হলিউডে ব্লকবাস্টার সিনেমা নির্মাণের স্বপ্ন বহুদিনের। বড় বাজেট, জনপ্রিয় তারকা কিংবা চোখধাঁধানো প্রযুক্তি—সবকিছু একসঙ্গে থাকলেও প্রতিটি সিনেমা বক্স অফিসে সফল হয় না। আবার কোনো কোনো সিনেমা বিশ্বজুড়ে এমন ব্যবসা করে, যা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ে।
১৯৭৫ সালে স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘জস’ উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে ১০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছিল। এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী বিপুল আয় করা বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম লক্ষ্য হয়ে ওঠে।
তবে একটি সিনেমা কীভাবে শতকোটি ডলারের ব্যবসা করে, তার কোনো নির্দিষ্ট সূত্র নেই। ফোর্বসের বিনোদনবিষয়ক লেখক টিম ল্যামারসের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমাগুলোর সাফল্যের পেছনে দর্শকের সঙ্গে গল্পের সংযোগ, পরিচিত চরিত্রের আকর্ষণ, আবেগ এবং দর্শনীয় নির্মাণশৈলী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা ১০ সিনেমা
মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে টিকিটের দাম সমন্বয় না করে বিশ্বব্যাপী বক্স অফিস আয়ের হিসাবে সর্বোচ্চ আয় করা ১০ সিনেমার তালিকায় আটটির আয় ২০০ কোটি ডলারের বেশি। বাকি দুটি সিনেমাও এই মাইলফলকের কাছাকাছি।
তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’। এরপর রয়েছে ‘অ্যাভাটার’ ও ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। সর্বোচ্চ আয় করা ১০ সিনেমার তালিকাটি হলো—
1\. ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ (২০১৯)—২৯৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।
2\. ‘অ্যাভাটার’ (২০০৯)—২৯২ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
3\. ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ (২০২৬)—২৫১ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
4\. ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ (২০২২)—২৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
5\. ‘নে ঝা ২’ (২০২৫)—২২৭ কোটি ডলার।
6\. ‘টাইটানিক’ (১৯৯৭)—২২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
7\. ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স’ (২০১৫)—২০৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।
8\. ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ (২০১৮)—২০৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।
9\. ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ (২০২১)—১৯২ কোটি ১০ লাখ ডলার।
10\. ‘জুটোপিয়া ২’ (২০২৫)—১৮৭ কোটি ডলার।
শীর্ষে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’
সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’। অ্যান্থনি ও জো রুশো পরিচালিত সিনেমাটি ছিল মার্ভেলের মূল অ্যাভেঞ্জারদের দীর্ঘদিনের গল্পের গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি। এতে অভিনয় করেছেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, ক্রিস ইভানস, ক্রিস হেমসওয়ার্থ ও স্কারলেট জোহানসনের মতো তারকারা।
২০১৮ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’-এর শেষে থানোসের এক আঙুলের চুটকিতে মহাবিশ্বের অর্ধেক প্রাণী বিলীন হয়ে যায়। সেই ঘটনার পাঁচ বছর পরের কাহিনি নিয়ে নির্মিত হয় ‘এন্ডগেম’। হারিয়ে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনতে অ্যাভেঞ্জাররা শুরু করে সময়ভ্রমণের বিপজ্জনক অভিযান।
সিনেমাটির সাফল্যের বড় কারণ ছিল দর্শকের দীর্ঘদিনের আবেগ ও অপেক্ষা। ২০০৮ সালে ‘আয়রন ম্যান’ দিয়ে যে গল্পের সূচনা হয়েছিল, এক দশকের বেশি সময় ধরে সেই গল্পের সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন দর্শকেরা। ফলে প্রিয় চরিত্রগুলোর বিদায়, ত্যাগ ও আবেগঘন পরিণতি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করেন তাঁরা। যদিও মার্ভেল আবারও অ্যাভেঞ্জারদের পর্দায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে। আসছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’।
