Kaler Alo
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
২০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

মহাকাব্য ‘রামায়ণ’ নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বলিউড

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

মহাকাব্য ‘রামায়ণ’ নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বলিউড

ভারতীয় মহাকাব্য ‘রামায়ণ’ নিয়ে নতুন সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা আসার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ছিল নানা সংশয়। বিশেষ করে ‘আদিপুরুষ’ সিনেমার হতাশাজনক অভিজ্ঞতার পর নতুন করে রামায়ণ দেখানোর চ্যালেঞ্জ ছিল নির্মাতাদের সামনে। তবে প্রযোজক নামিত মালহোত্রা ও পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির বহুল আলোচিত সিনেমা ‘রামায়ণ: পার্ট ১’ সেই সংশয় কাটিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও রাবণের চরিত্রে দক্ষিণী তারকা যশের অভিনয় সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশাল আয়োজন, নান্দনিক দৃশ্যায়ন ও আবহসংগীতের সমন্বয়ে মহাকাব্যটিকে নতুনভাবে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন নির্মাতারা।

হলিউডের বিশাল আয়োজনের সঙ্গে ভারতীয় ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি সিনেমাটিকে প্রথাগত পৌরাণিক চলচ্চিত্রের ছাঁচ থেকে বের করে আন্তর্জাতিক মানের দৃশ্যায়নে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। ‘গেম অব থ্রোনস’ ও ‘লর্ড অব দ্য রিংস’-এর মতো বড় ক্যানভাসের প্রভাবের পাশাপাশি অমর চিত্রকথা ও রাজা রবি বর্মার শিল্পশৈলীর অনুপ্রেরণাও রয়েছে সিনেমাটির সাজসজ্জায়।

একই সঙ্গে রামানন্দ সাগরের জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘রামায়ণ’-এর আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। ফলে পুরোনো প্রজন্মের দর্শকদের পরিচিত আবহের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের জন্যও তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা।

রণবীর-সাইয়ের অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শক
রামের চরিত্রে রণবীর কাপুরের অভিনয় নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে। সিনেমার প্রথম দিকে তাঁর চরিত্রের শান্ত স্বভাব ফুটে উঠলেও বনবাসের পর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে নতুন রূপে দেখা যায় তাঁকে। ধনুক হাতে রাক্ষস বধ এবং বনাঞ্চলের বিভিন্ন লড়াইয়ের দৃশ্যগুলো সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

অন্যদিকে সীতার চরিত্রে সাই পল্লবীর স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত অভিনয়ও প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে রাবণরূপী যশের মুখোমুখি হওয়ার দৃশ্য এবং লক্ষ্মণরেখা ঘিরে ঘটনাপ্রবাহে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছে।

রাবণের চরিত্রে যশের উপস্থিতি
রাবণের চরিত্রে যশের উপস্থিতি সিনেমাটির অন্যতম আলোচিত দিক। দক্ষিণী সিনেমায় শক্তিশালী পর্দা-উপস্থিতির জন্য পরিচিত এই অভিনেতাকে এবার দেখা গেছে পৌরাণিক চরিত্রে। রণবীর ও সাই পল্লবীর পাশাপাশি তাঁর অভিনয়ও সিনেমাটির আকর্ষণ বাড়িয়েছে। এ ছাড়া অরুণ গোভিল, লারা দত্ত, সানি দেওল ও রবি দুবের মতো পরিচিত তারকাদের উপস্থিতি সিনেমাটিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

আবহসংগীতে হ্যান্স জিমার ও এ আর রহমান
সিনেমাটির আরেকটি বড় আকর্ষণ আবহসংগীত। অস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক হ্যান্স জিমার ও এ আর রহমানের যৌথ সংগীতায়োজন সিনেমার দৃশ্যগুলোকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে বলে রিভিউতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে বড় পর্দায় যুদ্ধ, আবেগ ও পৌরাণিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংগীতের ব্যবহার দর্শকদের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছে।

ধর্মীয় আবেগে সংযম, গল্পে গুরুত্ব
সিনেমাটির প্রশংসিত দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে মূল কাহিনির ভক্তি ও আবেগ ধরে রাখার চেষ্টা। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উগ্রতার পরিবর্তে নির্মাতারা গল্পের মূল আবেদনকে গুরুত্ব দিয়েছেন বলে রিভিউতে বলা হয়েছে। আক্রমণাত্মক স্লোগানের বদলে সিনেমার আবহে প্রাধান্য পেয়েছে শান্ত ও মধুর ‘জয় সিয়া রাম’ ধ্বনি।

প্রথমার্ধে অযোধ্যার রাজকীয় পরিবেশ ও চরিত্রগুলোর সঙ্গে পরিচিত হতে কিছুটা সময় লাগলেও বনবাসের ঘটনাপ্রবাহ শুরু হওয়ার পর সিনেমার গতি বাড়ে। বিশেষ করে আরণ্যকাণ্ডের দৃশ্যগুলো দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রথম পর্বের এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পর এখন দর্শকদের অপেক্ষা দ্বিতীয় পর্বের জন্য। আগামী দীপাবলিতে মুক্তির পরিকল্পনা থাকা পরবর্তী পর্ব বক্স অফিসে কতটা সাড়া ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ/এএইচ
 

Link copied!