Kaler Alo
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬
২১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

রনির কথিত স্ত্রী পরিচয়ে আলোচনায় ফারজানা আফরোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

রনির কথিত স্ত্রী পরিচয়ে আলোচনায় ফারজানা আফরোজ

সাবেক সংসদ সদস্য ও টকশো ব্যক্তিত্ব গোলাম মাওলা রনির দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী উইং ‘জাতীয় নারী শক্তি’র কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এক নারীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার গুঞ্জনের মধ্য দিয়ে বিষয়টি সামনে আসে। ওই নারীকে গোলাম মাওলা রনির স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে বিয়ে ও বর্তমান সম্পর্কের বিষয়ে রনি এবং সংশ্লিষ্ট নারীর পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কথা উঠে এসেছে।

আলোচনায় আসা ওই নারীর নাম ফারজানা আফরোজ। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান। সম্প্রতি এনসিপির নারী উইং জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারজানা আফরোজের কাবিননামার একটি কপি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রকাশিত কাবিননামা অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ মে চট্টগ্রামে গোলাম মাওলা রনি ও ফারজানা আফরোজের বিয়ে হয়েছিল।

কাবিননামা নিয়ে রনির বক্তব্য
তবে বিয়ের বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন গোলাম মাওলা রনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ফারজানা আফরোজের ছবি প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, ওই নারী তাঁর স্ত্রী নন। বরং তাঁর ভাষ্য, ফারজানা সাতকানিয়ার জামায়াত নেতা হারুনের সাবেক স্ত্রী এবং চট্টগ্রামের এক বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে রনি দাবি করেন, ইউনূস সরকারের সময় ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। তাঁর অভিযোগ, একদিন ওই নারী তাঁর অফিসে গিয়ে নিজেকে স্ত্রী দাবি করেন। তখন তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ ডাকেন। পুলিশ বিয়ের প্রমাণ দেখতে চাইলে ওই নারী কাগজ থাকার কথা বললেও তা দেখাননি বলে দাবি করেন রনি।

রনির ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ওই নারী ধানমন্ডিতে তাঁর বাসায় গেলে তিনি শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায় এবং সেখানে ওই নারীর আত্মীয় পরিচয়ে দুজনকে হাজির করা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ওই নারীর কাছ থেকে কথিত কাবিননামার একটি কপি সংগ্রহ করে।

তালাক ও দেনমোহর পরিশোধের দাবি
গোলাম মাওলা রনি দাবি করেন, আইনজীবীদের পরামর্শে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে তিনি কাবিননামা অনুযায়ী তালাকের নোটিশ দেন এবং দেনমোহর বাবদ ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা ও অভিযোগ করার কথাও জানান তিনি।

রনির আরও দাবি, তালাক কার্যকর ও অর্থ পরিশোধের পর বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যায়। এ ঘটনার পরও ওই নারীর পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করে সামাজিক সম্মানকে পুঁজি করে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে ওই নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা না করার কারণ হিসেবে তাঁর সন্তানদের কথা বিবেচনার বিষয়টি উল্লেখ করেন রনি। তাঁর ভাষ্য, পুরো ঘটনা তাঁর পরিবার ও স্বজনেরা শুরু থেকেই জানতেন এবং তাঁরা তাঁকে সহযোগিতা করেছেন।

এনসিপিতে দায়িত্ব পাওয়ার গুঞ্জন ঘিরে প্রশ্ন
ফেসবুক পোস্টে রনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এত দিন পর এনসিপির নেতারা কেন ওই নারীর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তাঁর দাবি, অতীতে তাঁকে হেয় করতে ওই নারী ও কয়েকজন ইউটিউবার ভিডিও তৈরি করে অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক বাড়লে রনি আবারও স্পষ্ট করেন, ফারজানা আফরোজের সঙ্গে অতীতে সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে তাঁদের মধ্যে কোনো আইনগত সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, আইনগত প্রক্রিয়ায় তালাক সম্পন্ন হয়েছে এবং দেনমোহরের অর্থও পরিশোধ করা হয়েছে। নিজের দাবির পক্ষে শাহবাগ থানায় করা অভিযোগের একটি কপিও প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, কাবিননামায় বিয়ের তারিখ হিসেবে ২০২২ সালের ১৩ মে উল্লেখ থাকলেও রনি তাঁর বক্তব্যে বর্তমান আইনগত সম্পর্ক না থাকার দাবি করেছেন। এ বিষয়ে ফারজানা আফরোজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গোলাম মাওলা রনির সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

Link copied!