জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) রাজশাহী ভেন্যুতে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের মধ্যকার চার দিনের ম্যাচের প্রথম দুই দিন বৃষ্টির কারণে একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। অবশেষে তৃতীয় দিনে খেলা শুরু হলে ৭০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৬ রান সংগ্রহ করেছে বরিশাল বিভাগ। দুই দিন খেলা না হওয়ায় ম্যাচটি কার্যত দুই দিনে নেমে এসেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) পঞ্চম পর্বের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বরিশালের অধিনায়ক ইফতি। শুরুতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও শেষ দিকে আব্দুল্লাহ ও তানভিরের ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি।
দলীয় ২৯ রানে ব্যক্তিগত ২০ রান করে সাজঘরে ফেরেন উদ্বোধনী ব্যাটার জায়াদ আবরার। শাকিলের বলে তৌফিকের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর অধিনায়ক ইফতি ও রাফসান জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। দলীয় ৫৭ রানে ১৭ রান করে আমিনুলের বলে শাকিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রাফসান। অধিনায়ক ইফতিও ব্যক্তিগত ৪৭ রান করে উইকেটরক্ষক শিবলীর হাতে ধরা পড়েন।
একপর্যায়ে ১৫৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বরিশাল। তবে ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দলের হাল ধরেন আব্দুল্লাহ। ১০১ বলে ৬২ রান করে তিনি অপরাজিত রয়েছেন। অন্য প্রান্তে তানভির ১৯ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। ব্যাট হাতে ঝড়ো মেজাজে দেখা যায় তানভিরকে। তাইবুরের এক ওভারে টানা তিনটি ছক্কা হাঁকান তিনি।
ঢাকার বোলারদের সাফল্য
ঢাকার বোলারদের মধ্যে বিপ্লব ৫৯ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। তৌফিক ৪৪ রানে ২টি উইকেট শিকার করেন। এ ছাড়া সুমন, শাকিল ও আনামুল একটি করে উইকেট নেন।
আলোর স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের ২২ মিনিট আগেই তৃতীয় দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। ফলে ৭০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ২৬৬ রান নিয়ে দিন শেষ করে বরিশাল।
ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড ভেজা থাকায় প্রথম দুই দিন খেলা আয়োজন সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে স্টেডিয়ামের কিউরেটর গোলাম রসুল রতন বলেন, টানা দুই থেকে তিন দিন মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় মাঠের আউটফিল্ডে পানি জমে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি সরতে ও মাঠ শুকাতে সময় লেগেছে। এক দিন বৃষ্টি হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ক্রিকেটারদের চোটের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আম্পায়াররা প্রথম দুই দিন খেলা শুরু করেননি।
ঢাকা দলের কোচ মিজানুর রহমান বাবুল বলেন, মাঠে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় আউটফিল্ড শুকাতে সময় লেগেছে। এ পরিস্থিতিতে কিছু করার নেই, ভাগ্য মেনে নিতে হবে। সাধারণত এ সময়ে বৃষ্টি হয় না, কিন্তু এবার হয়েছে। দুই দিনে ম্যাচের ফল আসার সম্ভাবনা কম বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দল ভালো অবস্থানে ছিল এবং ম্যাচে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন।
অন্যদিকে বরিশালের কোচ আব্দুল করিম জুয়েল বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের মাঠের আউটফিল্ড শুকাতে অনেক সময় লাগে। পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে না, মাঠেই জমে থাকে।
প্রথম দুই দিন বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকায় ম্যাচের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন বাকি সময়ের খেলায় দুই দল কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি
