চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে একটি বাড়ির দেয়ালে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হাসিনা’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান লেখার ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় পঞ্চম ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করা হয়। তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে দেয়ালে এসব স্লোগান লেখার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রানা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর ১২টা ১৯ মিনিটের পর সাত শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশের একটি গলিতে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে একজন স্প্রে রং ব্যবহার করে দেয়ালে বাংলা ও ইংরেজিতে বিভিন্ন স্লোগান লিখছে। দেয়ালে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হাসিনা’, ‘মুজিব সেনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’সহ নানা লেখা দেখা যায়। পরে ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ডেকেছে বিদ্যালয়
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম বলেন, দেয়ালে লেখার ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে ডাকা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং অন্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, দেয়ালে স্লোগান লেখার খবর পেয়ে তিনি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের দিয়ে দেয়ালের লেখাগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। শিক্ষার্থীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তদন্তে পাওয়া তথ্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলছে বিএনপি
দেয়ালে রাজনৈতিক স্লোগান লেখার ঘটনাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে জেলা বিএনপি। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পরে শহীদ হাসান চত্বরে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম এবং জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব। বক্তারা দাবি করেন, এ ঘটনার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ষড়যন্ত্র রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি
