Kaler Alo
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬
১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০১:৩৬ এএম

দুই বিমানবন্দরে মিলল প্রায় ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২৬, ০১:৩৬ এএম

দুই বিমানবন্দরে মিলল প্রায় ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ

আবুধাবি থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল স্বর্ণের ছয়টি ডিম। তবে দেশের বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় সেগুলো আবার আবুধাবিতে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল একটি চোরাচালান চক্র। শেষ পর্যন্ত কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের পৃথক দুটি অভিযানে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণের ডিমগুলো আটক করা হয়েছে। দুটি বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার হওয়া ছয়টি স্বর্ণের ডিমের মোট ওজন ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম। এগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

রোববার (১ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে স্বর্ণগুলো আটক করা হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবি যাচ্ছিলেন যাত্রী
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবিগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১২৭ ফ্লাইটের এক যাত্রীকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তাঁর নাম মোহাম্মদ মিনহাজ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রোববার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ফ্লাইটটির ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। এর আগেই সন্দেহভাজন যাত্রীকে ফ্লাইট থেকে অফলোড করা হয়। পরে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তৎপরতায় ওই যাত্রীর সহযোগিতায় ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম ওজনের তিনটি স্বর্ণের ডিম উদ্ধার করা হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দরে আরও তিনটি আটক
এ ঘটনার পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় পৃথক অভিযান চালান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সেখানে আরও তিনটি স্বর্ণের ডিম আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া এই তিনটি ডিমের মোট ওজনও ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম। দুই অভিযানে সব মিলিয়ে ছয়টি স্বর্ণের ডিমের ওজন দাঁড়িয়েছে ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম। কাস্টমস গোয়েন্দাদের হিসাব অনুযায়ী, আটক স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

দেশে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে ফেরত নেওয়ার চেষ্টা
আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাস্টমস গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের ডিমগুলো আগেই আবুধাবি থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় সেগুলো আবার বিদেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল চোরাচালান চক্রটি। অর্থাৎ, অবৈধভাবে দেশে আনার পর বিক্রির উদ্দেশ্য সফল না হওয়ায় স্বর্ণগুলো পুনরায় আবুধাবিতে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক চক্রের সন্ধানে তদন্ত
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, আটক স্বর্ণের প্রকৃত উৎস, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এবং চোরাচালান চক্রের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বর্ণগুলো কীভাবে দেশে প্রবেশ করেছিল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে আবার বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা চলছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

Link copied!