Kaler Alo
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

ফুটবলারদের অদ্ভুত চুক্তির শর্তগুলো জানেন?

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

ফুটবলারদের অদ্ভুত চুক্তির শর্তগুলো জানেন?

ফুটবল মাঠে গোল করা, দলকে জেতানো কিংবা শিরোপা এনে দেওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। নিয়মিত অনুশীলন, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে শরীরের ফিটনেস ধরে রাখতে নানা বিধিনিষেধ মেনে চলেন তাঁরা। তবে ক্লাবের সঙ্গে চুক্তির সময় তাঁদের কিছু আবদার শুনলে অবাক হতে হয়। কারও চুক্তিতে রয়েছে ব্যক্তিগত বিমানের সুবিধা, কেউ চেয়েছেন প্রতিবছর একটি করে বাড়ি। আবার কারও চুক্তিতে এমন শর্তও ছিল, মহাকাশে চলে গেলে ক্লাব চুক্তি বাতিল করতে পারবে! ফুটবলের ইতিহাসে খেলোয়াড়দের এমন কিছু অদ্ভুত চুক্তির শর্ত রয়েছে, যেগুলো মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মহাকাশে গেলেই চুক্তি বাতিল
১৯৯৯ সালে ভ্যালেন্সিয়া থেকে ইংলিশ ক্লাব সান্ডারল্যান্ডে যোগ দেন স্টেফান শোয়ার্জ। এই সুইডিশ ফুটবলার একসময় মহাকাশে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর তাঁর চুক্তিতে যুক্ত করা হয় অদ্ভুত এক শর্ত। শোয়ার্জ যদি পৃথিবী ছেড়ে মহাকাশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে চুক্তি বাতিল করার অধিকার থাকবে ক্লাবের। ফুটবল ইতিহাসে এমন ব্যতিক্রমী শর্তের নজির খুব বেশি নেই।

নাচতে যাওয়ার স্বাধীনতা চেয়েছিলেন রোনালদিনিও
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনিওর ফুটবল ছিল আনন্দ আর শৈল্পিকতায় ভরপুর। মাঠের বাইরেও তাঁর জীবনযাপন ছিল বেশ উপভোগনির্ভর। ফ্লামেঙ্গোর সঙ্গে চুক্তির সময় নিজের বিনোদনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত দুবার নৈশ ক্লাবে গিয়ে নাচতে পারবেন রোনালদিনিও। এ কারণে ক্লাব তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে না।

প্রতিদিন ব্যক্তিগত বিমানে অনুশীলনে
রাশিয়ার ক্লাব আনঝি মাখাচকালায় যোগ দেওয়ার সময় ক্যামেরুনের তারকা স্ট্রাইকার স্যামুয়েল ইতো একটি বিশেষ সুবিধা চেয়েছিলেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল, মস্কোয় বসবাস করবেন এবং প্রতিদিন ব্যক্তিগত বিমানে করে অনুশীলনে যাবেন। ক্লাব তাঁর সেই আবদারও মেনে নেয়। ফলে নিয়মিত অনুশীলনে যোগ দিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি পান এই তারকা।

নাইকি ছাড়া বুট পরতে রাজি নন
২০১৫ সালে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে জার্মান ক্লাব শালকেতে যোগ দেন সার্বিয়ান ডিফেন্ডার মাতিয়া নাস্তাসিচ। তখন শালকের খেলোয়াড়দের জন্য অ্যাডিডাসের বুট পরার নিয়ম ছিল। কিন্তু নাস্তাসিচ জানিয়ে দেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি শুধু নাইকির বুট পরতে পারবেন। নিজের দাবির পক্ষে চিকিৎসকের সনদও জমা দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর বুটসংক্রান্ত এই ব্যতিক্রমী শর্ত আলোচনায় আসে।

বালাতেল্লির জন্য ভালো আচরণের শর্ত
ইতালিয়ান স্ট্রাইকার মারিও বালাতেল্লি মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিতর্কিত আচরণের জন্যও পরিচিত ছিলেন। লিভারপুলে যোগ দেওয়ার সময় তাই তাঁর চুক্তিতে বিশেষভাবে যুক্ত করা হয় ভালো আচরণের শর্ত। মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে কোনো ধরনের অসংযত আচরণ করলে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে তাঁকে। খেলোয়াড়ের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চুক্তিতে এমন শর্ত যুক্ত করার ঘটনাও ফুটবল ইতিহাসে বেশ আলোচিত।

আর্সেনালের জন্য আলাদা শর্ত
উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজকে দলে নিতে একসময় ৪ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল আর্সেনাল। তবে শেষ পর্যন্ত লিভারপুল ছাড়েননি তিনি। পরবর্তী সময়ে রবার্তো ফিরমিনোর চুক্তিতে বিশেষ ধারা যুক্ত করে লিভারপুল। চুক্তি অনুযায়ী, আর্সেনাল ছাড়া অন্য কোনো ক্লাব তাঁকে কিনতে চাইলে রিলিজ ক্লজ ছিল ৯ কোটি ৮০ লাখ ইউরো। তবে আর্সেনালের ক্ষেত্রে ছিল আলাদা শর্ত। সুয়ারেজকে ঘিরে আগের অভিজ্ঞতার পর লিভারপুলের এই কৌশল বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।

বাড়ির বদলে পেয়েছিলেন লেগো বাড়ি
জার্মান স্ট্রাইকার জিউসেপে রেইনা আর্মিনিয়া বিলেফেল্ডে যোগ দেওয়ার সময় চুক্তিতে দাবি করেন, মেয়াদের প্রতিটি বছরের জন্য তাঁকে একটি করে বাড়ি দিতে হবে। কিন্তু বাড়ির ধরন বা আকার সম্পর্কে চুক্তিতে নির্দিষ্ট করে কিছু লেখা ছিল না। ক্লাব সেই সুযোগ কাজে লাগায়। প্রতিবছরের জন্য রেইনাকে দেওয়া হয় লেগো দিয়ে তৈরি একটি করে বাড়ি। বাড়ি চাওয়ার এমন অদ্ভুত পরিণতি ফুটবল ইতিহাসের মজার ঘটনাগুলোর একটি।

বিমানভীতির কারণে আলাদা শর্ত
নেদারল্যান্ডসের সাবেক তারকা ডেনিস বার্গক্যাম্পের ছিল বিমানে ভ্রমণের ভয়। এ কারণে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তাঁর চুক্তিতে বিমানযোগে যাতায়াত না করার শর্ত রাখা হতো। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অনেক অ্যাওয়ে ম্যাচে দলের সঙ্গে বিমানে যেতেন না তিনি। বিমানভীতির কারণে এই বিশেষ ব্যবস্থা তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল।

খেতে হতো ভেড়ার অণ্ডকোষ
২০০১ সালে কার্ডিফ সিটিতে যোগ দেন ইংলিশ ফুটবলার স্পেনসার প্রায়র। ক্লাবটির তৎকালীন সভাপতি স্যাম হামামের অদ্ভুত পছন্দের সঙ্গে পরিচিত হতে বেশি সময় লাগেনি তাঁর। লেবানিজ বংশোদ্ভূত হামামের খাবারের সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানাতে প্রায়রের চুক্তিতে রাখা হয় বিশেষ শর্ত। তাঁকে লেবুর রস ও পার্সলে সস দিয়ে রান্না করা ভেড়ার অণ্ডকোষ খেতে হবে! ফুটবল চুক্তিতে এমন খাবারের শর্ত সত্যিই বিরল।

লাল রঙের বুট পরা নিষিদ্ধ
২০১৫-১৬ মৌসুমে স্পেনের রিয়াল বেতিসে খেলেছিলেন ডাচ ফুটবলার রাফায়েল ফন ডার ফার্ট। ফুটবল লিকসের ফাঁস করা চুক্তির নথিতে দেখা যায়, তাঁর জন্য ছিল অদ্ভুত এক শর্ত। যেকোনো ধরনের খেলার জুতা পরতে পারবেন তিনি, তবে সেটি লাল রঙের হওয়া চলবে না। বেতিস ও সেভিয়ার ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে লাল রং নিয়ে ক্লাবটির এমন সতর্কতা ছিল বলে ধারণা করা হয়।

ওজন বাড়লেই বেতন থেকে জরিমানা
ইংলিশ ফুটবলার নিল রাডককের ওজন নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে আলোচনা ছিল নিয়মিত। ১ দশমিক ৮৮ মিটার উচ্চতার এই ডিফেন্ডার ২০০০ সালে ক্রিস্টাল প্যালেসে যোগ দেওয়ার পর কোচ হ্যারি রেডন্যাপ তাঁর চুক্তিতে ওজনসংক্রান্ত শর্ত যুক্ত করেন। শর্ত অনুযায়ী, রাডককের ওজন ৯৮ কেজি ছাড়িয়ে গেলে বেতনের ১০ শতাংশ জরিমানা দিতে হতো। কয়েকবার এই সীমা অতিক্রমও করেছিলেন তিনি। দ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একপর্যায়ে তাঁর ট্রাউজার ঠিকমতো ফিট না হওয়ায় ক্লাব তাঁকে ছেড়ে দেয়।

স্ত্রীর রান্নার কোর্সের খরচ দেবে ক্লাব
কঙ্গোর ফুটবলার রলফ-ক্রিস্টেল গুইয়ে-মিয়েন কার্লসরুহেতে দুই মৌসুম কাটিয়ে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টে যোগ দেন। নতুন ক্লাবের সঙ্গে চুক্তির সময় তাঁর বিশেষ আবদার ছিল, স্ত্রীর রান্নার কোর্সের খরচ বহন করতে হবে ক্লাবকে। শেষ পর্যন্ত সেই দাবিতে রাজি হয় ফ্রাঙ্কফুর্ট। ফুটবলারের ব্যক্তিগত জীবনের এমন বিষয়ও যে চুক্তির অংশ হতে পারে, তা এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায়।

স্কিইং ও মোটরসাইকেল চালানো নিষেধ
২০১৪ সালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষের দিকে ছিল পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডভস্কির। তখন রিয়াল মাদ্রিদসহ কয়েকটি বড় ক্লাবের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছিল। ফাঁস হওয়া চুক্তির নথিতে দেখা যায়, মৌসুমপ্রতি তাঁর মোট বেতন ছিল ৮৬ লাখ ৯ হাজার ৫৯০ ইউরো। পাশাপাশি ছিল ১ কোটি ৯ লাখ ৫৭ হাজার ৬৫০ ইউরোর সাইনিং বোনাস।

তবে চুক্তিতে ছিল বেশ কিছু কঠোর নিষেধাজ্ঞা। স্কিইং, মোটরসাইকেল চালানো ও স্কাইডাইভিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারতেন না তিনি। ইংলিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি আগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত বায়ার্ন মিউনিখের প্রস্তাব বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব নিষেধাজ্ঞাও ভূমিকা রেখেছিল। বায়ার্নের প্রস্তাবে এমন বিধিনিষেধ ছিল না।

নিরাপত্তায় বুলেটপ্রুফ গাড়ি
২০২০ সালের জানুয়ারিতে ব্রাজিলের ক্লাব বোতাফোগোয় যোগ দেন জাপানি ফুটবলার কেইসুকে হোন্ডা। রিও ডি জেনিরোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছিল তাঁর। তাই চুক্তির সময় বুলেটপ্রুফ বর্মযুক্ত গাড়ির দাবি জানান তিনি। ক্লাবও তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেই দাবি মেনে নেয়।

বাবার জন্য চেয়েছিলেন ট্রাক্টর
২০১৭ সালের জুনে জুভেন্টাসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ান ইতালিয়ান ফুটবলার মোইজে কিন। নতুন চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২০ সাল পর্যন্ত। তবে চুক্তি আলোচনায় তাঁর বাবার একটি আবদারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিনের বাবা বিয়োরু কিন জুভেন্টাসের কাছে একটি ট্রাক্টর চেয়েছিলেন।

আইভরি কোস্টের নাগরিক বিয়োরুর দাবি ছিল, ২০১৭ সালের শুরুর দিকে ক্লাব তাঁকে কৃষিকাজের যন্ত্রপাতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।

ফুটবলারদের এসব চুক্তির শর্ত দেখায়, ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি মানেই শুধু বেতন, বোনাস কিংবা মাঠের পারফরম্যান্স নয়। কখনো ব্যক্তিগত পছন্দ, কখনো নিরাপত্তা, আবার কখনো একেবারেই অপ্রত্যাশিত আবদারও জায়গা করে নেয় চুক্তির পাতায়।

কালের আলো/এসএ/এমএস

Link copied!