Kaler Alo
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০২:২০ পিএম

ই-রিকশার আয়ুষ্কাল ১২ বছর নিবন্ধনে নতুন নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০২:২০ পিএম

ই-রিকশার আয়ুষ্কাল ১২ বছর নিবন্ধনে নতুন নিয়ম

রাজধানীসহ দেশের সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশা বা ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করতে পারবেন। এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ই-রিকশা চালানো যাবে না।

নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর। এ সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ১২০ ধারার ক্ষমতাবলে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচলের এলাকা, যাত্রী পরিবহন, গতিসীমা, ব্যাটারি চার্জিং ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিবন্ধন ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে যেকোনো একটি বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করতে পারবেন। দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এর বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা। অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। প্রতিটি ই-রিকশার ফিটনেস সনদের জন্য দিতে হবে এক হাজার টাকা।

নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবিষয়ক নকশা অনুসরণ করতে হবে। এ জন্য ফিটনেস সনদ ও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষরও প্রয়োজন হবে। আগে থেকে সড়কে চলাচল করা ই-রিকশার কাঠামোও বুয়েটের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সংশোধন করে অনুমোদন নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও ফিটনেস সনদ এবং ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর নিতে হবে। প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। সেটি যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার অথবা ওডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নির্দিষ্ট জোন ও রুটে চলাচল করতে হবে
ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে এলাকাভিত্তিক জোন নির্ধারণ করবে। প্রতিটি জোনে কতসংখ্যক ই-রিকশা চলবে, কোন সড়কে চলাচল করবে এবং যানবাহনের রং কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে। এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না। এ ছাড়া জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) করিডর, ফুটপাত এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সড়কে ই-রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

যাত্রী ও গতিসীমা নির্ধারণ
ই-রিকশার গতিসীমা সাধারণ সড়কে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চালানো যাবে না। যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। চালক ছাড়া দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশায় সর্বোচ্চ দুইজন এবং চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশায় সর্বোচ্চ চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে ই-রিকশার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করবে।

অবৈধভাবে ব্যাটারি চার্জ করলে শাস্তি
ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জিংয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন বিধিমালায়। পর্যায়ক্রমে বৈধভাবে নিবন্ধিত চার্জিং স্টেশনে ব্যাটারি চার্জ করতে হবে। এসব স্টেশনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা রয়েছে। এই ব্যবস্থায় দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে রাতে গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করা যাবে। অন্যদিকে, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে সংশ্লিষ্ট আইনে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

ব্যাটারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও নির্দেশনা
পুরোনো বা অকার্যকর ব্যাটারি উন্মুক্ত স্থানে, মাটিতে, জলাশয়ে কিংবা সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে ফেলা যাবে না। একইভাবে এসব ব্যাটারি পোড়ানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় বিক্রেতাকে পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা গলানো যাবে না। ই-রিকশার উৎপাদন, আমদানি, ব্যবহার ও ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে।

বিধি ভাঙলে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা
নতুন বিধিমালায় নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন এবং নিষিদ্ধ সড়কে চলাচলকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ ছাড়া বিপজ্জনকভাবে যান চালানো, যাত্রী পরিবহনের পরিবর্তে মালামাল বহন, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

উৎপাদন ও অনুমোদনে সাত সদস্যের কমিটি
অনুমোদিত মানের ই-রিকশা উৎপাদনে চালক, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও মালিকদের ঋণসহায়তা দিতে পারবে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তফসিলি ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানি। এ ছাড়া ই-রিকশার উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, বুয়েট, সিটি করপোরেশন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ কমিটি কাজ করবে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশার নিবন্ধন ও নবায়ন ফি থেকে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় হিসেবে গণ্য হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

Link copied!