Kaler Alo
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

খেজুরের রস ঘিরে গ্রামজুড়ে শীতের প্রস্তুতি

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

খেজুরের রস ঘিরে গ্রামজুড়ে শীতের প্রস্তুতি

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। আগাম রস সংগ্রহের লক্ষ্যে খেজুর গাছের পরিচর্যা ও হাঁড়ি বাঁধার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাছে গাছে হাঁড়ি টানানো, গাছ প্রস্তুত করা এবং রস সংগ্রহের আয়োজন চলছে বিভিন্ন গ্রামেতাড়াশ উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার পাশে, বাড়ির উঠানে ও জমির আইলে ছড়িয়ে রয়েছে শত শত খেজুর গাছ। এসব গাছের মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে রস সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন পেশাদার গাছিরা। শীত মৌসুমে খেজুরের রস থেকে লালি, ঝোলা গুড় ও পাটালি তৈরির প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তাঁরা।

আগাম রস সংগ্রহে গাছ প্রস্তুতের ব্যস্ততা
শীত পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু করেছেন গাছিরা। গাছ পরিষ্কার ও পরিচর্যার পাশাপাশি নির্দিষ্ট নিয়মে হাঁড়ি বসানোর কাজ করছেন তাঁরা। মৌসুমের শুরুতে রস সংগ্রহের জন্য গাছগুলো প্রস্তুত করে রাখাই তাঁদের এখনকার প্রধান কাজ। স্থানীয়ভাবে খেজুর গাছের মালিকদের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিক গাছ নিয়ে রস সংগ্রহ করেন গাছিরা। পরে সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় বিভিন্ন ধরনের গুড়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব গুড় দেশের অন্যান্য জেলাতেও বিক্রি করা হয়।খেজুর গাছ কৃষকের জন্য লাভজনক
তাড়াশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হযরত আলী বলেন, খেজুর গাছ অত্যন্ত লাভজনক একটি গাছ। পতিত জমি, রাস্তার ধার কিংবা বিভিন্ন খালি জায়গায় এ গাছ জন্মাতে পারে। একটি খেজুর গাছ থেকে সুস্বাদু রস, লালি ও গুড় পাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবেও উপকরণ পাওয়া যায়। তিনি জানান, পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যা করা হলে কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন। তাই কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে খেজুর গাছের সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝুঁকি ও পরিশ্রমের মধ্যেও পেশা ধরে রেখেছেন গাছিরা
গাছি শাহজাহান আলী বলেন, খেজুরের রস সংগ্রহ করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। বিশেষ অভিজ্ঞতা ছাড়া যে কেউ এ কাজ করতে পারেন না। গাছে উঠে রস সংগ্রহের পাশাপাশি রস জ্বাল দিয়ে লালি ও গুড় তৈরি করতেও অনেক পরিশ্রম করতে হয়। তিনি বলেন, সংসারের ব্যয়ভার মেটানোর তাগিদে নানা ঝুঁকি ও কষ্ট উপেক্ষা করেই তাঁরা এ পেশা ধরে রেখেছেন। মৌসুমজুড়ে পরিশ্রম করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতে হয় তাঁদের।

চার মাসের আয়েই চলে সারা বছরের সংসার
রাজশাহী থেকে আসা গাছি আলাল উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ পেশায় যুক্ত। প্রতিবছর তাড়াশের বিভিন্ন গ্রামে এসে খেজুরের রস সংগ্রহ করেন। এবারও একটি গ্রামে দুই শতাধিক খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। গাছের মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে রস সংগ্রহ করেন তাঁরা। পরে সেই রস জ্বাল দিয়ে ঢিমাগুড়, ঝোলা গুড় ও পাটালি গুড় তৈরি করা হয়। আলাল উদ্দিন বলেন, কাকডাকা ভোর থেকে রস জ্বাল দেওয়ার কাজ শুরু করতে হয়। বছরের প্রায় চার মাস তাঁরা এ পেশায় নিয়োজিত থাকেন। এই কয়েক মাসের উপার্জন দিয়েই সারা বছরের সংসারের খরচ চালাতে হয়।

অন্যান্য জেলা থেকেও আসেন গাছিরা
তাড়াশ উপজেলার শিলংদহ গ্রামের নাজিম উদ্দীন বলেন, প্রতিবছর রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরের লালপুর এলাকা থেকে গাছিরা তাড়াশে আসেন। তাঁরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। সেই রস দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু লালি ও পাটালি গুড়। তিনি জানান, এসব গুড়ের চাহিদা শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উৎপাদিত গুড় দেশের অন্যান্য জেলাতেও বাজারজাত করা হয়। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে তাড়াশের গ্রামগুলোতে এখন খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে। গাছিদের কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে গ্রামীণ জীবনে ফিরে আসছে শীতের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড় তৈরির আয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপ

Link copied!