Kaler Alo
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

স্টুডিও ভাঙার পর ব্যক্তিগত সংকট, বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন সালমান

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

স্টুডিও ভাঙার পর ব্যক্তিগত সংকট, বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন সালমান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘গ্যাপ’। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে মুক্তির অনুমতিও পেয়েছে ছবিটি। শনিবার ( ৩১ অক্টোবর ) ঢাকার মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্সে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির।

প্রদর্শনী শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সালমান। এ সময় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, সরকারের ভূমিকা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিজের ব্যক্তিগত সংকট এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারকে কিছু বলার সুযোগ পাননি সালমান
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালমান মুক্তাদির বলেন, সরকারকে কিছু বলার মতো কোনো সুযোগ এখনো তাঁকে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাননি তিনি। সালমানের ভাষায়, তাঁকে কথা বলার সুযোগই যদি দেওয়া না হয়, তাহলে নিজের মতামত জানালেও তা শোনার মতো পরিবেশ তৈরি হবে না বলে মনে করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

তাঁর মতে, এ বিষয়ে যাঁদের কথা বলা উচিত, তাঁদেরই কথা বলা প্রয়োজন। সাধারণ নাগরিক হিসেবে মানুষ কেবল পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা নিতে পারে। সেই অভিজ্ঞতা ভালো কিংবা খারাপ—দুই ধরনেরই হতে পারে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু বললেন কি না, তাতে বাস্তবে খুব বেশি পার্থক্য তৈরি হয় না। বড়জোর কিছু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ হয় কিংবা সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

মানুষকে নতুন করে চাপে ফেলতে চান না
দেশের মানুষের জন্য নতুন কোনো বার্তা দিতে চান কি না, এমন প্রশ্নে সালমান বলেন, আপাতত নতুন করে কোনো বার্তা দেওয়ার ইচ্ছা নেই তাঁর। কারণ, আগের নানা বার্তা ও পরিস্থিতি মিলিয়ে মানুষের মধ্যে একধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। এ অবস্থায় নতুন করে কিছু বলে মানুষকে আরও চাপের মধ্যে ফেলতে চান না তিনি। তাঁর মতে, মানুষের মধ্যে জমে থাকা হতাশা ও মানসিক চাপের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময় পার করছেন
স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে কেমন আছেন, সে বিষয়েও কথা বলেন সালমান। নিজের পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতিকে করুণ উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁরা একটি বড় বিপদ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।

এ ঘটনায় তাঁর কষ্ট হয়েছে, ক্ষতিও হয়েছে—এ কথা স্বীকার করলেও বিষয়টি নিয়ে বসে থেকে দুঃখ প্রকাশ করতে চান না তিনি। বরং পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী সালমান। তিনি বলেন, জীবনে ভালো কিছু পেতে চাইলে খারাপ সময়ের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হয়। প্রতিকূল পরিস্থিতি এলে অভিযোগ করে বসে না থেকে তা অতিক্রম করার চেষ্টা করতে হবে।

জীবনসঙ্গীর সহযোগিতা দুজনের জন্যই জরুরি
নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রীর সহযোগিতা প্রসঙ্গে সালমান জানান, তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পান। তাঁর মতে, একটি সম্পর্কের সফলতা কখনোই একজনের প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করে না। স্বামী কিংবা স্ত্রী—দুজনকেই সমানভাবে একে অপরের পাশে থাকতে হয়। সালমানের ভাষায়, জীবনসঙ্গীরা একে অপরকে সহযোগিতা না করলে কারও একার পক্ষে বড় হওয়া সম্ভব নয়। একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা এবং এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুজনেরই সমান ভূমিকা রয়েছে।

অভিযোগ ও বিতর্ক সামলানো নিয়ে যা বললেন
তাঁকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে শ্বশুরের নাম উঠে আসার বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে সালমান বলেন, ঘটনাটি ঘটার পর পুরো বিষয়টি জানার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বসে কথা বলার সুযোগ তিনি পাননি। তিনি দাবি করেন, তাঁকে দোষারোপ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামনে বসিয়ে কথা বললে বিষয়টি সমাধানের সুযোগ থাকত।

এ ধরনের ঘটনা একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ছাড়াও তাঁর পেশাগত সুনাম ও ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন সালমান। তিনি বলেন, নিজের মানসিক শক্তির কারণে পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন। কিন্তু অনেক মানুষ এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারেন না। তাঁদের জীবন, সুনাম ও ক্যারিয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে এমন ঘটনায় সবার দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ করে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটি কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

খ্যাতির ভালো-মন্দ দুটো দিকই মেনে নিতে হবে
জনপ্রিয়তা ও নেতিবাচক পরিস্থিতি সামলানোর বিষয়ে সালমান বলেন, একজন মানুষ যখন ক্যামেরার সামনে এসে পরিচিতি পান, তাঁর অনুসারী বাড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তিনি জনপ্রিয়তা, অর্থ ও খ্যাতির ভালো দিকগুলো উপভোগ করতে চান। কিন্তু এর পাশাপাশি নেতিবাচক পরিস্থিতিও আসতে পারে। শুধু ভালো দিক গ্রহণ করে খারাপ দিক এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, পৃথিবীর নিয়মই এমন যে জীবনে সব সময় ভালো কিছু ঘটবে না। অন্য যেকোনো বিপদের মতো খারাপ সময়ও মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশে আর বিনিয়োগ করতে চান না
স্টুডিও ভাঙার ঘটনার পর দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা এবং বাংলাদেশে থেকে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সালমান জানান, দেশে থাকার পরিকল্পনা তাঁর আগে থেকেই ছিল না। স্টুডিও ভাঙার ঘটনার পর তিনি বাংলাদেশে আর স্টুডিও পরিচালনা করবেন না বলেও জানিয়েছিলেন। সালমান স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশে আর বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নেই তাঁর। এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে আগেও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন তিনি।

কালের আলো/এসএ/জেএন

Link copied!