Kaler Alo
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

সিলেট সংবাদদাতা,কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ১১:২০ এএম

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, দুর্ঘটনার শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

সিলেট সংবাদদাতা,কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ১১:২০ এএম

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, দুর্ঘটনার শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার আবুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। শ্রেণিকক্ষের ছাদ, বিম ও দেয়াল থেকে প্রায়ই খসে পড়ছে পলেস্তারা। কখনো কংক্রিটের টুকরো পড়ছে শিক্ষার্থীদের মাথার ওপর। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় পাঠদানেও বিঘ্ন ঘটছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ অথবা বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

বিদ্যালয়টি ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নে অবস্থিত। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির ভবন পুনর্নির্মাণ করা হয় ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিমগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে প্রায়ই ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে।

আতঙ্ক নিয়েই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১০২ জন শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষক রয়েছেন। প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে তাদের বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা কিংবা কংক্রিটের অংশ খসে পড়ায় ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অভিভাবকরাও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েম মিয়া জানায়, মাঝে মাঝে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ পলেস্তারা খসে পড়ে। তখন তারা ভয় পেয়ে যায়। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুইটি আক্তার বলে, তারা সব সময় ভয়ে থাকে—কখন পলেস্তারা খসে মাথায় পড়ে।

শিক্ষকরাও রয়েছেন নিরাপত্তাহীনতায়
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মালবিকা সরকার বলেন, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের বিম জরাজীর্ণ। মাঝেমধ্যেই পলেস্তারা খসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের শরীরে পড়ে। এতে কোমলমতি শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সহকারী শিক্ষক তাসলিমা আক্তার বলেন, বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। মাঝেমধ্যে ছাদ থেকে কংক্রিটের গুঁড়া ও পলেস্তারা খসে পড়ে। কখন ছাদ ধসে পড়ে, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। এ অবস্থায় শিক্ষকরাও নিশ্চিন্তে পাঠদান করতে পারছেন না।

সহকারী শিক্ষক সাথী সরকার ও সেলিনা আক্তার জানান, প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস নেওয়ার সময় ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়লে শিশুরা প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আরেক সহকারী শিক্ষক নিরুপমা তালুকদার বলেন, ‘এ বিদ্যালয়ে আমরা নিরাপদ নই। দ্রুত এ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, মিলছে না স্থায়ী সমাধান
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজমুল হক খোকন বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিদ্যালয়ের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কয়েক দিন আগে ক্লাস শুরুর কিছুক্ষণ আগে একটি শ্রেণিকক্ষের বিমের কিছু অংশ ধসে পড়ে। ওই সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরে থাকায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ বলেন, বিদ্যালয়টির ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে বিরত থাকার জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সেখানে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

Link copied!