Kaler Alo
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম

পেঁপে কিনে ঠকতে না চাইলে মানুন ৭ নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম

পেঁপে কিনে ঠকতে না চাইলে মানুন ৭ নিয়ম

পুষ্টিগুণে ভরপুর পেঁপে সারা বছরই বাজারে পাওয়া যায়। তুলনামূলক কম দাম এবং নানা উপকারিতার কারণে অনেকেই নিয়মিত ফলটি কিনে থাকেন। তবে বাজার থেকে পেঁপে কিনে এনে দেখা যায়, বাইরে দেখতে পাকা হলেও ভেতরে স্বাদ পানসে। কখনো আবার অতিরিক্ত পাকা কিংবা ভেতরে পচন ধরা পেঁপেও কিনতে হয়। তাই ভালো ও মিষ্টি পেঁপে বেছে নিতে কেনার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা মিজান মিয়া প্রায় ৩০ বছর ধরে রাজধানীর আগারগাঁও তালতলা এলাকায় ফল বিক্রি করছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, পেঁপের রং, স্পর্শ, বোঁটা, গন্ধ ও আকার দেখে অনেকটাই ধারণা পাওয়া যায় ফলটি কতটা পাকা এবং ভালো মানের। মিষ্টি পেঁপে কিনতে নিচের সাতটি কৌশল কাজে লাগাতে পারেন।

পেঁপের গায়ের রং দেখে কিনুন
পেঁপে কেনার সময় প্রথমেই এর গায়ের রং খেয়াল করুন। পুরোপুরি সবুজ রঙের পেঁপে সাধারণত কাঁচা থাকে। অন্যদিকে গায়ে হলুদ কিংবা লালচে-কমলা আভা থাকলে সেটি পাকার লক্ষণ হতে পারে। ফল বিক্রেতাদের ভাষায়, পেঁপের গায়ে ‘শির পাকা’ ভাব থাকলে তা ভালোভাবে পাকার ইঙ্গিত দেয়। পেঁপের গায়ে হালকা খাঁজকাটা দাগ থাকে। পরপর দুটি খাঁজের মাঝখানের উঁচু অংশকে শির বলা হয়। এই অংশে পাকার রং স্পষ্ট হতে শুরু করে।যে পেঁপের গায়ে গাঢ় হলুদ বা হলদে-কমলা রং ছড়িয়ে রয়েছে, সেটি বেছে নিতে পারেন। তবে সামান্য সবুজাভ ভাব থাকলে সেটি এক-দুই দিনের মধ্যে পাকতে পারে। অন্যদিকে গায়ের রং অস্বাভাবিকভাবে সমান মনে হলে সেটি কেনার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত।

আঙুল দিয়ে আলতো চাপ দিন
পেঁপে কতটা পেকেছে, তা বোঝার সহজ উপায় হলো আঙুল দিয়ে আলতো চাপ দিয়ে দেখা। ফলটি অতিরিক্ত শক্ত হলে সেটি কাঁচা থাকার সম্ভাবনা বেশি। আবার বেশি নরম হলে কিংবা আঙুলের চাপে ভেতরে দেবে গেলে বুঝতে হবে পেঁপেটি অতিরিক্ত পেকে গেছে বা নষ্ট হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। তাই কেনার সময় এমন পেঁপে বেছে নিন, যেটি হালকা নরম। আঙুল দিয়ে চাপ দিলে সামান্য বসবে, আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। এতে পেঁপেটি পরিপক্ব কি না, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়।

 বোঁটার অংশ ভালোভাবে পরীক্ষা করুন
পেঁপের বোঁটা ও এর চারপাশের অংশ দেখেও পাকার অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। বোঁটার চারপাশ কিছুটা খাঁজকাটা এবং লালচে-হলুদ হলে সেটি ভালো পাকা পেঁপে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে বোঁটার অংশে কাঁচা ভাব বা অতিরিক্ত সাদা কষ থাকলে সতর্ক হওয়া ভালো। ফলের গায়ে বা বোঁটার আশপাশে অনেক বেশি সাদা আঠালো কষ দেখা গেলে সেটি অপরিপক্ব অবস্থায় গাছ থেকে তোলা হয়ে থাকতে পারে। তাই এ ধরনের পেঁপে কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই করুন।

পেঁপের ঘ্রাণ শুঁকে দেখুন
পাকা পেঁপের একটি স্বাভাবিক মিষ্টি ও হালকা সুবাস থাকে। কেনার সময় বোঁটার কাছাকাছি অংশে নাক নিয়ে ঘ্রাণ নিতে পারেন। মিষ্টি ও সতেজ গন্ধ পেলে সেটি পাকা হওয়ার ভালো লক্ষণ হতে পারে। তবে কোনো ঘ্রাণ না থাকলে পেঁপেটি পুরোপুরি পাকা নাও হতে পারে। আবার অতিরিক্ত ঝাঁজালো, টক কিংবা পচা গন্ধ পাওয়া গেলে সেটি না কেনাই ভালো। কারণ, এমন গন্ধ ফল নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।

গায়ে কালচে দাগ বা ছিদ্র আছে কি না দেখুন
পেঁপের গায়ে ছোটখাটো দাগ থাকতেই পারে। তবে অতিরিক্ত কালচে দাগ, অস্বাভাবিক ছিদ্র কিংবা পচনের চিহ্ন থাকলে সেই ফল এড়িয়ে চলুন। এসব দাগের কারণে ফলের ভেতরে পোকা থাকা বা পচন ধরার আশঙ্কা থাকতে পারে। বিশেষ করে পেঁপের কোনো অংশ অস্বাভাবিকভাবে নরম, কালো বা ক্ষতিগ্রস্ত মনে হলে সেটি কেনা থেকে বিরত থাকুন। সামান্য দাগ থাকলে সমস্যা নাও হতে পারে, তবে ফলের সামগ্রিক অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

 আকার ও আকৃতি বুঝে বেছে নিন
পেঁপের জাতভেদে আকার ও আকৃতিতে পার্থক্য থাকে। তবে একই জাতের পেঁপে বাছাই করার সময় তুলনামূলক চিকন ও মাঝারি আকারের ফল বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন অভিজ্ঞ বিক্রেতারা। তাঁদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মোটা পেঁপের ভেতরের অংশ ফাঁপা থাকতে পারে এবং বীজের পরিমাণও বেশি হয়। এতে ওজন বেশি হলেও খাওয়ার উপযোগী অংশ তুলনামূলক কম পাওয়া যেতে পারে। তাই শুধু বড় আকার দেখে পেঁপে কেনা ঠিক নয়। বরং ফলের গঠন, ওজন ও অন্যান্য লক্ষণ মিলিয়ে বেছে নিন।

পেঁপের জাত ও উৎপাদন এলাকা জানুন
সব পেঁপের স্বাদ এক রকম হয় না। জাতভেদে পেঁপের মিষ্টতা, রং ও গঠনে পার্থক্য দেখা যায়। তাই পেঁপে কেনার সময় সম্ভব হলে বিক্রেতার কাছ থেকে জাত ও উৎপাদন এলাকা সম্পর্কে জেনে নিন। মিষ্টতার দিক থেকে থাই রেড লেডি জাতের পেঁপে বেশ পরিচিত। এর ভেতরের অংশ গাঢ় লালচে বা আগুনের মতো রঙের হয়। এরপর রয়েছে শাহি পেঁপে এবং বিভিন্ন দেশি জাত। ফল বিক্রেতা মিজান মিয়ার মতে, দেশের মধ্যে টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুর ও নওগাঁ অঞ্চলের পেঁপে ভালো মিষ্টি হয়।

বারান্দা বা ছাদেও চাষ করতে পারেন পেঁপে
বাজার থেকে পেঁপে কেনার ক্ষেত্রে সন্দেহ এড়ানোর আরেকটি উপায় হতে পারে বাড়িতেই ফলটি চাষ করা। পর্যাপ্ত রোদ পাওয়া যায়—এমন বারান্দা কিংবা ছাদে বড় টব, জিও ব্যাগ, হাফ ড্রাম বা বেডে পেঁপের গাছ লাগানো সম্ভব। দিনাজপুরের জুলহাশ আহমেদ রুবেল প্রায় ১০ বছর ধরে শাহি জাতের পেঁপে চাষ করছেন। ‘রুবেল মিয়ার পেঁপে চাষ’ নামে তাঁর একটি বইও রয়েছে। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী, বেলে দোআঁশ মাটির সঙ্গে ভার্মিকম্পোস্ট মিশিয়ে বড় টব বা উপযুক্ত পাত্র প্রস্তুত করতে হবে। এরপর সেখানে পেঁপের চারা রোপণ করে নিয়মিত পানি ও জৈব সার দিতে হবে। সঠিক পরিচর্যা পেলে ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই গাছে পেঁপে দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি। ফলে বাড়িতে পেঁপে চাষ করলে নিজের পছন্দমতো ফল সংগ্রহের পাশাপাশি বাজার থেকে ফল কেনার ঝামেলাও কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে বাজার থেকে পেঁপে কেনার সময় শুধু বাহ্যিক রং দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে গন্ধ, স্পর্শ, বোঁটা ও গায়ের অবস্থা—সবকিছু মিলিয়ে পরীক্ষা করুন। এতে ভালো মানের পাকা পেঁপে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

Link copied!