Kaler Alo
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
২০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

দায়িত্বহীন পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

দায়িত্বহীন পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়

এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল, অবহেলা কিংবা দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে যেসব পরীক্ষকের খাতা মূল্যায়নে দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর ডেমরার সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ফলাফল নিশ্চিত করতে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি মূল্যায়নপ্রক্রিয়ার দুর্বলতাগুলোও চিহ্নিত করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বহীনতা যাতে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এসএসসির পুনর্নিরীক্ষণে বড় অসংগতি
এর আগে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, পুনর্নিরীক্ষণের পর প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন।

শিক্ষামন্ত্রীর মতে, পুনর্নিরীক্ষণে পাওয়া এসব তথ্য খাতা মূল্যায়নপ্রক্রিয়ার দুর্বলতা চিহ্নিত করতে সহায়তা করছে। যেসব পরীক্ষকের মূল্যায়ন দক্ষতায় ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আর যাঁদের ভুল বা দায়িত্বহীনতার কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ডিসেম্বরে
এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী ডিসেম্বরের শুরুতে পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৩ ডিসেম্বর। তিনি বলেন, একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের যেন পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে না হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

পুনর্নিরীক্ষণের ফল ২৩ নভেম্বর
এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত নেওয়া হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৩ নভেম্বর। শিক্ষামন্ত্রী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের সময় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ফলাফল নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুনর্নিরীক্ষণের পর যাঁদের ফলাফল পরিবর্তন হয়ে পাস হবে, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবেন। তবে পুনর্নিরীক্ষণের পরও যাঁরা অকৃতকার্য থাকবেন, তাঁরা ভর্তির সুযোগ পাবেন না।

ফলাফলের দিনই নতুন বই দেওয়ার পরিকল্পনা
নতুন শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণ নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই ইতিমধ্যে জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পৌঁছে যাবে।

ডিসেম্বরের যেকোনো দিন নতুন বই বিতরণ করা হবে। তবে শিক্ষার্থীরা যেদিন পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে বাড়ি ফিরবে, সেদিনই তাদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

চীনের সহযোগিতায় কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন
দেশের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে চীনের সহযোগিতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ আট বিভাগে আটটি এবং কক্সবাজারে একটি—মোট নয়টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চীনা কারিকুলাম, আধুনিক ল্যাব, শিক্ষক ও ভাষাশিক্ষা চালু করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কারিকুলাম তৈরি ও সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়াতেও চীনের অংশগ্রহণ থাকবে। এ ছাড়া দেশের প্রায় ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষাশিক্ষা চালু হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাসরুম ও ট্যাব
আগামী বছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাসরুম ও ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী জানুয়ারি থেকে এর কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষার মান জানা জরুরি। সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করা গেলে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

Link copied!