Kaler Alo
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬
২১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে সিদ্ধেশ্বরী খাল

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে সিদ্ধেশ্বরী খাল

দখল ও দূষণে ভরাট হয়ে গেছে কুমিল্লার সিদ্ধেশ্বরী খাল। কোথাও খালের প্রশস্ততা কমে এসেছে, কোথাও মাটি ফেলে ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে ভবন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নারান্দিয়া এলাকার জলকপাটের অকার্যকারিতা। ফলে শুকনো মৌসুমে খালে পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। সেচের পানির সংকটে তিতাস, মুরাদনগরসহ আশপাশের ১১টি ইউনিয়নের ৪৫টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার বিঘা জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সিদ্ধেশ্বরী খাল পুনর্খনন, পানিপ্রবাহের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং নারান্দিয়া এলাকার জলকপাট সংস্কার করা হলে এ অঞ্চলের কৃষিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সেচের পানির নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে প্রায় ১৫ হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

২৬ কিলোমিটার খাল হারিয়েছে নাব্য
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া থেকে শুরু হয়ে মুরাদনগরের ওপর দিয়ে দেবিদ্বার পর্যন্ত বিস্তৃত সিদ্ধেশ্বরী খালটি গোমতী নদীতে গিয়ে মিশেছে। ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির কিছু অংশ দাউদকান্দি উপজেলাতেও পড়েছে। শুকনো মৌসুমে পানি ধরে রাখতে তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া এলাকায় খালটির ওপর একটি জলকপাট নির্মাণ করা হয়েছে।

একসময় এই খালের পানির ওপর নির্ভর করে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে বোরো ধানের চাষ হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পলি জমে খালটির নাব্য কমেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে দখল ও দূষণের কারণে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জলকপাটটিও অকার্যকর হয়ে পড়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ধরে রাখা কিংবা নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে শুকনো মৌসুমে সেচের পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বিকল্প উৎস থেকে সেচ দিতে বাড়ছে খরচ
খালের পানি না পেয়ে কৃষকদের কেউ পুকুর থেকে, কেউ বাড়ির পাশের ডোবা থেকে পানি এনে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি ভোগান্তিও বাড়ছে। যেসব কৃষকের নিজস্ব পানির উৎস বা বিকল্প সেচব্যবস্থা নেই, তাঁদের অনেকে চাষাবাদ কমিয়ে দিয়েছেন।

কৃষকদের আশঙ্কা, এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে। উৎপাদন খরচ বাড়ার পরও বাজারে ধানের দাম প্রত্যাশা অনুযায়ী না পেলে লোকসানের মুখে পড়তে পারেন তাঁরা।

জলকপাটের একাধিক সুইস পয়েন্ট নষ্ট
নারান্দিয়া এলাকার জলকপাটের পশ্চিম পাশে থাকা ১২টি সুইস পয়েন্টের স্টিলের ঢাকনার মধ্যে তিনটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। পূর্ব পাশে পানি আটকে রাখার ১২টি চেম্বারের মধ্যে তিনটিও সম্পূর্ণ অকেজো। ফলে জলকপাট দিয়ে অবাধে পানি আসা-যাওয়া করছে।

এর কারণে বর্ষা মৌসুমে আগাম পানি ঢুকে পড়ছে, আবার বর্ষা শেষে পানি আটকে রাখা যাচ্ছে না। ফলে কৃষিজমিতে পানির প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে খাল পুনর্খনন, পানিপ্রবাহের বাধা দূর করা এবং জলকপাট সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

দখলে সংকুচিত খাল, কমেছে চাষাবাদ
রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক রমিজ উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর ধরে তিনি বোরো ধানের চাষ করতে পারছেন না। দখল-দূষণ ও পলি জমে খাল ভরাট হয়ে গেছে। জলকপাটও অকার্যকর। বোরো মৌসুমে খালে পানি থাকে না। এসব কারণে তাঁর মতো এলাকার অনেক কৃষকই বোরো ধান চাষ করতে পারছেন না।

মুরাদনগর উপজেলার ছালিয়াকান্দি গ্রামের কৃষক করিম মিয়া জানান, খালের বিভিন্ন স্থানে মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছে। অনেকে খালের জায়গায় ভবনও নির্মাণ করেছেন। ফলে বোরো মৌসুমে খালে পর্যাপ্ত পানি থাকে না। পানির অভাবে তাঁরা ধান চাষ করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, ‘বিকল্প উপায়ে আমরা পানির ব্যবস্থা করছি, এভাবে বেশি দিন মনে হয় করা সম্ভব না। যদি খালটি পুনর্খনন ও জলকপাটটি মেরামত করা হতো তাহলে সারাবছর চাষাবাদ করতে সুবিধা হতো।’

সংস্কার হলে বাড়বে বোরো আবাদ
নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান খোকা বলেন, জলকপাটটি কয়েক বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে বর্ষা মৌসুম শেষে পানি আটকে রাখা যাচ্ছে না। আবার বর্ষার শুরুতে আগাম পানি ঢুকে ফসল নষ্ট হচ্ছে।

তিনি জানান, পানি ধরে রাখতে না পারায় নারান্দিয়া ও ভিটিকান্দি ইউনিয়নের কয়েক হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ ব্যাহত হচ্ছে। খালটি পুনর্খনন ও জলকপাট মেরামত করা হলে এলাকায় বোরো চাষে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

তিতাস উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নারান্দিয়ার জলকপাট সংস্কার এবং খাল পুনর্খনন করা হলে শুকনো মৌসুমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পানির সংকট দূর হবে। কৃষকরা সুবিধামতো সেচ দিতে পারলে বোরো ধানের আবাদ আরও বাড়বে।

বরাদ্দ চেয়েও মিলছে না অর্থ
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, কয়েক বছর ধরে জলকপাটটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। চলতি বছরও বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, জলকপাট সংস্কার ও খাল পুনর্খনন করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার পানির সংকট দূর হবে। এতে বোরো ধানের আবাদ বাড়বে। এদিকে জলকপাটের নিরাপত্তারক্ষীর জন্য নির্মিত ভবনটি স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করছেন বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

Link copied!