ছোটবেলার কোনো বন্ধুর সঙ্গে বহু বছর পর দেখা হলে অনেক স্মৃতিই মনে পড়ে। কিন্তু একসময় যার পছন্দ-অপছন্দ, অভ্যাস কিংবা প্রিয় খাবার ছিল মুখস্থ, সময়ের ব্যবধানে তার অনেক কিছুই ভুলে যেতে পারেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও তথ্য মনে রাখার ক্ষমতায় এমন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিজ্ঞানের ভাষায়, বয়সজনিত এসব পরিবর্তনকে বলা হয় মস্তিষ্কের বার্ধক্য বা ‘ব্রেন এজিং’।
তবে বয়স বাড়লেই কি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া অবধারিত? স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কি মস্তিষ্কের বার্ধক্যের গতি ধীর করা সম্ভব?
বিজ্ঞানীদের মতে, মস্তিষ্কের বার্ধক্য পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক উদ্দীপনা ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন মস্তিষ্কের সুস্থতা ধরে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি এআই ও আধুনিক প্রযুক্তি মস্তিষ্কের বয়সজনিত পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য রোগের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
বয়স বাড়লে মস্তিষ্কে কী পরিবর্তন ঘটে
মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমারের মতো স্নায়বিক রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। এ কারণে বয়সের সঙ্গে মস্তিষ্কে স্বাভাবিকভাবে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে এবং কোনো রোগের কারণে কখন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা দ্রুত কমতে শুরু করে, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন গবেষকেরা।
তাদের লক্ষ্য হলো, স্বাভাবিক বার্ধক্য ও রোগজনিত পরিবর্তনের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা। কারণ, বয়স বাড়ার কারণে কিছুটা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া আর ডিমেনশিয়ার মতো রোগের কারণে স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এক বিষয় নয়।
দীর্ঘায়ুর জন্য পরিচিত লোমা লিন্ডা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লোমা লিন্ডা শহর দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনযাপন নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পরিচিত। শহরটি বিশ্বের কথিত ‘ব্লু জোন’গুলোর একটি। এসব অঞ্চলে মানুষের গড় আয়ু তুলনামূলক বেশি।
লোমা লিন্ডার সেভেন্থ-ডে অ্যাডভেন্টিস্ট খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের পেছনে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চা, উদ্ভিদভিত্তিক খাবার এবং সামাজিক বন্ধনের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়।
লোমা লিন্ডা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক গ্যারি ফ্রেজারের তথ্য অনুযায়ী, ওই সম্প্রদায়ের নারীরা সাধারণ মানুষের তুলনায় চার থেকে পাঁচ বছর এবং পুরুষেরা প্রায় সাত বছর বেশি সুস্থ জীবন কাটানোর সুযোগ পান। এখানে শুধু কত বছর বেঁচে থাকা যায়, তা নয়; বরং জীবনের কতটা সময় রোগমুক্ত ও কর্মক্ষম থাকা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘হেলথস্প্যান’।
একাকিত্ব মস্তিষ্কের জন্য কেন উদ্বেগের
শুধু খাবার বা শরীরচর্চা নয়, সামাজিক যোগাযোগও মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। লোমা লিন্ডার একটি আবাসিক কেন্দ্রে বসবাসকারী জুডির মতে, মানুষের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা এবং সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকা মস্তিষ্কের জন্য জরুরি। দীর্ঘদিন একাকিত্বে থাকলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিকভাবে সক্রিয় থাকতে সহায়তা করে। তাই সুস্থ বার্ধক্যের ক্ষেত্রে সামাজিক সম্পর্ককেও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মস্তিষ্কের বয়স জানাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
জীবনযাপনের পাশাপাশি মস্তিষ্কের বয়স নির্ণয় ও ভবিষ্যৎ অবনতির ঝুঁকি শনাক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন গবেষকেরা। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার জেরোন্টোলজি ও কম্পিউটেশনাল বায়োলজির সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেই ইরিমিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এ ধরনের একটি মডেল তৈরি করেছেন।
প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যানের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি মডেলটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বার্ধক্য এবং ডিমেনশিয়ার মতো রোগের কারণে সৃষ্ট পরিবর্তনের ধরন শনাক্ত করতে পারে। মানুষের চোখে সহজে ধরা পড়ে না, এমন সূক্ষ্ম পরিবর্তনও এআইয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
বিবিসি প্রতিবেদক লারা লিউইংটনের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান বিশ্লেষণ করে অধ্যাপক ইরিমিয়া জানান, তাঁর মস্তিষ্কের বয়স প্রকৃত বয়সের তুলনায় আট মাস বেশি। তবে এ ধরনের পরীক্ষায় প্রায় দুই বছর পর্যন্ত ত্রুটির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাণিজ্যিকভাবেও এ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। ব্রেইনকি নামের একটি প্রতিষ্ঠান বিশ্বের বিভিন্ন ক্লিনিকে এ ধরনের সেবা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ওয়েন ফিলিপসের মতে, এমআরআই প্রযুক্তি ক্রমেই সহজলভ্য ও উন্নত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের বয়সজনিত পরিবর্তন আরও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে জীবনযাপনে যেসব পরিবর্তন জরুরি
প্রযুক্তির অগ্রগতি সত্ত্বেও মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকেই দেখছেন বিজ্ঞানীদের বড় একটি অংশ। খাবার, ঘুম, শরীরচর্চা, মানসিক উদ্দীপনা ও সামাজিক সম্পর্ক—সবকিছুর সমন্বয় মস্তিষ্কের সুস্থতা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ড্যান বুয়েটনারের ‘দ্য ব্লু জোনস’ বইয়ে বিশ্বের দীর্ঘায়ু মানুষের জীবনযাপনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের সঙ্গে শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, প্রতিদিনের স্বাভাবিক চলাফেরা, পরিবার ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক, জীবনের উদ্দেশ্য এবং মানসিক প্রশান্তির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।
খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বির পরিবর্তে শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, বাদাম, পূর্ণশস্য ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারকে প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাবার গ্রহণও জরুরি। তবে কোনো একটি বিশেষ খাবার খেলেই মস্তিষ্কের বার্ধক্য থেমে যাবে—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং দীর্ঘদিনের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত শরীরচর্চায় সক্রিয় থাকে মস্তিষ্ক
নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কিংবা নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। শারীরিক সক্রিয়তা রক্তসঞ্চালন ও হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে। হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির সুস্থতা মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বজায় রাখতেও সহায়তা করে।
তাই দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার অভ্যাস থাকলে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটা এবং প্রতিদিন কিছুটা সময় শারীরিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা ভালো। বয়স বা শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন নির্ধারণ করা যেতে পারে।
নতুন কিছু শেখার মাধ্যমে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখা
মস্তিষ্কের সক্রিয়তা ধরে রাখার আরেকটি উপায় হলো নিয়মিত নতুন কিছু শেখা। বই পড়া, নতুন ভাষা শেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, লেখালেখি, দাবা খেলা কিংবা সৃজনশীল কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্ককে নতুন অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে।
নরম্যান ডয়েজের ‘দ্য ব্রেইন দ্যাট চেঞ্জেস ইটসেলফ’ বইয়ে মস্তিষ্কের পরিবর্তন ও অভিযোজনের ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিজ্ঞানের ভাষায় এ ক্ষমতাকে বলা হয় ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’। এর অর্থ হলো, অভিজ্ঞতা, অনুশীলন ও শেখার মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্ক সারা জীবনই পরিবর্তিত হতে পারে। অর্থাৎ বয়স বাড়লেই শেখার ক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। নতুন দক্ষতা অর্জন এবং নিয়মিত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
ঘুমের সঙ্গে মস্তিষ্কের বার্ধক্যের সম্পর্ক
মস্তিষ্কের সুস্থতার ক্ষেত্রে ঘুমের গুরুত্বও অনেক। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির স্নায়ুবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ম্যাথিউ ওয়াকার তাঁর ‘হোয়াই উই স্লিপ’ বইয়ে ঘুমের সঙ্গে মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেছেন।
পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতিশক্তি, শেখার ক্ষমতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। ঘুমের সময় মস্তিষ্কে বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ‘গ্লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম’, যা মস্তিষ্কের বর্জ্য পদার্থ অপসারণে ভূমিকা রাখে।
বিটা-অ্যামাইলয়েড ও টাউ প্রোটিনের মতো উপাদান আলঝেইমার রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। ঘুমের সঙ্গে এসব উপাদান অপসারণের প্রক্রিয়ার সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা চলছে। এ কারণে নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাতকে মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য উপেক্ষা করা উচিত নয়।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, পর্যাপ্ত সময় ঘুমানো, রাতে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার কমানো এবং ঘুমের আগে ক্যাফেইন এড়িয়ে চলার মতো অভ্যাস ঘুমের মান উন্নত করতে পারে। সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়।
মানসিক প্রশান্তি ও সামাজিক সম্পর্কের গুরুত্ব
শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও নজর দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, উদ্বেগ, একাকিত্ব ও বিষণ্নতা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া, নিজের পছন্দের কাজে যুক্ত থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া সুস্থ জীবনযাপনের অংশ। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যে নিজের জন্য সময় রাখা, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, বই পড়া কিংবা সৃজনশীল কাজে যুক্ত হওয়াও মানসিক প্রশান্তিতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে ধূমপান পরিহার এবং উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখাও মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মস্তিষ্কের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে প্রযুক্তি
গবেষকদের ধারণা, মস্তিষ্কের বয়স ও কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণে এআই এবং এমআরআই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মস্তিষ্কের বয়স নির্ণয়ের প্রযুক্তি এখনো গবেষণা ও উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। কোনো ব্যক্তির মস্তিষ্কের বয়স কয়েক মাস বেশি দেখালেই তাঁর ডিমেনশিয়া হবে কিংবা তিনি অন্যদের তুলনায় কম সুস্থ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এসব প্রযুক্তির নির্ভুলতা, দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় ঘুমের ধরন ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির মধ্যকার সম্পর্কও গুরুত্ব পাচ্ছে। ঘুমের পরিবর্তন শুধু ষাট বা সত্তর বছর বয়সেই নয়, মধ্যবয়সের আগেও দেখা দিতে পারে। তাই ঘুমের ধরন ও মস্তিষ্কের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, মস্তিষ্কের বার্ধক্য পুরোপুরি থামানো সম্ভব না হলেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, নতুন কিছু শেখা এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন মস্তিষ্কের সুস্থতা ধরে রাখা সম্ভব। আর এআইনির্ভর প্রযুক্তি ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের পরিবর্তন ও রোগের ঝুঁকি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। সূত্র: বিবিসি
কালের আলো/এসএ/এসএআর
