সংবিধানে শিক্ষা ও চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব উঠেছে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে। একই সঙ্গে জুলাই সনদের টেকসই বাস্তবায়ন, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা এবং গণঅভ্যুত্থানের দাবিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির দশম বৈঠকে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব বিষয় উঠে আসে। সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সংবিধান সংশোধনে যেসব বিষয়ে আলোচনা
বৈঠকে সংবিধানে শিক্ষা ও চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা, গণঅভ্যুত্থানের দাবি বাস্তবায়ন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যমান ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা, জরুরি অবস্থাসংক্রান্ত বিধান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা এবং গণভোটের বিষয়ও আলোচনায় স্থান পায়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের অবদানের স্বীকৃতি
বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে যুগে যুগে তরুণেরাই জাতিকে পথ দেখিয়েছে। তরুণদের কল্যাণ এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী সংবিধান প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সতর্ক থাকার আহ্বান
বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কার’-এর কথা বলা হয়েছে। সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে সজাগ থাকতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যারা
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি
