Kaler Alo
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬
২১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

কারাগারে নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর কারা অধিদপ্তর, বাস্তবায়ন ৯০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

কারাগারে নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর কারা অধিদপ্তর, বাস্তবায়ন ৯০ শতাংশ

কারাগারের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা জোরদার, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দায়িত্বে অবহেলা ঠেকাতে সাত দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। এর আওতায় দেশের সব কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি, লকআপ-পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, দায়িত্বে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং আকস্মিক পরিদর্শন জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) কারা অধিদপ্তরের এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

নিরাপত্তায় সাত দফা পদক্ষেপ

কারা অধিদপ্তরের নেওয়া সাতটি পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে লকআপ-পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি, দায়িত্বে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দায়িত্বে অবহেলাকারীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি।

কারা অধিদপ্তরের মতে, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাহীনতা ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে কারাগারে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে বন্দিদের নিরাপত্তার পাশাপাশি কারাগারের সার্বিক ব্যবস্থাপনাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রতিদিন হচ্ছে তদারকি

কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম জানান, সাত দফা নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষণব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সব কারাগারকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত মতামত জমা দিতে হবে।

নির্দেশনাগুলো কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে। এ ছাড়া ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁরা দেশের কারাগারগুলোর নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব পদক্ষেপের সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছে অধিদপ্তর।

লকআপের পর কার্যক্রমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ

নির্দেশনা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত জরুরি ক্ষেত্র ছাড়া লকআপের পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নিতে হলে জেলারের লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে তা নথিভুক্ত করতে হবে।

প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলায় শূন্য সহনশীলতা

নিরাপত্তার ত্রুটি রোধে দায়িত্বের স্থান থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো প্রহরী বা পাহারাদার কর্মী অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত প্রতিবেদন দিতে হবে। পাশাপাশি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

অবহেলা বা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব করা কিংবা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

সিসিটিভিতে সার্বক্ষণিক নজরদারি

প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেখানে সম্ভব, সেখানে পৃথক পর্যবেক্ষণকক্ষ স্থাপন করতে হবে। এ কাজে প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কারারক্ষীদের দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। পৃথক পর্যবেক্ষণকক্ষ না থাকলে উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপন করে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ বারবার পাওয়া যায়, এমন পাহারাদার কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় তাঁদের বদলি এবং বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে।

প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা

বৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ায় কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় প্রহরীদের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।

পাশাপাশি কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি আকস্মিক পরিদর্শন করতে হবে। এসব পরিদর্শনে নিরাপত্তাচৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব পালন ও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরীক্ষা করে ত্রুটি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত আগস্টে জারি করা সাত দফা নির্দেশনায় কারাগারের অভ্যন্তরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। নিরাপত্তার ত্রুটি প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই নতুন করে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে তৎপর হয়েছে কারা অধিদপ্তর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

Link copied!