Kaler Alo
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০২:১২ পিএম

সীমান্ত সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০২:১২ পিএম

সীমান্ত সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করতে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যকে গতিশীল করতে সমন্বিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর একটি তারকা হোটেলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিজিটাল রূপান্তরে সরকারের অগ্রাধিকার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ বর্তমানে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বের সঙ্গে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংযুক্ত। ফলে আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্য সহজ হবে, অন্যদিকে নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতাও বাড়বে।

বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ
সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর নীতির সমন্বয়ে বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্রমগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে মানবাধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

মানবপাচার ও আন্তসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বয়
মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন ও আন্তসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে আইওএমের প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানান তিনি।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে আইওএমের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর অনুরোধ করেন।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা আইওএমের
ব্রিফিংয়ে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে পরিবর্তিত ভ্রমণ পরিস্থিতি ও কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে উন্নত সমন্বয় প্রয়োজন।

সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে আইওএম আগ্রহী বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আলোচনায় বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি মানবপাচার, আন্তসীমান্ত অপরাধ এবং পরিচয় জালিয়াতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

কৌশলগত রূপরেখায় চারটি সহযোগিতার ক্ষেত্র
আইওএমের প্রস্তাবিত কৌশলগত রূপরেখায় সহযোগিতার জন্য চারটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ব্যবস্থা ও তথ্য আদান-প্রদান, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচিত সীমান্ত পয়েন্টে অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন। এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করা গেলে দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈধ অভিবাসন ও বাণিজ্য কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

Link copied!