Kaler Alo
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
২০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

যশোর সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম

গাছ কমছে, হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির আবাস

যশোর সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম

গাছ কমছে, হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির আবাস

একসময় গ্রামবাংলার তাল, খেজুর ও নারকেলগাছের ডালে সারি সারি ঝুলে থাকত বাবুই পাখির বাসা। ঘাস, খড় ও গাছের নরম আঁশ দিয়ে নিপুণ বুননে তৈরি সেই বাসাগুলো বাতাসে দুলত। প্রকৃতির এই অপূর্ব দৃশ্য ছিল গ্রামীণ জীবনের পরিচিত অংশ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে সেই চিত্র। গাছপালা কমে যাওয়া, নিরাপদ আবাসস্থলের সংকট ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে ক্রমেই কমে যাচ্ছে বাবুই পাখির সংখ্যা। হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃতির এই দক্ষ কারিগরের বুননশিল্পও।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ও সিদ্দিপাশা ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে এখনো কিছু গাছের ডালে বাবুই পাখির বাসা দেখা যায়। তবে স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিতে থাকা আগের সেই দৃশ্য আর নেই। একসময় গ্রামের তাল, খেজুর ও নারকেলগাছের পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা, মাঠের পাশ এবং রাস্তার ধারের গাছেও দেখা মিলত অসংখ্য বাবুইয়ের বাসা। এখন সেসব জায়গায় বাসার সংখ্যা অনেক কমে এসেছে।

নিপুণ বুননে তৈরি হয় বাবুইয়ের বাসা
বাবুই পাখির বাসা তৈরির কৌশল অন্য অনেক পাখির চেয়ে আলাদা। পুরুষ বাবুই ঘাস, খড় ও গাছের নরম আঁশ সংগ্রহ করে ঠোঁটের সাহায্যে নিপুণভাবে বাসা বোনে। বাসার প্রবেশপথও এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে শিকারি প্রাণী সহজে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। বাসা তৈরির এই অসাধারণ দক্ষতার কারণেই বাবুই পাখি ‘প্রকৃতির তাঁতি’ বা ‘শিল্পী পাখি’ নামে পরিচিত।

তবে এই শিল্পী পাখির টিকে থাকার পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মাহাবুব হাজরার মতে, গাছ কেটে ফেলা, কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, খাবারের সংকট এবং নিরাপদ আবাসস্থল কমে যাওয়ায় বাবুই পাখির সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এর ফলে শুধু একটি পাখির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ছে না, হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

আবাসস্থল রক্ষার পাশাপাশি গাছ লাগানোর দাবি
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধু পাখির সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেই এ সংকটের সমাধান হবে না। বাবুই পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করাও জরুরি। অভয়নগরের পাচুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী বলেন, পাখি শিকার বন্ধ করার পাশাপাশি তাদের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশ ও গ্রামের বিভিন্ন স্থানে তাল, খেজুর, নারকেলসহ দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগাতে হবে। একই সঙ্গে বাবুইয়ের বাসা নষ্ট না করার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

পায়রা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ আলম বলেন, ‘বাবুইয়ের বাসা শুধু একটি পাখির আবাস নয়, এটি গ্রামবাংলার প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। তাই যেসব এলাকায় এখনো বাসা রয়েছে, সেসব এলাকা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

আবাসস্থল সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস
স্থানীয়দের এসব দাবির বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দিন দীপু বলেন, বাবুই পাখির আবাসস্থল যেন ধ্বংস না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাখিটির স্বাভাবিক জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাবুই পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণ, দেশীয় গাছ রোপণ ও পাখি শিকার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত উদ্যোগে আবারও গ্রামের গাছের ডালে ফিরে আসবে বাবুইয়ের ঝুলন্ত বাসা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

Link copied!