নিত্যপণ্যের বাজারে অনিয়ম, অতিরিক্ত দাম আদায় এবং নকল-ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা মহানগরসহ দেশের ২৭ জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে ৭২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাবনায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক প্রয়োগ করে পাকানো প্রায় ১২ হাজার কলা জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২৭ জেলার ৪০টি তদারকি দল একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার সুরক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২৪ ঘণ্টায় কলা পাকানোর ভয়ংকর কৌশল
অভিযানের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা শনাক্ত হয় পাবনার মালিগাছা ইউনিয়নের রাখালগাছি এলাকায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদ হাসান রনির নেতৃত্বে একটি গোয়ালঘরে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় অপরিপক্ব কলায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হলুদ রং ধারণ করিয়ে বাজারজাত করার প্রক্রিয়া শনাক্ত করেন কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি রাসায়নিক প্রয়োগ করা আনুমানিক ১২ হাজার কলা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
নানা অনিয়মে ৭২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
দেশব্যাপী অভিযানে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং নকল-ভেজাল খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিকভাবে পণ্য মজুদ এবং স্বাভাবিক সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও তদারকি
অভিযানের আওতায় হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাদ্যপণ্যের মান, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হয়।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন। ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচারপত্র ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।
ভোক্তাদের জন্য অধিদপ্তরের পরামর্শ
পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য না কেনার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। পাশাপাশি কেনাকাটার আগে পণ্যের মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য (এমআরপি), উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রয় রসিদ বা ভাউচার সংগ্রহের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
কোনো পণ্য কেনার ক্ষেত্রে প্রতারণা, অতিরিক্ত মূল্য আদায় কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে ন্যায্যমূল্য ও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি সুরক্ষায় দেশব্যাপী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি
