মুখের সৌন্দর্য নিয়ে সচেতন অনেকেই ঠোঁটের ওপরের অংশে বা আপার লিপে থাকা অবাঞ্ছিত লোম নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন। কারও ক্ষেত্রে লোমের রং গাঢ় হওয়ায় তা সহজেই চোখে পড়ে, আবার কারও মুখে লোমের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি থাকে। বিশেষ করে সাজগোজের সময় বিষয়টি অনেকের কাছে বিব্রতকর মনে হতে পারে। তবে এ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। ত্বকের ধরন ও সংবেদনশীলতা বুঝে কয়েকটি পদ্ধতিতে এই লোম পরিষ্কার করা যায়।
হলুদ ও দুধের মিশ্রণ
ত্বকের যত্নে হলুদের ব্যবহার বেশ পরিচিত। এক টেবিল চামচ হলুদের গুঁড়োর সঙ্গে সমপরিমাণ দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা যায়। মিশ্রণটি ঠোঁটের ওপরের অংশে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর ভেজা আঙুল দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে এই মিশ্রণ অবাঞ্ছিত লোম স্থায়ীভাবে দূর করে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
ডিমের সাদা অংশের প্যাক
ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে সামান্য কর্নফ্লাওয়ার ও চিনি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করা যায়। এরপর তা আপার লিপে লাগিয়ে শুকাতে দিন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করুন। তবে ডিমে অ্যালার্জি থাকলে এই প্যাক ব্যবহার করা উচিত নয়। ত্বকে টান, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
বেসন ও হলুদের মিশ্রণ
ত্বক পরিষ্কারের ঘরোয়া উপাদান হিসেবে বেসন অনেকের কাছেই পরিচিত। সামান্য বেসনের সঙ্গে হলুদের গুঁড়ো ও প্রয়োজনমতো পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে পারেন। চাইলে অল্প ফ্রেশ ক্রিমও যোগ করা যায়। মিশ্রণটি ঠোঁটের ওপরের অংশে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে জোরে ঘষাঘষি না করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
চিনি ও লেবুর মিশ্রণ ব্যবহারে সতর্কতা
চিনি ও লেবুর মিশ্রণ অনেকেই ঘরোয়া স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করেন। তবে মুখের ত্বক বেশ সংবেদনশীল। চিনি দিয়ে ঘষাঘষি করলে ত্বকে ক্ষত বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। অন্যদিকে লেবুর রসও ত্বকে অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই আপার লিপের মতো সংবেদনশীল স্থানে এই মিশ্রণ ব্যবহার না করাই ভালো।
ময়দা ও হলুদের প্যাক
একটি পাত্রে সামান্য ময়দা, হলুদের গুঁড়ো ও দুধ মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এবার ঠোঁটের ওপরের অংশে মিশ্রণটি লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করে ফেলুন। ত্বকে কোনো ধরনের অস্বস্তি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলতে হবে।
ঘরোয়া প্যাক ব্যবহারের আগে যা মনে রাখবেন
মুখের ত্বক সংবেদনশীল হওয়ায় যেকোনো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রথমে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিতে পারেন। জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে সেই উপাদান ব্যবহার করা উচিত নয়। ঠোঁটের খুব কাছাকাছি কিংবা কাটা-ছেঁড়া ত্বকেও এসব প্যাক লাগানো থেকে বিরত থাকুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আপার লিপের লোম পরিষ্কারের জন্য থ্রেডিং, ফেসিয়াল রেজর বা উপযুক্ত হেয়ার রিমুভাল পদ্ধতি বেছে নেওয়া যায়। তবে নিজের ত্বকের ধরন ও সংবেদনশীলতা অনুযায়ী পদ্ধতি নির্বাচন করা প্রয়োজন। লোম হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে কিংবা এর সঙ্গে অন্য শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কালের আলো/এসএ/জেএন
