Kaler Alo
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

স্পোর্টস ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

কেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ?

স্পোর্টস ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

কেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ?

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। একই সঙ্গে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট থেকেও বিদায় নিচ্ছেন তিনি। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন এই তারকা। ২০২৭-২৮ মৌসুম পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করায় মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) খেলতে দেখা যাবে তাঁকে।

‘বিগ শো’ নামে পরিচিত ম্যাক্সওয়েল গত বছর জুনে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন। তবে চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন তিনি। সেই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া। পাল্লেকেল্লেতে ওমানের বিপক্ষে ম্যাচটিই হয়ে থাকল জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

অবসরের সিদ্ধান্তে ছিল না কোনো চাপ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘ফাইনাল ওয়ার্ড’ পডকাস্টে কথা বলেছেন ম্যাক্সওয়েল। তিনি জানান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ও পরে অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে এ বিষয়ে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। তবে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ওপর কোনো চাপ ছিল না।

ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এবং পরে আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। আর বিষয়টি বেশ খোলামেলা ছিল। ওই দিক থেকে (অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট) কোনো চাপ ছিল না। সামনে কয়েকটি সিরিজ ছিল, যেখানে তারা ভবিষ্যতের কথা ভেবে দল সাজাতে চেয়েছে। আমরা বাংলাদেশে সেটাই দেখেছি, যেখানে তরুণরা সুযোগ পেয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করেছে।’ দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টি তাঁর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

তিনটি বিশ্বকাপজয়ী ক্যারিয়ারের সমাপ্তি
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। ২০১৫ ও ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি।

ব্যাট হাতে উদ্ভাবনী শট খেলা, দ্রুত রান তোলা এবং প্রয়োজনে কার্যকর স্পিন বোলিং—সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ম্যাক্সওয়েল। তবে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষটা নিজের পছন্দমতো করতে না পারার আক্ষেপ রয়ে গেছে তাঁর।

এমসিজিতে বিদায়ী ম্যাচ খেলার স্বপ্ন অপূর্ণ
নিজের হোম ভেন্যু মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) অস্ট্রেলিয়ার হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামার ইচ্ছা ছিল ম্যাক্সওয়েলের। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) একটা বিদায়ী ম্যাচ খেলার ছোট্ট আশা বা আলোচনা ছিল। তবে এই দলটা যে পথ ধরে এগোচ্ছে, তা আমি বুঝতে পারছি।’

২০২৮ সালের অলিম্পিককে সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়া দল নতুন খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। ম্যাক্সওয়েলের ভাষ্য, আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসে দলে অনেক পরিবর্তন আসতে পারে। তাই তরুণদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া জরুরি।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে থাকছেন ম্যাক্সওয়েল
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও এখনই ব্যাট-প্যাড তুলে রাখছেন না ম্যাক্সওয়েল। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। গত সেপ্টেম্বরে ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে বেলফাস্ট উলভসকে ফাইনালে নেতৃত্ব দেন তিনি। এরপর ওয়ানডে কাপে ভিক্টোরিয়ার হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেন।

ভিক্টোরিয়ার হয়ে শেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলার পর সতীর্থদের বিদায় জানানোর অভিজ্ঞতাও সহজ ছিল না তাঁর জন্য। এ প্রসঙ্গে ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘ভিক্টোরিয়ার হয়ে শেষ ওয়ানডে ম্যাচের পর সতীর্থদের জানানো যে সেটাই ওই দলটির হয়ে আমার শেষ ম্যাচ—বিষয়টি আমার ভাবনার চেয়েও কঠিন ছিল। হ্যাঁ, সবার সামনে কথা বলতে গিয়ে আমার গলা কিছুটা ধরে এসেছিল।’ ক্যারিয়ারের বাকি টুর্নামেন্টগুলো ভালোভাবে শেষ করতে শরীরের প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিদায়ের ইচ্ছাও পূরণ হয়নি
চলতি মাসে সাদা বলের সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে ইংল্যান্ড। মেলবোর্নে দুই দলের একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ইচ্ছা ছিল ম্যাক্সওয়েলের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সুযোগটা ছিল, তবে আমি বিগ ব্যাশের জন্য তৈরি হতে হাঁটুতে ইনজেকশন নিতেও প্রস্তুত ছিলাম। তাই দুই দিকেই ইতিবাচক ব্যাপার ছিল। আর দরজাটা (মেলবোর্নে খেলার) বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ারও সুযোগ পেয়েছি।’

বিদায়ের মুহূর্ত নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ম্যাক্সওয়েলের ভাষায়, ‘হিরো বা আইডলদের ক্ষেত্রে যেমন রূপকথার মতো শেষ হতে দেখা যায়, হয়তো মনের অজান্তে আমার মাথায়ও তেমন একটা ভাবনা এসেছিল। ১৫ বছর ধরে এই সংস্করণকে যেহেতু নিজের মনে হয়েছে, তাই অন্য কোনো সংস্করণে নয়, শুধু এটার জন্যই হয়তো আমি এমন একটা বিদায়ের কথা ভেবেছিলাম।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সমৃদ্ধ পরিসংখ্যান
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৩০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। ১৫৪.৪২ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ২ হাজার ৮৯৭ রান। এই সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তাঁর অবস্থান তৃতীয়। বল হাতে নিয়েছেন ৫১টি উইকেট।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর সেঞ্চুরি পাঁচটি, যা ভারতের রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্ব রেকর্ড। সাতটি টেস্টে একটি সেঞ্চুরিসহ করেছেন ৩৩৯ রান। আর ১৪৯টি ওয়ানডেতে চারটি সেঞ্চুরি ও ৩৩.৮১ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ৩ হাজার ৯৯০ রান।

অভিনব ব্যাটিং, অবিশ্বাস্য শট এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্যের জন্য দীর্ঘদিন ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে জায়গা করে থাকবেন ম্যাক্সওয়েল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অধ্যায় শেষ হলেও বিগ ব্যাশসহ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁর উপস্থিতি দেখার সুযোগ থাকছে ভক্তদের।

কালের আলো/এসএ/আরআইকে

Link copied!