প্রচেষ্টা ও নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার একপর্যায়ে পাম্প মেশিনে পরিবর্তন এনে ব্যাটারির সাহায্যে চালানোর ব্যবস্থা করেন ফোরকান। তাঁর দাবি, এ পদ্ধতিতে প্রচলিত জ্বালানি ছাড়াই জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পশ্চিম বাথুয়া এলাকায় প্রায় ৪০০ কানি জমিতে এ যন্ত্র ব্যবহার করে চাষাবাদ করেছেন তিনি।

কর্মকর্তাদের পরিদর্শন ও উৎসাহ
ফোরকানের উদ্ভাবিত সেচযন্ত্রটি হাটহাজারী উপজেলার সাবেক কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। যন্ত্রটির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে তাঁরা তাঁকে গবেষণা অব্যাহত রাখার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এ ধরনের উদ্ভাবন ভূমিকা রাখতে পারে বলেও আশাবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা।

তবে উদ্ভাবনটি বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে নিজের সঞ্চিত অর্থ ও সহায়-সম্বল অনেকটাই হারিয়েছেন বলে জানান ফোরকান। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সহযোগিতা পেলে সেচযন্ত্রটিকে আরও আধুনিক করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনার দাবিও ফোরকানের
ফোরকানের দাবি, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর উদ্ভাবিত যন্ত্র থেকে ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কারিগরি যাচাই, গবেষণা এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন দরকার। তাঁর মতে, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে উদ্ভাবনটির সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।

বৃক্ষরোপণেও পেয়েছেন জাতীয় স্বীকৃতি
কৃষি উদ্ভাবনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও কাজ করছেন ফোরকান। বাড়ির পূর্ব পাশে পশ্চিম বাথুয়া লালাচন্দ্র বিলে কৃষিকাজের পাশাপাশি জমির পাশের খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন তিনি। গাছের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছেন। এ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর তাঁকে জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে। পরের বছর, ২০১৬ সালে বৃক্ষরোপণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করে পুরস্কার পান তিনি।

পৃষ্ঠপোষকতার অপেক্ষায় সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন
ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় তৈরি সেচযন্ত্রটি কৃষিকাজে ব্যবহার করে সাফল্য পাওয়ার দাবি করেছেন ফোরকান। এখন তাঁর প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে যন্ত্রটির কার্যকারিতা আরও উন্নত করা যাবে। এতে কৃষকের সেচ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

Link copied!