Kaler Alo
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

গাইবান্ধা সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

সারের অভাবে অনিশ্চয়তায় গাইবান্ধার চরাঞ্চলের ভুট্টা চাষ

গাইবান্ধা সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

সারের অভাবে অনিশ্চয়তায় গাইবান্ধার চরাঞ্চলের ভুট্টা চাষ

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষের ভরা মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না কৃষকেরা। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে অনেক কৃষককে জমি প্রস্তুত করেও অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়ে অন্য জায়গা থেকে সার সংগ্রহ করছেন। এ অবস্থায় ডিলারের পাশাপাশি খোলাবাজারে সার বিক্রির দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার ছোট-বড় ১৬৫টি চরে এবার ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ লক্ষ্যমাত্রা প্রায় এক হাজার হেক্টর বেশি। তবে আবাদ বাড়ানোর লক্ষ্যের মধ্যেই মৌসুমের শুরুতে সারের স্বল্পতা দেখা দেওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন চাষিরা। চরাঞ্চলের কৃষকদের কাছে দ্রুত সার পৌঁছে দিতে প্রতিটি চরে সাব-ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পাওয়ার পাশাপাশি ডিলারের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করতে অতিরিক্ত সময় ও পরিবহন খরচও গুনতে হচ্ছে।

জমি প্রস্তুত করেও সারের অপেক্ষায় কৃষকেরা
সম্প্রতি গাইবান্ধার বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, কেউ ভুট্টা চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ বীজ রোপণ করছেন। আবার অনেক কৃষক জমি তৈরি করেও সারের অপেক্ষায় রয়েছেন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই কিছু জমিতে ভুট্টা লাগানো শুরু করেছেন চাষিরা।

কৃষকদের অভিযোগ, ভুট্টা আবাদের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারের কাছে গেলেও চাহিদার তুলনায় সামান্য পরিমাণ সার দেওয়া হচ্ছে। আবার চরাঞ্চল থেকে ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে সার সংগ্রহ করতে সময় ও ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত তিন থেকে চার শ টাকা খরচ হচ্ছে। উপজেলার উজলডাঙা গ্রামের কৃষক আল আমিন বলেন, ভুট্টা আবাদের ভরা মৌসুমে তাঁরা ইউরিয়া সার পাচ্ছেন না। ডিলারের কাছে গেলে সামান্য পরিমাণ সার দেওয়া হচ্ছে। অন্য জায়গা থেকে বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনে জমিতে দিতে হচ্ছে। গুপ্তমনির চরের কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, জমিতে ভুট্টা লাগাচ্ছেন, কিন্তু সারের সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এবার আবাদে কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন তাঁরা। এ পরিস্থিতিতে ডিলারের পাশাপাশি খোলাবাজারেও সার বিক্রির দাবি জানান তিনি।

সারের জন্য ঘুরতে হচ্ছে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে
সারের সংকটের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন কৃষকেরা। তাঁদের ভাষ্য, ডিলারের কাছে গেলে বিএএসের কাছে যেতে বলা হয়। আবার বিএএস থেকে পাঠানো হয় কৃষি কর্মকর্তার কাছে। এভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষক সামাদ মিয়া বলেন, সারের জন্য ডিলারের কাছে গেলে তাঁকে বিএএসের কাছে যেতে বলা হয়। আবার বিএএস কৃষি কর্মকর্তার কাছে যেতে বলেন।

এভাবে ভুট্টাচাষিদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এরেন্ডাবাড়ির কৃষক আবুল হাসনাত জানান, তিনি ৩৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করছেন। জমিতে পানি দেওয়া ও নিড়ানি দেওয়ার পর সার প্রয়োগ করতে হবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। ডিলারের কাছ থেকে মাত্র দুই বস্তা সার পেয়েছেন, যা দিয়ে এত জমিতে কাজ চালানো সম্ভব নয়। তাই বেশি দাম দিয়ে হলেও অন্য জায়গা থেকে সার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তিনি।

সুন্দরগঞ্জের লাল চামার চরের কৃষক আইজার আলী বলেন, ভুট্টা চাষে পর্যাপ্ত ইউরিয়া সার প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী সার না পেলে আবাদ চালিয়ে নেওয়া কঠিন। তাঁদের সংসার কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ডিলারের পাশাপাশি খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা থাকলে কৃষকদের এমন ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।

ডিলারের দাবি, বরাদ্দ শেষ হলে দেওয়ার সুযোগ নেই
ফুলছড়ির সার ডিলার মো. মিজানুর রহমান বলেন, সরকারিভাবে প্রতি মাসে যে পরিমাণ সার বরাদ্দ পাওয়া যায়, তা কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করা হয়। বরাদ্দের সার শেষ হয়ে গেলে চাইলেও আর সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। একই সময়ে সব কৃষকের চাহিদা তৈরি হওয়ায় এ ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে, আশ্বস্ত কৃষি বিভাগ
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রতিবছর নভেম্বর মাসে চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষ শুরু হয়। তবে এ বছর আগাম বন্যার কারণে অক্টোবরের শুরুর দিকেই কৃষকেরা ভুট্টা রোপণ শুরু করেছেন। পাশাপাশি কৃষকেরা আগাম কয়েক গুণ বেশি সার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এতে চাহিদার চাপ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গুদামে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই সার নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। কৃষকদের অভিযোগ, গুদামে পর্যাপ্ত সার থাকার কথা জানানো হলেও মাঠপর্যায়ে তাঁরা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। ভুট্টা আবাদের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ সংকট দ্রুত সমাধান না হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

Link copied!