Kaler Alo
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

ই-রিকশা নিবন্ধন নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ:প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

ই-রিকশা নিবন্ধন নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ:প্রতিমন্ত্রী

একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামে ৭০০টির বেশি ই-রিকশা থাকলেও তিনি নিজের এনআইডি দিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি নিবন্ধন করতে পারবেন। বাকি ই-রিকশাগুলো অন্য ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধন করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের নামে ৭০০টির বেশি ই-রিকশা থাকলেও নতুন বিধিমালা অনুযায়ী নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি নিবন্ধন করতে পারবেন তিনি। এ প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ারকে উদ্দেশ করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘আপনিও আতঙ্কিত হবেন না। আপনি চাইলে বৈধভাবে পাঁচটি নিবন্ধন পাবেন। আর বাকিগুলো অন্যদের নামে নিবন্ধন দিতে হবে।’

সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে নিবন্ধন
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে। আগামীকাল সোমবার থেকে দেশের সিটি করপোরেশনগুলো নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচল করলেও এসব যানবাহনের নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ছিল না। এ কারণে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো ই-রিকশার নিবন্ধন দিতে পারত না। সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় সংশোধন এনে নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। পরে এ আইনের আলোকে বিধিমালা প্রণয়ন করে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।

আপাতত লাগবে না চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স
ই-রিকশাচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবে না। প্রথমে যানবাহনের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে চালকদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত চালকদের পরিচয়পত্র থাকবে। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক চালককে লাইসেন্স দেওয়ার মতো সক্ষমতা সিটি করপোরেশনগুলোর নেই। তাই প্রথমে নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়ে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। নতুন ব্যবস্থায় ই-রিকশার কিউআর কোডে নিবন্ধন নম্বর, মালিকের পরিচয়, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, গাড়িটি কোন অঞ্চলে চলাচল করবে এবং চালকের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। প্রাথমিকভাবে মালিকেরা চালকদের তথ্যসংবলিত পরিচয়পত্র দেবেন।

নিবন্ধন পেলেও সব সড়কে চলবে না ই-রিকশা
ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হলেও সেগুলো ইচ্ছেমতো সব সড়কে চলাচল করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। যেসব সড়কে বাস চলাচল করে, সেসব সড়কে ই-রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। নির্ধারিত নিয়ম ও এলাকার মধ্যেই এসব যানবাহন চলাচল করতে হবে। বর্তমানে অনেক ই-রিকশা অবৈধভাবে চলাচল করছে উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, নতুন বিধিমালার মাধ্যমে এসব যানবাহনকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে।

পুরোনো ই-রিকশাগুলো কীভাবে নিবন্ধন করা হবে, সে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান যানবাহনগুলো নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে হবে। উৎপাদনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করার পর সেগুলো নিবন্ধনের আওতায় আসতে পারবে। তবে পুরোনো ই-রিকশার নিবন্ধন কত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আইনি বাধা দূর হওয়ায় নিবন্ধনের উদ্যোগ
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচল করলেও সেগুলোর নিবন্ধনের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ছিল না। ফলে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর পক্ষে এসব যানবাহন নিবন্ধন করা সম্ভব হয়নি। সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯-এর ১২০ ধারায় সংশোধন এনে ই-রিকশা নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে আইন পাসের পর বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে এখন ই-রিকশা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আইনি বাধা নেই বলে জানান তিনি। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে এ নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পর্যায়ক্রমে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো
ই-রিকশার ভাড়া কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, নিবন্ধন কার্যক্রমের পর ই-রিকশার মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে বসে ভাড়া নির্ধারণ করবেন। আলোচনার মাধ্যমে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ঠিক করা হবে। মীর শাহে আলম বলেন, ভাড়া অবশ্যই যৌক্তিক হতে হবে এবং সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখতে হবে।

নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচলের এলাকা, চালকের পরিচয় এবং ভাড়া নির্ধারণে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পর এর বাস্তবায়ন ও অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের অগ্রগতি এক মাস পর জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

Link copied!