ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর অভিনেত্রীর বর্তমান অবস্থান নিয়ে দেখা দিয়েছে কৌতূহল। শোনা যাচ্ছে, তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। তবে দেশের বাইরে থাকার এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির এক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীমনির রহস্যময় একটি পোস্ট নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পরীমনি লিখেছেন, ‘যে মধুতে মরে, তারে বিষ দিতে নেই।’ সংক্ষিপ্ত এই বক্তব্যে কাকে উদ্দেশ করে কিংবা কোন পরিস্থিতির কথা বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি অভিনেত্রী। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরদিনই এমন পোস্ট আসায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানের গুঞ্জন, নিশ্চিত নয় ঠিকানা
আদালতের আদেশের পর থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে পরীমনির বর্তমান অবস্থান। শোনা যাচ্ছে, বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। তবে তাঁর বিদেশে অবস্থানের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি সত্যিই মালয়েশিয়ায় আছেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
এ অবস্থায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পরীমনি দেশে ফিরবেন কি না, কিংবা দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে নতুন মোড় আসবে কি না।
অসুস্থতার কারণে আদালতে অনুপস্থিত, বাতিল জামিন
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় বুধবার (৪ নভেম্বর) পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
ওই দিন মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি পরীমনি। তাঁর আইনজীবী অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে সময়ের আবেদন করেন। তবে আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুধু পরীমনি নন, একই মামলায় তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ফলে মামলার দুই আসামিই নতুন করে আইনি জটিলতার মুখে পড়েছেন।
পরোয়ানার পরদিনই রহস্যময় পোস্ট
আদালতের আদেশের পরদিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পরীমনির ফেসবুক পোস্টটি আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ‘যে মধুতে মরে, তারে বিষ দিতে নেই’—এমন বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা নিয়ে অনুসারীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
কেউ কেউ তাঁর পোস্টকে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। তবে এটি আদালতের আদেশের প্রতিক্রিয়া, নাকি ব্যক্তিগত কোনো অভিজ্ঞতা থেকে দেওয়া মন্তব্য, তা নিশ্চিত হওয়ার কোনো তথ্য নেই। অভিনেত্রীও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এর আগেও একই মামলায় হয়েছিল গ্রেফতারি পরোয়ানা
পরীমনির বিরুদ্ধে এই মামলায় আগেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। গত বছরের ২৬ জানুয়ারি একই মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সেদিনও তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
এবারও কি আগের মতো আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন পরীমনি, নাকি পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেবে, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়। তবে তাঁর বর্তমান অবস্থান ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
২০২১ সালে নাসির উদ্দিনের করা মামলা
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ দাবি করেন, সাভারের বোট ক্লাবে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরীমনি তাঁকে মারধর করেন। এ সময় তাঁর দিকে গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারার অভিযোগও করেন তিনি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বাড়তি কৌতূহল
অভিনয়জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বরাবরই আলোচনায় থাকেন পরীমনি। দুই সন্তানের মা এই অভিনেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তানদের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্ত নিয়মিত শেয়ার করেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টও প্রায়ই আলোচনার জন্ম দেয়।
এবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় তাঁর আইনি অবস্থান, বর্তমান অবস্থান এবং দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থানের গুঞ্জন এবং পরোয়ানার পরদিন দেওয়া রহস্যময় পোস্ট—দুটি বিষয়ই আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে পরীমনিকে ঘিরে এখন তিনটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—তিনি বর্তমানে কোথায়, কবে দেশে ফিরবেন এবং আদালতের আদেশের পর কী আইনি পদক্ষেপ নেবেন? আগেরবারের মতো আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন, নাকি এবার ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।
কালের আলো/এসএ/জেএন