‘অ্যাভাটার’ বদলে দিয়েছিল সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা
জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার’ মুক্তি পায় ২০০৯ সালে। কাল্পনিক গ্রহ প্যান্ডোরার পটভূমিতে নির্মিত সিনেমাটিতে দেখা যায়, সাবেক সেনাসদস্য জেক সালি সেখানে গিয়ে ভিন্ন এক জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। নাভি জনগোষ্ঠীর সদস্য নেইতিরির প্রেমে পড়ে বদলে যায় তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। একপর্যায়ে পৃথিবীর মানুষের লোভ ও প্যান্ডোরার প্রাকৃতিক সম্পদ দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তিনি।
‘টাইটানিক’-এর পর এই সিনেমার মাধ্যমে আবারও বড় বাজেটের চলচ্চিত্র নির্মাণে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন ক্যামেরন। তবে শুধু গল্প নয়, ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ও চোখধাঁধানো দৃশ্যও দর্শকদের আকৃষ্ট করেছিল। বড় পর্দায় নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম হয়েছিল ছবিটি। বাড়তি টিকিটের দাম দিয়েও দর্শকেরা সিনেমাটি দেখতে আগ্রহী হয়েছিলেন।
১৩ বছর পর মুক্তি পায় ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’। এবার প্যান্ডোরার জলজ পরিবেশ ও মেটকায়িনা জনগোষ্ঠীকে ঘিরে এগিয়েছে গল্প। প্রথম সিনেমার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সিক্যুয়েলটিও বিশ্বব্যাপী ২৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করে।
চীনা অ্যানিমেশনের অভাবনীয় সাফল্য
তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে চীনা অ্যানিমেশন সিনেমা ‘নে ঝা ২’। ইউ ইয়াং পরিচালিত ছবিটি ২০১৯ সালের ‘নে ঝা’র সিক্যুয়েল। চীনা পুরাণের জনপ্রিয় চরিত্র নে ঝাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে অ্যাকশন ও ফ্যান্টাসিনির্ভর সিনেমাটি।
বিশ্বব্যাপী ২২৭ কোটি ডলার আয় করা ছবিটির সাফল্যের মূল উৎস চীনের বাজার। মোট আয়ের প্রায় ২২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার এসেছে দেশটি থেকে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় ছিল মাত্র ২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের মতো।
হলিউডের বাইরের একটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পুরাণভিত্তিক অ্যানিমেশনও যে বিশ্ব বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য পেতে পারে, তার বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে ‘নে ঝা ২’।
তালিকায় ব্যতিক্রম ‘টাইটানিক’
সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার তালিকায় ‘টাইটানিক’ কিছুটা ব্যতিক্রম। অন্য ছবিগুলোর অধিকাংশই কল্পবিজ্ঞান, সুপারহিরো কিংবা ফ্যান্টাসিনির্ভর। কিন্তু জেমস ক্যামেরনের ১৯৯৭ সালের এই সিনেমার গল্পের ভিত্তি বাস্তব একটি ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা।
লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও ও কেট উইন্সলেট অভিনীত ছবিটিতে জ্যাক ও রোজের প্রেমের গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ১৯১২ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া টাইটানিক জাহাজের মর্মান্তিক ঘটনা। শ্রেণিবৈষম্য, প্রেম, বিচ্ছেদ ও মৃত্যুর মতো সর্বজনীন আবেগ ছবিটিকে দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। ১১টি অস্কারজয়ী সিনেমাটি শিল্প ও বাণিজ্য—দুই ক্ষেত্রেই বিরল সাফল্য পেয়েছে। তালিকার শীর্ষ ১০ সিনেমার মধ্যে একমাত্র ‘টাইটানিক’ই সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে অস্কার জিতেছে।
পরিচিত চরিত্র ও গল্পই কি সাফল্যের চাবিকাঠি?
সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমাগুলোর তালিকা বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ‘টাইটানিক’ বাদে বাকি সিনেমাগুলো কোনো না কোনো জনপ্রিয় ঘরানা কিংবা পরিচিত গল্পের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে আটটি ছবিই আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ।
সুপারহিরো সিনেমার আধিপত্যও চোখে পড়ার মতো। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ ও ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’—চারটি সিনেমাই এই ঘরানার।
পরিচিত চরিত্র ও গল্পের প্রতি দর্শকের আগ্রহকে কাজে লাগাতে চায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ, শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করে সম্পূর্ণ নতুন গল্প ও চরিত্র নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে প্রতিষ্ঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন কিস্তি নির্মাণকে তুলনামূলক নিরাপদ মনে করা হয়।
তবে শুধু পরিচিত চরিত্র থাকলেই সিনেমা সফল হয় না। দর্শকের সঙ্গে গল্পের আবেগের সংযোগ তৈরি করাও জরুরি। পর্দার চরিত্রগুলোর আনন্দ-বেদনার সঙ্গে দর্শক একাত্ম হতে পারলে সিনেমাটি মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। এমনকি সেই অভিজ্ঞতা আবারও পেতে প্রেক্ষাগৃহে ফিরে আসেন অনেকে।
সুপারহিরো সিনেমায় ক্লান্তি, তবু আশা ছাড়ছে না হলিউড
‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ মুক্তির পর সুপারহিরো সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহে কিছুটা ভাটা পড়ে। চলচ্চিত্রবিশ্বে এই প্রবণতা পরিচিত ‘সুপারহিরো ফ্যাটিগ’ নামে। একের পর এক সুপারহিরো সিনেমা মুক্তি পেলেও আগের মতো সাফল্য পাচ্ছে না অনেক ছবিই।
২০১৯ সালের পর ডিজনির প্রযোজিত মার্ভেল সিনেমাগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করতে পেরেছে মাত্র একটি—২০২৪ সালের ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’। সিনেমাটি আয় করে ১৩৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
অবশ্য ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস’ ও ‘ব্ল্যাক প্যান্থার: ওয়াকান্ডা ফরএভার’-এর মতো সিনেমাও ভালো ব্যবসা করেছে। তবু সামগ্রিকভাবে মার্ভেলের আগের সাফল্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এখন মার্ভেলের ভরসা আবারও পরিচিত তারকারা। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ সিনেমায় ফিরছেন আগের অ্যাভেঞ্জারদের অনেকেই। এই সিনেমা সুপারহিরো ঘরানার হারানো জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে পারে কি না, তা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে।
বড় বাজেট নয়, কম বাজেটেও মিলছে সাফল্য
বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণ করলেই যে বক্স অফিসে সাফল্য আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। জেমস ক্যামেরন ও ক্রিস্টোফার নোলানের মতো নির্মাতারা একাধিকবার প্রমাণ করেছেন, দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনার জন্য গল্প ও নির্মাণশৈলীর গুরুত্ব কতটা।
অন্যদিকে তারকা থাকলেই সিনেমা সফল হবে, সেই ধারণাও এখন আর নিশ্চিত নয়। ২০২৬ সালে টম ক্রুজ অভিনীত ব্যঙ্গধর্মী সিনেমা ‘ডিগার’ বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।
এর বিপরীতে কম বাজেটের সিনেমাও যে বিপুল ব্যবসা করতে পারে, তার উদাহরণ হরর ছবি ‘অবসেশন’। কারি বার্কার পরিচালিত সিনেমাটির নির্মাণ ব্যয় ছিল মাত্র ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রায় দেড় কোটি ডলারে কিনে নেয় ফোকাস ফিচার্স। মুক্তির পর উত্তর আমেরিকায় ২৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় ২৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলার আয় করে। বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ৫২ কোটি ডলার।
একইভাবে কেন পারসনসের স্বল্প বাজেটের হরর ছবি ‘ব্যাকরুমস’ নির্মাণে খরচ হয়েছিল ১ কোটি ডলার। বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় দাঁড়ায় ৪০ কোটি ডলার।এই দুই সিনেমার নির্মাতারই ইউটিউবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে আগে থেকে দর্শক তৈরি হয়েছিল। সেই দর্শকেরাই পরে তাঁদের সিনেমা দেখতে প্রেক্ষাগৃহে গেছেন। অর্থাৎ নতুন গল্পের পাশাপাশি নতুন নির্মাতারাও দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করছেন।
সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমাগুলোর তালিকা একটি বিষয়ই সামনে আনে—বক্স অফিসে সাফল্যের কোনো বাঁধাধরা সূত্র নেই। পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি, জনপ্রিয় তারকা, বড় বাজেট কিংবা চোখধাঁধানো ভিজ্যুয়াল—কোনোটিই এককভাবে সাফল্যের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। শেষ পর্যন্ত দর্শকের সঙ্গে গল্পের সংযোগ তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি সিনেমা মানুষকে আনন্দ দিতে পারলে, আবেগে নাড়া দিতে পারলে কিংবা নতুন অভিজ্ঞতা দিতে পারলে তবেই তৈরি হয় বড় সাফল্যের সম্ভাবনা।
কালের আলো/এসএ/জেএন
