Kaler Alo
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
২০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

প্রতিষ্ঠানের সব কাজ সামলাবে এক এআই, নতুন উদ্যোগ বিটোপিয়ার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

প্রতিষ্ঠানের সব কাজ সামলাবে এক এআই, নতুন উদ্যোগ বিটোপিয়ার

ব্যবসা পরিচালনা থেকে শুরু করে অতিথি অভ্যর্থনা, প্রতিষ্ঠানের তথ্যের সুরক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো—প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ চার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নতুন সমাধান নিয়ে এসেছে দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিটোপিয়া লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব প্রযুক্তি ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী করতে সহায়তা করবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এ সমাধানগুলো উন্মোচন ও প্রদর্শন করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এ সামিটের আয়োজন করে।

বিটোপিয়ার উন্মোচন করা চারটি সমাধান হলো—এআই এজেন্টচালিত ব্যবসা পরিচালনা প্ল্যাটফর্ম ‘বিজনেস ব্রেইন’, এআই রিসেপশনিস্ট ‘জয়া’, নিজস্ব এআই এজেন্ট ‘বেটো’ এবং ইনফারেন্স ক্লাউড ‘কিউসর’।

এক প্ল্যাটফর্মে ব্যবসার সব কার্যক্রম
প্রতিষ্ঠানের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার কাজও জটিল হয়ে ওঠে। বিক্রয়, উৎপাদন, ক্রয়, মজুত, হিসাব ও কর্মী ব্যবস্থাপনার তথ্য বিভিন্ন সফটওয়্যার কিংবা স্প্রেডশিটে ছড়িয়ে থাকায় প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে সময় লাগে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তৈরি হয় বিলম্ব।

এ সমস্যা সমাধানে বিটোপিয়া তৈরি করেছে এআই এজেন্টচালিত ইআরপি প্ল্যাটফর্ম ‘বিজনেস ব্রেইন’। এর মাধ্যমে একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়, উৎপাদন, সরবরাহব্যবস্থা, ক্রয়, হিসাব, মজুত ও কর্মী ব্যবস্থাপনার তথ্য পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

প্ল্যাটফর্মটির এআই এজেন্টগুলো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিতে এবং নিয়মিত কাজের ফলোআপে সহায়তা করতে পারবে। ফলে কর্মীদের বারবার তথ্য খোঁজা, বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করা কিংবা একই কাজ পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন কমবে। এতে কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত কাজে বেশি সময় দিতে পারবেন।

তবে বড় বা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত এআই নিজে নেবে না। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অনুমোদন প্রয়োজন হবে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, প্রযুক্তির ব্যবহারে পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বিদ্যমান জনবল ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

রিসেপশনের দায়িত্বে এআই ‘জয়া’
প্রতিষ্ঠানের দর্শনার্থীদের অভ্যর্থনা জানানো, তাঁদের প্রয়োজন বোঝা, তথ্য দেওয়া, নিবন্ধন করা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানোর মতো কাজগুলো সামলাতে হয় রিসেপশনিস্টকে। এসব কাজের বড় অংশ স্বয়ংক্রিয় করতে বিটোপিয়া এনেছে এআই রিসেপশনিস্ট ‘জয়া’।

জয়া দর্শনার্থীর সঙ্গে কথা বলে তাঁর প্রয়োজন বুঝতে, বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে এবং অতিথি নিবন্ধনের কাজ করতে পারবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা বিভাগকে দর্শনার্থীর আগমনের তথ্য জানাতেও সক্ষম এই এআই সমাধান।

করপোরেট অফিসের পাশাপাশি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্যাংক, হোটেল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি দপ্তরেও এটি ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানের তথ্য থাকবে দেশের ভেতরেই
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নথি, গ্রাহকের তথ্য কিংবা গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির খসড়া তৈরিতে অনেক কর্মী বিদেশি পাবলিক এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেন। এতে সংবেদনশীল তথ্য দেশের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের জন্য তথ্যের গোপনীয়তা এবং নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিটোপিয়া উন্মোচন করেছে নিজস্ব এআই এজেন্ট ‘বেটো’। এটি ঢাকায় স্থাপিত ডেডিকেটেড জিপিইউতে পরিচালিত হয়, যা অন্য কোনো গ্রাহকের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয় না। ফলে প্রতিষ্ঠানের তথ্য বাংলাদেশের ভেতরেই সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়।

এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে নিজস্ব ক্লাউড বা সার্ভারেও এ ধরনের এআই ব্যবস্থা চালাতে পারবে। বিটোপিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করে অন্য কারও এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না।

ব্যবহার অনুযায়ী খরচ, দেশের জিপিইউতে এআই
দেশে এআইভিত্তিক সেবা তৈরি করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণত দুটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। বিদেশি এআই সেবা ব্যবহার করলে ডলারে খরচ দিতে হয় এবং তথ্য দেশের বাইরে যাওয়ার বিষয় থাকে। অন্যদিকে নিজস্ব জিপিইউ সার্ভার স্থাপনে প্রয়োজন হয় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ, শীতলীকরণ ব্যবস্থা ও দক্ষ জনবল।

এই দুইয়ের বিকল্প হিসেবে বিটোপিয়া এনেছে ইনফারেন্স ক্লাউড ‘কিউসর’। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো কিউসরের জিপিইউ ব্যবহার করে ওপেন সোর্স এআই মডেল পরিচালনা করতে পারবে। ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী খরচ দিতে হবে।

কিউসরের লাইভ ড্যাশবোর্ডে কোন মডেল কতবার ব্যবহার হয়েছে এবং এতে কত খরচ হয়েছে, তা দেখা যাবে। ডেভেলপাররা এপিআইয়ের মাধ্যমে নিজেদের অ্যাপ্লিকেশন, চ্যাটবট কিংবা এআই এজেন্টও এ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন। সার্ভার দেশের ভেতরে থাকায় তথ্য বাংলাদেশের বাইরে পাঠানোর প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে বিটোপিয়া।

১৪ বছরের অভিজ্ঞতায় নতুন উদ্যোগ
সামিটে মিল্কিওয়ে হলের ২৮ নম্বর স্টলে বিটোপিয়ার এআই সমাধানগুলো সরাসরি দেখার সুযোগ পান দর্শনার্থীরা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রায় ১৪ বছরের পথচলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে তারা।

ব্যবসার পরিচালন ব্যয় কমানো, কর্মদক্ষতা বাড়ানো এবং দৈনন্দিন কাজ সহজ করার লক্ষ্যেই এসব প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন বিবেচনায় আরও নতুন প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান আনার পরিকল্পনা রয়েছে বিটোপিয়ার।

কালের আলো/এসএ/জেএন

Link copied!