Kaler Alo
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০১:০৮ এএম

জাটকা রক্ষায় কঠোর হচ্ছে আইন প্রয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০১:০৮ এএম

জাটকা রক্ষায় কঠোর হচ্ছে আইন প্রয়োগ

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মাছটির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে মধ্যরাত থেকে জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। অর্থাৎ টানা আট মাস দেশের নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় ২৫ সেন্টিমিটারের ছোট ইলিশ ধরা যাবে না। এ সময় জাটকা আহরণের পাশাপাশি পরিবহন, বাজারজাতকরণ, কেনাবেচা ও মজুতও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাটকা রক্ষায় আট মাসের অভিযান
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৫ সেন্টিমিটারের ছোট ইলিশকে জাটকা বলা হয়। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে এবং ছোট ইলিশকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। নিষেধাজ্ঞার সময় জাটকা নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়। এ কারণে শুধু মাছ ধরা নয়, জাটকার পরিবহন, বাজারজাতকরণ, কেনাবেচা ও মজুতের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের পর নতুন উদ্যোগ
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ পরিচালনা করা হয়। ওই সময়ে মা ইলিশের ডিম থেকে জন্ম নেওয়া পোনা আগামী কয়েক মাস দেশের উপকূলীয় নদ-নদী ও মোহনায় বিচরণ করবে। এসব পোনা নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেলে বড় ইলিশে পরিণত হবে। এতে ভবিষ্যতে দেশের ইলিশের উৎপাদন বাড়তে পারে। এ লক্ষ্যেই জাটকা সংরক্ষণে আট মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মাঠে থাকবে বিভিন্ন বাহিনী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মৎস্য অধিদপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করবে। এ জন্য সারা দেশে অভিযান পরিচালনায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সহযোগিতা করবে। নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় জাটকা আহরণ ও কেনাবেচা বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে হতে পারে কারাদণ্ড ও জরিমানা
জাটকা আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, কেনাবেচা কিংবা মজুতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধিত) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী, অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। তাই ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন সুরক্ষায় নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জাটকা ধরা এবং এর বেচাকেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

Link copied!