Kaler Alo
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

পটুয়াখালী সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

ঝালকাঠিতে এলপিজির বাড়তি দামে কমছে ক্রেতা

পটুয়াখালী সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

ঝালকাঠিতে এলপিজির বাড়তি দামে কমছে ক্রেতা

এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে বিপাকে পড়েছেন ঝালকাঠির সাধারণ ক্রেতারা। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে কোথাও কোথাও ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। পছন্দের কোম্পানির গ্যাস না পেয়ে অনেককে বেশি দামে অন্য ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। আবার নতুন সিলিন্ডারসহ গ্যাস নিতে গেলে খরচ পড়ছে তিন হাজার টাকারও বেশি। এতে সংসারের বাড়তি ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।

দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ঝালকাঠির বাজারেও। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, আগে ১২ কেজির ওমেরা গ্যাসের সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৭০ থেকে ১ হাজার ৯৭০ টাকায় বিক্রি হতো। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০ টাকায়। অন্যদিকে, ১২ কেজির টোটাল গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ১০০ টাকা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক মাস আগেও ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৭৫০ টাকায় পাওয়া যেত। বর্তমানে একই সিলিন্ডার কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ১০০ টাকা। কোনো কোনো দোকানে দাম উঠেছে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এতে গ্যাস কেনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতাই আগের মতো সিলিন্ডার কিনতে পারছেন না।

সরকারি দামের চেয়ে বেশি রাখার অভিযোগ
সরকার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামে বাজারে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও বিক্রেতারা ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। ফলে রান্নার জ্বালানি বাবদ মাসিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে সংসারের খরচের হিসাব করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।

শহরের বাসিন্দা রায়হান ইসলাম বলেন, মাসখানেক আগেও তিনি ১ হাজার ৭৫০ টাকায় গ্যাস কিনেছেন। কিন্তু দাম বাড়ায় এখন একই গ্যাস কিনতে ২ হাজার ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে। এভাবে কয়েক দফায় দাম বাড়তে থাকলে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এর মধ্যে ইলেকট্রিক চুলার দামও বাড়ছে বলে জানান তিনি।

পছন্দের ব্র্যান্ড না পেয়ে বাড়তি খরচ
দামের পাশাপাশি সরবরাহ সংকটও ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। বাজারে ওমেরা, আই গ্যাস, ফ্রেশ, বসুন্ধরা ও বেক্সিমকোসহ বিভিন্ন কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার থাকলেও সব ব্র্যান্ডের গ্যাস নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, বাজারে ১৬ থেকে ১৮টি এলপিজি কোম্পানি থাকলেও নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করছে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সব কোম্পানির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। পছন্দের ব্র্যান্ডের গ্যাস না পেয়ে অনেক ক্রেতাকে অন্য ব্র্যান্ড কিনতে হচ্ছে। আবার খালি সিলিন্ডার নিয়ে দোকানে গিয়েও কাঙ্ক্ষিত গ্যাস না পেয়ে কেউ কেউ ফিরে যাচ্ছেন।

মো. মিরাজুল ইসলাম জানান, সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে তাঁর বাসার গ্যাস শেষ হয়ে যায়। পরদিন খালি সিলিন্ডার নিয়ে দোকানে গেলেও পছন্দের প্রতিষ্ঠানের গ্যাস পাননি। দোকানি তাঁকে গ্যাসসহ নতুন একটি সিলিন্ডার কেনার পরামর্শ দেন। এতে খরচ পড়ত প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা। বাড়তি এই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গ্যাস না কিনেই ফিরে যান তিনি। বর্তমানে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করছেন।

ইলেকট্রিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা
মিরাজুল ইসলামের মতো আরও অনেক ক্রেতা এলপিজির বাড়তি দাম ও সরবরাহ সংকটের কারণে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। কেউ অন্য ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার কিনছেন, আবার কেউ নতুন সিলিন্ডার কেনার অতিরিক্ত খরচ এড়াতে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। এতে স্থানীয় বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের ক্রেতা কমছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে ভোক্তাদের জ্বালানি ব্যবহারের ধরনেও পরিবর্তন আসছে। তাঁদের মতে, দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।

দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের দাবি
ভোক্তাদের দাবি, এলপিজির নির্ধারিত দাম কার্যকর করা এবং বাজারে সব ব্র্যান্ডের সিলিন্ডারের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে রান্নার জ্বালানি বাবদ বাড়তি ব্যয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় আরও চাপ তৈরি করবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

Link copied!