Kaler Alo
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

রাঙামাটি সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম

গাইডওয়াল ছাড়াই সড়কে কার্পেটিং, বর্ষায় ভাঙনের শঙ্কা

রাঙামাটি সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম

গাইডওয়াল ছাড়াই সড়কে কার্পেটিং, বর্ষায় ভাঙনের শঙ্কা

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে এয়াতলংপাড়া-উত্তর ডলু-হাতিমুড়া সড়কের তিন কিলোমিটার অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। তবে সড়কের পাশের পাহাড়ি ছড়া বা খালের কয়েকটি স্থানে ভাঙনের ঝুঁকি থাকলেও তা প্রতিরোধে গাইডওয়াল নির্মাণের বরাদ্দ নেই। এ অবস্থায় অস্থায়ীভাবে ড্রাম শিট বসিয়ে সড়ক রক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, স্থায়ী সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়া কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হলে আগামী বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের স্রোতে সড়কের কয়েকটি অংশ ভেঙে যেতে পারে। এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এয়াতলংপাড়া-উত্তর ডলু-হাতিমুড়া ১০ কিলোমিটার সড়কের শেষাংশের চার কিলোমিটারের মধ্যে তিন কিলোমিটার কার্পেটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ উন্নয়নকাজে প্রায় চার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিপ এন্টারপ্রাইজ।

সড়কের পাশেই পাহাড়ি ছড়া, কয়েক স্থানে ভাঙনের শঙ্কা
সড়কের কাজের শুরুর ২০০ থেকে ৪০০ মিটার অংশের এক পাশে জমি এবং অন্য পাশে রয়েছে পাহাড়ি ছড়া বা খাল। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে খালের কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে সড়কে কার্পেটিং শুরু হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও এলজিইডির তদারকি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শ্রমিকেরা কাজ করছেন। এ সময় খালের ভাঙনস্থলে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

স্থায়ী সুরক্ষা ছাড়া কাজ নিয়ে এলাকাবাসীর উদ্বেগ
সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম ও সর্দার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, উপজেলার প্রাচীন জনপদের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের উন্নয়নে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে, যা এলাকার মানুষের জন্য ইতিবাচক। কিন্তু খালের ভয়াবহ ভাঙনের ঝুঁকি রেখেই কার্পেটিং করায় সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তাঁদের আশঙ্কা, আগামী বর্ষায় পাহাড়ি খরস্রোতে সড়কের এক পাশের দুই-তিনটি স্থান ভেঙে পাশের জমিতে চলে যেতে পারে। এলাকাবাসী বিষয়টি এলজিইডিকে বারবার জানানোর পরও খালের পাড়ের ঝুঁকি নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়েই কার্পেটিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

বরাদ্দ না থাকায় গাইডওয়াল নির্মাণ সম্ভব হয়নি
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিপ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি রাজু আহমেদ বলেন, জমি ও খালের মাঝখান দিয়ে যাওয়া সড়কের দুই-তিনটি স্থানে ভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পে বরাদ্দ না থাকায় গাইডওয়াল নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, সড়কের অস্থায়ী নিরাপত্তার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে ড্রাম শিট বসিয়ে কিছুটা সুরক্ষার চেষ্টা করবে। তা না হলে কাজের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সড়কের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাইডওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য এলজিইডিকে অনুরোধ করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, পাহাড়ি ছড়া বা খালের অংশে সড়কটির কয়েকটি স্থানে ভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে। তবে কার্পেটিংয়ের জন্য বরাদ্দ করা অর্থে গাইডওয়াল নির্মাণের ব্যবস্থা নেই। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এলজিইডির প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়েছে।

আপাতত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ড্রাম শিট বসিয়ে সড়কের অস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়নকাজ চললেও ভাঙনপ্রবণ অংশে স্থায়ী সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, সময়মতো ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

Link copied!