লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

পানি পান করার সময় যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

পানি পান করার সময় যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

দাঁড়িয়ে পানি পান করলে কিডনির ক্ষতি হয়, হজমে সমস্যা দেখা দেয়, এমনকি হাঁটুরও ক্ষতি হতে পারে—এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই প্রচলিত। ছোটবেলা থেকেই অনেকে বসে পানি পান করার পরামর্শ শুনে বড় হয়েছেন। কিন্তু এসব কথার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে?

স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রচলিত ধারণা আর বৈজ্ঞানিক তথ্যের মধ্যে সব সময় মিল থাকে না। বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে পানি পান করলেই কিডনি, হজমপ্রক্রিয়া কিংবা হাঁটুর ক্ষতি হয়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। পানি পান করার সময় শরীরের অবস্থানের চেয়ে ধীরে পান করা এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দাঁড়িয়ে পানি পান করলে কি কিডনি নষ্ট হয়?
অনেকের ধারণা, দাঁড়িয়ে পানি পান করলে পানি সরাসরি কিডনিতে চলে যায়। এতে কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সুযোগ পায় না। তবে শরীরের পানি গ্রহণ ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া এমন নয়।

পানি প্রথমে পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে। সেখান থেকে শোষিত হয়ে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়। কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি ছেঁকে শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

দাঁড়িয়ে পানি পান করার কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং বিদ্যমান শারীরিক সমস্যার যথাযথ চিকিৎসা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

হজমের ওপর কি প্রভাব পড়ে?
দাঁড়িয়ে পানি পান করলে হজমের সমস্যা হয়—এমন ধারণাও প্রচলিত। তবে বসে ও দাঁড়িয়ে পানি পান করার কারণে হজমপ্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ঘটে, এমন শক্তিশালী প্রমাণ নেই।

পানি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি পুষ্টি উপাদান পরিবহন, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং মল নরম রাখতে সহায়তা করে। পানি পান করার সময় তাড়াহুড়া করলে কারও কারও অস্বস্তি হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে পানি পান করা এবং একবারে অতিরিক্ত পানি পান না করাই ভালো।

হাঁটুতে ব্যথা বা জয়েন্টের ক্ষতি হয়?
দাঁড়িয়ে পানি পান করলে হাঁটুতে ব্যথা হয় কিংবা জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন দাবিরও পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

হাঁটুর ব্যথার পেছনে আঘাত, অতিরিক্ত চাপ, বয়সজনিত পরিবর্তন, বাত বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। শুধু দাঁড়িয়ে পানি পান করাকে হাঁটুর ক্ষতির কারণ হিসেবে বিবেচনা করার যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

তবে আগে থেকেই হাঁটুতে ব্যথা, ভারসাম্যের সমস্যা কিংবা দাঁড়িয়ে থাকতে অসুবিধা থাকলে বসে পানি পান করাই সুবিধাজনক হতে পারে।

তাহলে কীভাবে পানি পান করা ভালো?
পানি বসে পান করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে সেভাবেই পান করতে পারেন। আবার সুস্থ অবস্থায় দাঁড়িয়ে পানি পান করলেও সাধারণত তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

পানি পানের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা ভালো—

তৃষ্ণা পেলে পানি পান করুন এবং সারা দিনে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী তরল গ্রহণ করুন।
একবারে অনেকটা পানি পান না করে ধীরে ধীরে পান করুন।
গরম আবহাওয়া, শরীরচর্চা বা অতিরিক্ত ঘামের সময় পানির চাহিদা বাড়তে পারে।
কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র বা অন্য কোনো রোগের কারণে চিকিৎসক পানি পানের পরিমাণ সীমিত করে দিলে সেই নির্দেশনা মেনে চলুন।

প্রচলিত ধারণা নয়, গুরুত্ব দিন নির্ভরযোগ্য তথ্যে
সব মিলিয়ে, দাঁড়িয়ে পানি পান করলেই কিডনি নষ্ট হয়, হজমে সমস্যা দেখা দেয় কিংবা হাঁটুর ক্ষতি হয়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। সুস্থ মানুষের জন্য বসে বা দাঁড়িয়ে পানি পান করার চেয়ে পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ এবং পান করার অভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাই লোকমুখে প্রচলিত কথা শুনে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যতথ্যের ওপর আস্থা রাখা উচিত।

কালের আলো/এমডিএইচ/জেএন

Link copied!